ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বেড়েছে গাড়িতে ছিনতাই

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রু ২০২১ ০৮:০২

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বেড়েছে গাড়িতে ছিনতাই

ইকবাল হোসেন জীবন,মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি::
দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন গাড়িতে যাত্রীবেশে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে চলছে। এতে আতংকের মধ্যে গাড়িতে চলাচল করতে হচ্ছে অনেক যাত্রীকে। বিশেষ করে মাইক্রো, হাইচ, নোহা গাড়িতে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। তাই অপরিচিত এসব গাড়ি এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিরসরাই, বারইয়ারহাট-সীতাকুন্ডে যারা প্রতিদিন গাড়িতে যাওয়া আসা করেন তাদের টার্গেট করেন সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল। সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবস বৃহম্পতিবার বিভিন্ন চাকুরীজীবি তাড়াহুড়ো করে ছুটি যাওয়া ও গাড়িতে যাত্রীদের বেশি চাপ থাকার সুযোগ নিয়ে কৌশলে ওইদিন ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটায়। কয়েকটা সংঘবদ্ধ চক্র ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের টার্গেট করছে বেশি।
মহাসড়কে চলাচলকারী চালকসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ইদানীং যাত্রীবেসে ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়ে যাত্রীরা সর্বস্ব হারাচ্ছেন, কখনো কখনো আহত হচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা কোনো ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন না। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ক্যাম্প না থাকা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্বল্পতার কারণে বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে কয়েকজন ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, ছিনতাই রুখতে পুলিশকে আরো দায়িত্বের সঙ্গে তৎপরতা বাড়াতে হবে।
৮ জানুয়ারি রাত ৮টা সময় বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠা ইসলামী ব্যাংক বারইয়ারহাট শাখার কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন, এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে সব ছিনিয়ে নেয় মাইক্রোতে যাত্রীবেসে থাকা ছিনতাইকারীরা। সাথে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে আব্দুল মোমিনের এটিএম কার্ড দিয়ে মিরসরাই সদরে অবস্থিত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে। এরপর উপজেলার ছরারকুল এলাকায় অজ্ঞান করে মাইক্রো থেকে তাদের ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।
গেল বছরের ২৪ নভেম্বর রাত ৯টায় মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট থেকে সুফিয়া রোড় এলাকায় যাওয়ার জন্য একটি সাদা হাইসে উঠে ছিনতাইকারী কবলে পড়েন ব্যবসায়ী মোমিনুল হক। তিনি বলেন, পূর্বে গাড়িতে যাত্রীবেসে থাকা ৬জন ছিনতাকারী ছিল তা বুঝতে পারিনি। সোনাপাহাড় এলাকায় যাওয়ার পর তাঁরা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ৩টি স্মার্ট ফোন, নগট টাকা পয়সা নিয়ে ঠাকুরদীঘি এলাকায় নামিয়ে দেয়।
গত ২৭ নভেম্বর ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছে ইষ্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) মিরসরাই উপশাখার ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন (৩৮)। রাত আনুমানিক ৯টার সময় মিরসরাই সদর থেকে হাইস গাড়ি যোগে ফেনী শহরে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটেছে। পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফাজিলপুর এলাকা থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। দীর্ঘ একমাস চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফেরেন।
১৫দিন আগে চট্টগ্রাম শহর থেকে মাইক্রো যোগে বাড়ি ফেরার পথে সাহেরখালী ইউনিয়নের দুই ভাইকে জিম্মী করে সর্বস্ব লুট করে নেয়। সম্প্রতি বড়দারোগারহাটের এক শিক্ষকের ল্যাপটপ, জমি কেনার টাকা সহ লুট করে উনাকে কুমিল্লায় নিয়ে ফেলে দেয়া হয়। গত বছরের ২২ জুলাই ছিনতাকারীর কবলে পড়ে সব খুঁয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অদম্য ২০০৫ এর সাবেক সভাপতি এনামুল হক সোহাগ।
গত বছরের ৩১ মে মিরসরাই উপজেলার ছোটকমলদহ এলাকা থেকে চট্টগ্রাম শহরগামী যাত্রী ফয়সাল ইকবালের কাছ ধেকে ছিনতাই করে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়ার পর ওই ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াত নিয়মিত যাত্রী মঈনুল হোসাইন টিপু বলেন, আমরা যারা নিয়মিত প্রতিদিন যাতায়াত করি আমরা কোন অবস্থাতেই যেন কোন অপরিচিত প্রাইভেট কার এবং মাইক্রোতে না উঠি। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় এমন কালো প্লাসের মাইক্রোগুলো যাওয়ার জন্য ডাকে। এরা কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ আপনার গতিবিধি লক্ষ্য করে, নজর রাখে। তারপর টার্গেট করে, কোনভাবে মাইক্রোতে উঠাতে পারলেই ছিনতাই করে। তাই, যতই তাড়া থাক না কেন, এসব গাড়িতে উঠবেন না।
তিনি আরো বলেন, অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, তারপরও প্রশাসন কেন স্ব উদ্যোগী হয়ে মাঠে নামছে না জানিনা। এমন ঘটনা চলতে থাকলে এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির কর্মকর্তারা আসতে ভয় পাবে। এবং এটা সামগ্রীকভাবে সবার জন্যই ক্ষতিকর। অচিরেই এসব চিনতাই-ডাকাতি বন্ধ করা উচিত। আমরা নিশ্চিতে যাতায়াত করতে চাই। স্বাভাবিকভাবেই কর্মস্থলে যেতে চাই এবং ঘরে ফিরতে চাই।
এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ইদানিং ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বারইয়ারহাট কেন্দ্রীক সন্ধ্যার পর আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, চালক, পথচারী ও যাত্রীদের সচেতনতায় লিফলেট বিতরণসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে সচেতনতার বিকল্প নেই। অপরিচিত প্রাইভেট কার বা গাড়িতে না ওঠাই উত্তম।

এই সংবাদটি 1,238 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ