ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত কী হবে মার্কিন নির্বাচনের?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৬ অক্টো ২০২০ ০১:১০

ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত কী হবে মার্কিন নির্বাচনের?

সম্পাদকীয়: কোভিড-১৯ ট্রাম্পকেত্ত শেষমেষ ছাড়লো না। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে করোনা কাবু করেলা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর যখন বাকি আছে মাত্র ২৯ দিন এবং দ্বিতীয় প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক যখন আগামী ১৫ অক্টোবর ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তখন ট্রাম্পের করোনায় আক্রান্তের খবর নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নানা জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। একদিকে তার জনপ্রিয়তায় ধস, অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯তম প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নানা বিতর্ক এ নির্বাচনকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ক্লিভল্যান্ডে প্রথম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এক ধরনের বিশৃঙ্খলা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাম্ভিকতা, জো বাইডেন ও উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেসকে বারবার বাধা দান (মোট ১২৯ বার), মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন- সব মিলিয়ে ট্রাম্প যে পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করেছিলেন, তা শুধু দৃষ্টিকটুই ছিল না, একজন প্রেসিডেন্টের জন্য তা বেমানানও বটে। তার রেটিং ভালো যাচ্ছে না। বিবিসি ৩০ সেপ্টেম্বর আমাদের জানাচ্ছে, জনমত ৫১ ভাগ জো বাইডেনের পক্ষে, ৪৩ ভাগ ট্রাম্পের পক্ষে। অর্থাৎ ট্রাম্প অনেক পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন। Real Clear Politics-এর মতে ১৪টি রাজ্য এ মুহূর্তে ব্যাটেল গ্রাউন্ড স্টেটস। ট্রাম্পের আমলে উগ্র শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উত্থান এবং জাতিগত বিদ্বেষ বেড়ে যাওয়া। তার আমলে কৃষ্ণাঙ্গরা যেভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে, তার রেশ ধরে জন্ম হয়েছে ব্লাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের। ট্রাম্পের উসকানিতেই জন্ম হয়েছে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী Proud Boys। আমেরিকার দীর্ঘ ইতিহাসে এ ধরনের প্রেসিডেন্ট আগে কখনই আসেননি। যেখানে গণতন্ত্র পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়, পরমত সহিষ্ণুতা শেখায়, আইনের শাসনের কথা বলে, সেখানে কোন্ গণতন্ত্র প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ? প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে তাই নানা প্রশ্ন। নানা জিজ্ঞাসা। নানা আতঙ্ক। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর কী হবে, এটা নিয়েও সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি বাড়ছে।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •