ঢাকায় কাশফুলের রাজ্য

প্রকাশিত:সোমবার, ০৯ অক্টো ২০১৭ ০৫:১০

ঢাকায় কাশফুলের রাজ্য

বর্ষাকাল বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই। শরতকালও যাই যাই করছে। আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। নীল আকাশজুড়ে অলস মেঘের অবাধ বিচরণ। খণ্ড খণ্ড মেঘের নিরুদ্দেশ যাত্রা। রোদের ঝলকানির পাশেই মেঘের ছায়া। মেঘ আর রোদের কানামাছি খেলার মাঝে বৃষ্টিও অংশ নিচ্ছে। এমন দিনে আপনাকে স্বাগত জানাতে কাশফুল ‘সাদা ডালি’ সাজিয়ে বসে থাকে। দক্ষিণা বাতাসে কাশফুলগুলো ঢলে ঢলে আপনার সঙ্গে কথা বলবে। আপনাকে আহ্বান জানাবে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। শরতের কাশফুলের এ রূপ সহজেই যে কারো চিত্তে দোলা দিতে বাধ্য করবে।

 

 

 

নাগরিক ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় করে ঘুরতে আসতে পারেন কাশফুলের রাজ্য থেকে। খুব দূরে নয়; ঢাকাতেই রয়েছে কাশফুলের শুভ্র সাম্রাজ্য। রাজধানীর আফতাব নগরের ফাঁকা জমিতে শরতের সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে কাশফুল। তাই পরিবার নিয়ে যেকোন সময় ঘুরে আসতে পারেন আপনিও। তবে বিকেলে যাওয়াই ভালো।

 

 

 

আফতাব নগরে গিয়ে কথা হয় সপরিবার ঘুরতে আসা চাকরিজীবী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক কথায় অসাধারণ। ঢাকার মধ্যে যেনো এক কাশফুলের রাজ্য। এখানে আসলে যে কারো মন ভালো হতে বাধ্য।’ ঘুরতে এসে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

 

আরও পড়ুন- ঢাকার কাছেই তামান্না ওয়ার্ল্ড

আফতাব নগরের বাড়ি-ঘরহীন রাস্তা ধরে ভেতরের দিকে যত যেতে থাকবেন; ততই আপনি মুগ্ধ হবেন। রাস্তার দু’পাশে কাশফুলগুলো মাথা নুয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। বাড়ি নির্মাণের জন্য ফেলে রাখা বালুর মধ্যে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের গাছগুলোকে দেখে মনে হবে, ফুলগুলো সেজে আছে শুধু আপনাকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই। শেষ প্রান্তের দু’দিকে থরে থরে সাজানো কাশফুল দেখে মনে হবে, যেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কাশফুলের রাজ্যে। যতদূর চোখ যায়; ততটাই সাদার শুভ্রতা। অন্যপাশে বালু নদের স্বচ্ছ পানি। নদের পাড় ধরে কাশবন আর নীল স্বচ্ছ পানির মিলনমেলা।

 

এখানকার বাসিন্দা নাজমুল আলম জানান, শরতের এই সময়টাতেই কাশফুল দেখা যায়। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত কাশফুল থাকে। তবে বছরের এ (অক্টোবরের শুরু থেকে ১৫দিন) সময়টা সবচেয়ে সুন্দর থাকে।

 

কাশবনে সূর্য ডোবার ঠিক আগমুহূর্তে পশ্চিমাকাশে লালচে আভায় সাদা কাশফুলের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। সদ্য বিবাহিত শশী সুলতানা ও মাসুদ আলম এসেছেন দুই পরিবার নিয়ে। গুলশানের নিকেতন আবাসিকের বাসিন্দা মাসুদ আলম বলেন, ‘বাসা এতো কাছে অথচ এই স্বর্গভূমির কথা জানা ছিলো না। যতদিন কাশফুল থাকবে; ততদিন বিকেলে আসার চেষ্টা করবো।’

 

আরও পড়ুন- নৌপথে ভ্রমণের সঙ্গী ময়ূরী

সতর্কতা

এতো ভালো লাগা আর সৌন্দর্যের মাঝেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে ঘুরতে হবে। সন্ধ্যার পর কাশবনের বেশি গভীরে না থাকাই ভালো। কাশফুলে মাঝে মাঝে কিছু পোকা দেখতে পাওয়া যায়। তাই কাশফুলের খুব কাছ থেকে সাবধান থাকবেন, যেন পোকা শরীরে না লাগে। সাঁতার না জানলে বালু নদের পানির কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো। আর কোনো কিছু খেলে দাম জেনে খাওয়া উচিত। অনেক হকার পণ্যের গায়ে লেখা দামের বেশি নিয়ে থাকে।

 

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •