দখল দৌরাত্ম্যে মরা খালে পরিনত হয়েছে শিববাড়িয়া নদী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রি ২০২১ ০২:০৪

দখল দৌরাত্ম্যে মরা খালে পরিনত হয়েছে শিববাড়িয়া নদী

আনোয়ার হোসেন আনু.কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥
এক সময়ের খরস্রোতা শিববাড়িয়া নদীর এ পাড় থেকে ওপাড়ে সাতরিয়ে যেতে ভয় পেতো মানুষ। সেই খড়স্রোতা শিবাড়িয়া নদী (খাপড়াভাঙ্গা নদী) আজ মরা খালে পরিনত হয়েছে। শিববাড়িয়া নদীর দুই ধার দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বহু স্থাপনা। নদীর একাংশ দখল করে দেয়া হয়েছে গাইড ওয়াল। নদীকে পেরিফেরি ম্যাপের আওতায় এনে একসনা লিজ দিয়েছেন স্থাণীয় ভূমি কর্তৃপক্ষ। আর একসনা লিজ নিয়ে খাল ভরাট করে তৈরী করা হয়েছে পাকা ও সেমি পাকা স্থাপনা। আবার কেউ কেউ চান্দিনা ভিটির একসনা লিজ নিয়ে তৈরী করেছেন বহুতল ভবন। স্থানীয় ভূমি অফিসের নাকের ডগায় নদী.পুকুর এবং সরকারী জমি দখল দৌরাত্ম চলে আসলেও ভূমি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র দ্বায়সারা বক্তব্য দিয়েই তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভূমি অফিসের সহযোগিতায় ফ্রিস্টাইলে এমন দখলে খাপড়াভাঙ্গা নদীটি এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে।
দূর্যোগকালীন সময়ে গভীর সমুদ্রগামী জেলেদের একমাত্র আশ্রয়স্থল শিববাড়িয়া নদী। ১৭কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীকে বেশিরভাগ মানুষ শিববাড়িয়া নদী বা চ্যানেল হিসেবে বলে চেনে। এ নদীর দুই পাড়ে রয়েছে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও সাপ্তাহিক বাজার। নদীর তীর দখল করে বরফ কল.মাছের গদি.ডক ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন পাকা ও আধাঁ পাকাঁ স্থাপনা তোলা হয়েছে।
এতোদিন নদী দখলে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করার কথা শোনা গেলেও বর্তমানে মহিপুর ভূমি অফিস সংলগ্ন নদীতে বিশাল এলাকা জুড়ে গাইড ওয়াল করা হয়েছে। প্রবাহমান নদী একসনা লিজ নিয়ে গাইড করা হচ্ছে বলে জানান দখলদাররা। এভাবেই ভূমি কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারদের সহযোগিতায় দখল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকার এই নদী পুর্ণখননের জন্য পরিকল্পনা করেছে। কয়েকদফা সমীক্ষাও চালানো হয়েছে। কিন্তু খননের আগেই দখল দৌরাত্বে মরা খালে পরিনত হয়েছে শিববাড়িয়া নদী। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে এক সময়ে হারিয়ে যাবে এ নদীটি এমনটাই মন্তব্য করেছেন নদী পরিব্রাজকদল।
কলাপাড়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা নদীর তীরসহ অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রনয়ন করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও তা দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দখল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন সময় নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান অভিযানে দন্ড দিয়ে আসলেও তাতে কোন সুফল আসছে না। অভিযান পরিচালনা করে যাবার পর তহসিলদারদের সহযোগিতায় আবার দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী সরকারী পর্যায়ে জবাবদিহিতা না থাকায় দখলসহ সরকারী ভূমি রক্ষায় এমন হযবরল অবস্থা। পরিবেশবাদীদের দাবী এসবের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীরা নদী.খাল.পুকুর ও সরকারী সম্পত্তি রক্ষা না করে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করছেন। হয়েছেন কোটি কোটি টাকা ও ভূ-সম্পত্তির মালিক। দূর্নীতি দমন কমিশন (দূদক) এসব অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরনী খতিয়ে দেখলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এসব নদী ও সরকারী সম্পত্তি দখলের বিষয়ে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন. মহিপুর বাজারে চান্দিনা ভিটি এবং খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই তীরকে পেরিফেরি ম্যাপের আওতায় এনে ১৫ বছর আগে লিজ দেয়া হয়েছে। তিনি শুধু এসব নবায়ন করেছেন। খালের মধ্যে কিভাবে লিজ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান.এটা সার্ভেয়ারদের বিষয়। তারাই এটা লিজ দিয়েছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগতবন্ধু মন্ডল জানান. তিনি দখলদারদের তালিকা প্রনয়ন সহ নদীর তীরে থাকা অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তহসিলদারকে কয়েক দফায় নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত তারা অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকায় দখল দৌরাত্ম থামাতে পারছেন না।
তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে শীঘ্রই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেয়া আছে। শীঘ্রই এসব দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।

এই সংবাদটি 1,246 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •