চায়ের রাজধানী ও পর্যটন নগরী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পে করোনা প্রভাব, লোকসানে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা

প্রকাশিত:রবিবার, ০২ মে ২০২১ ০৬:০৫

চায়ের রাজধানী ও পর্যটন নগরী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পে করোনা প্রভাব, লোকসানে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা
মোহাম্মদ সোহান কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বিশ্বজুড়েই চলছে লকডাউন। প্রাণঘাতী মহামারী করোনাভাইরাস আতঙ্কে থমকে গেছে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। এই দুর্যোগে অন্যান্য শিল্পের সাথে পর্যটন শিল্প ও চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্থবির হয়ে পড়েছে। লোকসানের মুখে পড়েছে এই শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী হোটেল রিসোর্টগুলো,এর সাথে পর্যটন কেন্দ্রীক অনেক ছোট ছোট ব্যবসায়ী সহ পর্যটনের সাথে জড়িত অনেক মানুষ হারাচ্ছে তাদের জীবিকা নির্বাহের উৎস।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে এরই মধ্যে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো। হোটেল-মোটেলগুলোতে দেশি বিদেশি পর্যটকশূন্য। প্রশাসনের ঘোষিত লকডাউনে স্থানীয়রা ঘরবন্দি। গেল বছর  ৮ মার্চ থেকে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন সেক্টরসহ সবই বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এতে করে বড় ধরনের প্রভাবে পড়ছে এই শিল্পে।  গত বছর ন্যায় এ বছরের এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় রয়েছে নামিদামী পাঁচ তারকা মানের হোটেলসহ অসংখ্য ছোট বড় হোটেল-রিসোর্ট কটেজ, গেস্ট হাউজ। যেখানে সারা বছর জুড়েই আনাগোনা থাকতো অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু দেশি বিদেশি পর্যটকদের। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেশের চিরহরিৎ বন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিরাজ করছে সুনশান-নিস্তব্ধতা।
উল্লেখ্য, অন্যতম পর্যটন নগরী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে গত বছর এবং এ বছর একটানা লকডাউনের কারণে পর্যটকশূন্যে এ খাতের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। জেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, চা গবেষণা কেন্দ্র, মনিপুরী পল্লী, দৃষ্টিনন্দন চা বাগান, মনু ব্যারেজ, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতসহ সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রের একই চিত্র।
চলমান এই লকডাউনের পরিস্থিতিতে হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। টানা লকডাউনে পর্যটক না আসায় একদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব অন্যদিকে পর্যটননির্ভর জীবিকা নির্বাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন ক্ষতির সম্মুখিন।
এদিকে পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে গড়ে ওঠা জেলার রিসোর্ট ও হোটেল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লোকসান গুনছেন।
এ ব্যাপারে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট কতৃপক্ষ জানান, বিশ্বব‍্যাপী লকডাউনে পর্যটন শিল্প বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রনোদনা জরুরি। তা না হলে আমাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
ট‍্যুরিজম ব‍্যাবসায়ী শ্রীমঙ্গল ট‍্যুর গাইড কমিউনিটির  সদস্যরা জানান, আমরা দীর্ঘদিন থেকেই এই ব‍্যবসায় জড়িত রয়েছি, কিন্তু কখনো এখানকার পর্যটন শিল্পের এমন করুণ অবস্থা আমরা দেখিনি-যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য দেশি বিদেশী পর্যটক প্রতিনিয়ত শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসতেন। তাদেরকে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখানোর দায়িত্ব ছিলো স্থানীয় ট‍্যুর গাইড কমিউনিটির উপর। এতে করে গাইডদেরও কর্মসংস্থান হতো, কিন্তু গত বছর এবং এ বছর লকডাউনে ট‍্যুর গাইডরাও এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন রিসোর্টের মালিকগন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের অসংখ্য অগ্রিম বুকিং বাতিল হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ঈদ মৌসুমে যেখানে শতভাগ বুকিং থাকে সেখানে কোন পর্যটক নেই বললেই চলে,এই পরিস্থিতিতে আমরা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না। সরকারি সাহায্য না পেলে বিপুল আর্থিক লোকশানের মুখে অসংখ্য হোটেল বন্ধ হবার উপক্রম তৈরি হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন।
করোনা পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে পড়া শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাত রক্ষায় সরকারী প্রণোদনার পাশপাশি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার উপর জোর দিচ্ছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা।

এই সংবাদটি 1,237 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •