চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান : প্রধানমন্ত্রীর শোক 

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৩ সেপ্টে ২০২১ ০৪:০৯

চলে গেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান : প্রধানমন্ত্রীর শোক 

স্টাফ রিপোর্টার :

চলে গেলেন সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে নগরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

লুৎফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বড় হাজিপুর গ্রামে। সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারের নিজ বাসবভবনে তিনি দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করতেন।

মৃত্যুকালের তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

লুৎফুর রহমান গণ পরিষদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানেও স্বাক্ষরকারী। বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য পাওয়া এই রাজনীতিবিদ সিলেট আওয়ামীলীগের এক অভিভাবক ছিলেন।

মরহুমের জানাজার নামাজ শুক্রবার বিকেল ২:৩০ টায় সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে নগরীর মানিক পীর টিলায় তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় সর্বস্তরের জনগণকে উপস্থিত থাকার জন্য সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিলেটে অবস্থানরত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ফোনে অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমানের মৃত্যুর সংবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানালে তিনি আবেগাপ্লæত হয়ে পড়েন। এসময় তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাবেক গণপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে দুইদিন আগে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এই হাসপাতালেই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। রাত দুইটার দিকে তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত : এডভোকেট মো: লুৎফুর রহমান সিলেট জেলার সাবেক বালাগঞ্জ থানা বর্তমানে ওসমানীগর উপজেলাধীন ৩ নং পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের বড়হাজীপুর গ্রামে ১৯৪০ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

নিজ গ্রামের সরকারী প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে মৌলভীবাজার জেলার সরকারী হাইস্কুল থেকে ১৯৫৯ সালে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাশ করেন।

এরপর সিলেট এম.সি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং একই কলেজ থেকে আই.এস.সি এবং বিএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি পাশ করে সিলেট জেলা কোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন।

১৯৬২ সালে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগ পূন:গঠন করেন। ১৯৬২ সালে আইয়ূব খান বিরোধী আন্দোলনে তিনি জড়িত হন। একই সালে হামিদুর রহমানের শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৩ সালে পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সিলেট থেকে তাঁর নেতৃত্বে ১০ জন কাউন্সিলার যোগদান করেন। তখন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলে শাহ মোজ্জেম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। সামরিক সরকারের দশটি বেত্রাঘাতের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ছয় দফার পুস্তিকা বিতরণ করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালে এডভোকেট লুৎফুরকে প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেন বঙ্গবন্ধু। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বালাগঞ্জ থানা এবং ফেঞ্চুগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

এরপর মুক্তিযোদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেওয়ান ফরিদ গাজীর সাথে তিনি ৩ এবং ৪নং সেক্টরে সিভিল এফেয়ার্স সাহায্যকারী হিসাবে কাজ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্য হন এবং হাতে লেখা সংবিধানে একজন দস্তখতকারী হিসেবে সংবিধান পাশে অংশগ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সভাপতি সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১৬ সালে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে শেষ দিন পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটেরও চেয়ারম্যান ছিলেন।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •