• ২১ জানুয়ারি, ২০২২ , ৭ মাঘ, ১৪২৮ , ১৭ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

জৈন্তাপুরে ইউপি নির্বাচনে কে কত ভোট পেলেন

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০২১
জৈন্তাপুরে ইউপি নির্বাচনে কে কত ভোট পেলেন

নিউজ ডেস্কঃ 

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানপদে কে কত ভোট পেলেন, হেভিওয়েট নেতাদের ইউনিয়নে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়ায় নৌকার প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন সাংগঠনিক কার্যক্রম শুধুমাত্র মন্ত্রী কেন্দ্রিক হওয়ায় নৌকার অবস্থান দিন দিন হ্রাস হচ্ছে।

উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্রপ্রার্থী জাতীয়পার্টি  নেতা ফখরুল ইসলাম (আনারস) প্রতীকে ৫৪৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আলমগীর হোসেন (ঘোড়া) প্রতীকে ৩৭৪১ ভোট পেয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক রাজা (নৌকা) প্রতীকে ২৯৯০ ভোট পেয়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বতন্ত্রপ্রার্থী আব্দুল আহাদ (টেবিলফ্যান) প্রতীকে ১৫২৭ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রবাসী হোসেন আহমদ (মটর সাইকেল) প্রতীকে ৩৪৫ ভোট পেয়েছেন।

৩ নম্বর চারিকাটা ইউনিয়নে জাসদ সমর্থিত স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. সুলতান করিম (দুটিপাতা) প্রতীকে ৪৫৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্রপ্রার্থী  মো. শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল (অটোরিকশা) ২১৯৩ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম (নৌকা) প্রতীকে ২১০৯ ভোট পেয়েছেন। চারিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হেলাল উদ্দিন (চশমা) প্রতীকে ১৫৬৬ ভোট পেয়েছেন। উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক, স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলতাফ হোসেন বেলাল (ঘোড়া) প্রতীকে ৪২৩ ভোট পেয়েছেন। বিএনপি সমর্থীত স্বতন্ত্রপ্রার্থী দোলোয়ার হোসেন আজাদ (টেলিফোন) প্রর্তীকে ২৭৯ ভোট পেয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী আফজাল হোসেন (মটরসাইকেল) প্রতীকে ৮৮ ভোট পেয়েছেন এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী বদরুল ইসলাম (আনারস) প্রতীকে ৮৩ ভোট পেয়েছেন।

৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নে সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি, বর্তমান চেয়ারম্যান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী  বাহারুল আলম বাহার (আনারস) প্রতীকে ১০১১১ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (নৌকা) প্রতীকে ৭১৩৯ ভোট পেয়েছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. মাসউদ আযহার (খেজুরগাছ) প্রতীকে ২৪৬১ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার (হাতপাখা) প্রতীকে ২৬৯ ভোট পেয়েছেন এবং বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্রপ্রার্থী  খায়রুল আমিন (ঘোড়া) প্রতীকে ২২২ ভোট পেয়েছেন।

৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফিক আহমদ (নৌকা) প্রতীকে ৭৬৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, বর্তমান চেয়ারম্যান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আব্দুর রশিদ (ঘোড়া) প্রতীকে ৪৯৬৩ ভোট পেয়েছেন এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাফাজ্জল হোসাইন (আনারস) প্রতীকে ১২৯ ভোট পেয়েছেন।

৬ নম্বর চিকনাগুল ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা) প্রতীকে ২৭৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আবু জাকারিয়া (চশমা) প্রতীকে ২৬৬৫ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (আনারস) প্রতীকে ২৩৫৯ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আব্দুল মুছাববীর (মটরসাইকেল) প্রতীকে ১২৬০ ভোট পেয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুর রশিদ (দুটিপাতা) ১০৯৫ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী ফয়জুল হাছান (ঘোড়া) প্রতীকে ১০১৮ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী ফয়সল আহমদ (হাতপাখা) প্রতীকে ৪৪৮ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী সরওয়ার রহিম চৌধুরী (অটোরিকশা) প্রতীকে ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন এবং জাতীয়পাটি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল আহমদ (লাঙ্গল) প্রতীকে ১৬৯ ভোট পেয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এম.পি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক এম.লিয়াকত আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এখলাছুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজার নিজ ইউনিয়নে নৌকার তৃতীয় অবস্থান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদের নিজ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করায় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতারা বলেন শুধুমাত্র মন্ত্রী উপজেলায় আসলে উনাকে সম্মান জানাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেখা মিলে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের দীঘদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একটি বর্ধিত সভা হয়নি। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন কমিটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। যার কারনে উপজেলা আওয়ামী লীগ দিন দিন ক্রমান্বয়ে সাংগঠনিক শক্তি হারাচ্ছে।

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •