ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা ধরে রাখতে চায় রিপাবলিকানরা!

প্রকাশিত:বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১ ০৬:০৩

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা ধরে রাখতে চায় রিপাবলিকানরা!

নিউজ ডেস্কঃ  যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একটি কথা বলা হচ্ছিল যে, তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হারলে তার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সুস্থির অর্থনীতি দেওয়ার পাশাপাশি দেশকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিভক্ত করে গেছেন। তার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিস্তার হয়েছে। আর এই বিভক্তি দূর করা সহজ নয়।

 

সাধারণত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর রাজনীতি ও উত্তরসূরির কর্মকাণ্ড নিয়ে তেমন কথা বলেন না। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ধারা মানছেন না। বরং তিনি রাজনৈতিকভাবে এখন অনেক বেশি সক্রিয়। কিছুদিন আগেই তিনি জানান, মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে যাতে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ পান সেজন্য তিনি কাজ করবেন।

 

এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের এক সম্মেলনে তিনি জানান, নতুন রাজনৈতিক দল শুরু করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং রিপাবলিকান পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে চান তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের প্রার্থী হতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আমেরিকা ফার্স্ট থেকে আমেরিকা লাস্ট এ চলে গেছে।

 

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুনামির মতো অভিবাসীদের প্রবেশ ঘটছে। সীমান্তে এখন আর নিয়ন্ত্রণ নেই। সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ায় প্রতি মিনিটে দেশের পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন।

 

ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান পার্টিতে ট্রাম্পের বিশ্বস্ত ঘাঁটি এখনো মজবুত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপিএসি) পর এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ট্রাম্পের কাজের ব্যাপারে ৯৭ শতাংশ রিপাবলিকানের সমর্থন রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। আর ৯৫ শতাংশ রিপাবলিকানই মনে করেন ট্রাম্পের এজেন্ডা ও ইস্যুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে দলটি।

 

জরিপ পরিচালনাকারী জিম ম্যকলগলিনের মতে, আক্ষরিক অর্থেই রক্ষণশীল আন্দোলনের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও অবাক করার মতো বিষয় হলো—২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতায় সমর্থন করে ৫৫ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক। তারা বলছেন, ট্রাম্প প্রার্থী হলে তারা তাকে ভোট দেবেন। কিন্তু সিপিএসিতে অংশ নেওয়া ৪৫ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্পের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে বরং অন্য কোনো রিপাবলিকান নেতা প্রার্থী হবেন। কিন্তু তিনি ট্রাম্পের এজেন্ডা ও নীতি অনুসরণ করবেন।

 

তাদের মতে, ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনতার রায় ট্রাম্পের নীতি ও এজেন্ডার বিরুদ্ধে ছিল না। বরং এই রায় ছিল ব্যক্তি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ভোটাররা বেশি কর চায় এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হারেননি। বেশির ভাগ মার্কিনি ট্রাম্পের এজেন্ডাকে পছন্দ করেছেন কিন্তু ট্রাম্পকে করেননি।

 

ট্রাম্পের আমলের অর্থনৈতিক অবস্থাকে তারা পছন্দ করেন। কিন্তু ট্রাম্প গত চার বছরে যে অস্থিরতা তৈরি করেছেন, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে যা করেছেন তা ভোটাররা পছন্দ করেননি।

 

নির্বাচনের ফলের ওপর করা জরিপ নিয়ে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ব্রিফ করা হয়। তাকে জানানো হয়, ট্রাম্পের নীতিতে জনসমর্থন ছিল কিন্তু ট্রাম্পের প্রতি মানুষ বিরক্ত হয়ে উঠেছিল। আর সত্ ও বিশ্বস্ত হিসেবে বাইডেনের সুবিধা পেয়েছেন। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের আচরণ ও কথাবার্তা পক্ষে আনা যেত এমন ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আর এখন তার ব্যবহারে সেসব ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরো দৃঢ় করছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জিততে হলে রিপাবলিকানদের এসব ভোটারকে টানতে হবে। আর সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের এজেন্ডাকে ধারণ করেন এমন অন্য রিপাবলিকান প্রার্থী সেটা করতে পারেন।

 

তবে ট্রাম্প প্রার্থী হতে চাইলে তার এজেন্ডায় বিশ্বাসী অন্য কেউ সুযোগ পাবেন না। এখন প্রশ্ন হলো—ট্রাম্প কি নিজে ‘রাজা’ হতে চাইবেন নাকি অন্য কাউকে ‘রাজা’ বানাবেন। ট্রাম্প প্রার্থী হোন বা না হোন তার নীতি যা ‘ট্রাম্পিজম’ নামে পরিচিত, তা রিপাবলিকানদের সঙ্গে থাকছে।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •