দুমকিতে নবাগত ইউএনও’র যোগদান

প্রকাশিত:বুধবার, ০৯ ডিসে ২০২০ ০১:১২

দুমকিতে নবাগত ইউএনও’র যোগদান

দুমকি (পটুয়াখালী) :
পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে শেখ আব্দুল্লাহ সাদিদ যোগদান করেছেন। গত দু’মাস শূন্যপদে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আল ইমরান দায়িত্ব পালন করেন।
গত রবিবার (৬ ডিসেম্বর) তিনি যোগদান করলে অফিসার্স ক্লাব, প্রেসক্লাব দুমকি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাড়াও উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সাক্ষাৎকালে নবাগত ইউএনও সাদিদ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য এর আগে তিনি বানড়ীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়।
পটিয়ায় শীতকালীন সবজি ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা
মোরশেদ আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) :
শীতের আগেই বাজারে শীতকালীন সবজি নামাতে পটিয়ার কৃষকদের মধ্যে সবজি চাষের ধুম পড়েছে। আগাম শাকসবজি বাজারে তুলতে পারলেই অধিক টাকা উপার্জন করা সম্ভব- এ চিন্তা মাথায় রেখে চারা তৈরি ও জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা। পটিয়া কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় সাত’শ পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। আলু, ডাল, বেগুন, মুলা, টমেটো, শিম, বরবটি, শসা, লাউ, কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, ক্ষীরাসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন সবজি চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কৃষকরা মাঠে নেমেছে। উপজেলার কেলিশহর, হাঈদগাঁও, কচুয়াই, পৌরসভা, ও খরনা ইউনিয়নে ব্যাপকহারে শাকসবজি চাষ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চাষিরা সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় তারা শীতের আগাম চাষে ঝুঁকে পড়েছে। আগাম সবজির মধ্যে রয়েছে মুলা, বেগুন, মরিচ, শিম, ফুলকপি, বাঁধা কপি, লালশাক, তিতা করলা, টমেটো, ঢেরশ, পালংশাক ও পুঁই শাক ইত্যাদি। কেলিশহর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা ব্যাপকহারে শীতকালীন সবজি চাষ করছে। কেলিশহর গ্রামের কৃষক মুনছুর আলম জানান, যে কোনো সবজি যদি মৌসুমের শুরুতে বাজারে তোলা যায়, তবে তার দাম বেশি পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে মুলা, লালশাক, তিতা করলা, পালংশাক, বাধাকপি, ফুলকপি, বাজারে আসতে শুরু করেছে। কৃষকরা পর্যাপ্ত দামও পাচ্ছে। এই মৌসুমে তিনি ১.৫ হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজি চাষ করেছেন সব টিক থাকলে অনেক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন বলে জানান। এই গ্রামের নুর সোলেমান তাঁর জমিতে বিভিন্ন সবজির চারা তৈরি করেছেন। বিশেষভাবে ছাউনি দিয়ে জমিতে এই চারা তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য এই নিয়মই পালন করতে হয়। এতে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা যেমন কম থাকে, তেমনি চারাও সতেজ হয়ে ওঠে। তিনি জানান, তাঁর জমিতে লাগানো চারা শীতকালে যারা আগাম বেগুন বাজারে তুলবে, তারা কিনে নিয়েছে। কিল্লাপাড়া পাহাড়ী ঢালুতে ব্যাপকহারে সবজি চাষ হয়। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণ সবজি স্থানীয় ভাবে চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ক্ষেত থেকে আগাছা পরিস্কার এবং পর্যাপ্ত পানি দিচ্ছে। কেউ কেউ ফসলের উপর বিভিন্ন পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কীটনাশক ছিটিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি জমিতেই ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকরা খুব যতœ সহকারে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তবে মাঠ থেকে পরিপূর্ণ ফল তুলতে আরো বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। কেলিশহর থেকে রতনপুর-ছত্তর পেটুয়া পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১০হাজার কৃষক পরিবার বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে থাকে। এতে ভালো ফলনও হয়। স্থানীয়ভাবে চাহিদা পুরন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি রপ্তানি করছে এখানকার কৃষকরা। তবে সমস্যা একটি জায়গায়, কৃষি বিভাগে তালিকায় কয়েকটি গ্রাম ও পাহাড়ী এলাকার কৃষকদের নাম নেই। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। যার কারণে ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে তাদের খরচও একট বেশি পড়ে। কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি সেন নান্টু জানান, শীতের সবজি চাষে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এবারও ভাল সবজি ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, গত বছর শীতকালীন সবজির যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে সবজি চাষ হয়েছিল। এবারও লক্ষ্যমাত্রা বাড়বে। তিনি আরো বলেন, সরকারি সকল কৃষি সহয়তা প্রতিটি কৃষকদের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। যে কৃষকরা কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের কে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কৃষি কর্মতাদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করে সুবিধা প্রধান করা হবে।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •