চির নিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় বীর কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী

প্রকাশিত:বুধবার, ১৮ নভে ২০২০ ০৭:১১

চির নিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় বীর কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী

মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর থেকে ॥
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা সদরের নিজ বাড়ি স্বাধীনতা ভবনের পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া) আসন থেকে ৬ বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সাবসেক্টর কমান্ডার, ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২৬নম্বর অভিযুক্ত আসামী, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের চেয়ারম্যান, জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী। মঙ্গলবার বাদ জোহর নড়িয়া বিহারী লাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে নিজ বাড়ি স্বাধীনতা ভবনের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে একদল চৌকষ সেনা সদস্য তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করেন। মরহুমের জানাজা নামাজে পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান, মরহুমে পুত্র ডাঃ খালেদ শওকত আলীসহ আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিণœ শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় মরহুমের লাশবাহী গাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা সদরস্থ তাঁর নিজ বাড়ি স্বাধীনতা ভবনে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তাঁর দীর্ঘদিনের সহধর্মিণী মাজেদা শওকত আলী, মেয়ে মেরিনা শওকত আলী ও ছেলে ডাঃ খালেদ শওকত আলীসহ নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজনরা। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরাও শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। এ সময় অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সহকর্মীরা কনের্ল (অবঃ) শওকত আলীর স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শেষ বিদায়কালে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন তার সহকর্মীরা। এখানে মরদেহের প্রতি তাঁর আত্মীয়-স্বজনসহ বিপুল সংখ্যক মহিলা মরহুমের প্রতি ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুপুর ১২ টায় সর্বস্তরের লোকজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয় নড়িয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এখানে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান, পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, নড়িয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম ইসমাইল হকসহ আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোদ্ধারাসহ বিভিণœ শ্রেণি পেশার মানুষ মরহুমের প্রতি ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে মরহুমের মরদেহ ঢাকা থেকে শরীয়তপুর স্টেডিয়ামে আনা হয়। এরপর গাড়িযোগে নিজ বাড়ি নড়িয়াতে আনা হয় তাঁর মরদেহ। জানা গেছে, সোমবার সকাল অনুমান সাড়ে ৯টায় সমি¥লিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচএ )চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি ২ ছেলে, ১ কন্যা সন্তান ও স্ত্রীসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সদ্য ঘোষিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী তার দ্বিতীয় পূত্র। মরহুমের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৫ অক্টোবর থেকে ডায়াবেটিকস, উচ্চরক্তচাপ, কিডনি, কার্ডিয়াক জটিলতা ও নিউমোনিয়া রোগে ভুগছিলেন কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী। গত ১ সপ্তাহ যাবত তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়েছিল। কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর ছেলে ডাঃ খালেদ শওকত আলী জানান, তার পিতা কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী ১৯৭৯ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মোট ৬ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নবম জাতীয় সংসদে প্রথমে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের শেষের দিকে ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৩৭ সালের ২৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং বাহের দিঘীরপাড় গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৪ জানুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে চাকরিরত অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানের মালির ক্যান্টনমেন্ট থেকে গ্রেফতার হন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। তাঁকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •