দৌলতদিয়া কর্মস্থল গামী মানুষের ঢল

প্রকাশিত:শনিবার, ০৮ আগ ২০২০ ০৩:০৮

দৌলতদিয়া কর্মস্থল গামী মানুষের ঢল

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) :
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফেরা অব্যাহত আছে কর্মমূখী মানুষের। শুক্রবারও গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ঢল নামে অসংখ্য মানুষ ও শতশত যানবাহনের। এতেকরে সকাল থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয় ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে।
সকাল থেকে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসকে পারের অপেক্ষায় আটকে থাকতে না হলেও প্রতিটি যাত্রীবাহি বাসকে আটকে থাকতে হচ্ছে দুই থেকে তিন ঘন্টা। অপরদিকে পন্যবোঝাই ট্রাক ২দিন পর্যন্ত সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি ও অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের অপর গুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে তীব্র ¯্রােত ও ফেরিঘাট বিলীন হওয়ায় যানবাহন পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ওই রুটের শতশত গাড়ী ফিরে আসছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে। ফলে ঘাট এলাকায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ ঠেকাতে পুলিশ ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও রিক্সার মতো ছোট যানবাহনকে ঘাটে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এই গাড়ীগুলো চর দৌলতদিয়া ও ফকিরপাড়ার গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ঘাটে যাত্রী পরিবহন করছে। তবে এরা কয়েকগুণ বেশী ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মহাসড়কে তীব্র যানবাহনের চাপের কারণে শতশত ব্যক্তিগত গাড়ী ওই দুটি গ্রামীন সড়ক দিয়ে ঘাটে পৌছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বন্যার কারণে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ও সরু রাস্তা কারণে তাদেরকেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
গোয়ালন্দে দায়িত্বরত পাানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার ইদ্রিস আলী জানান, পদ্মার নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় ১৪ সেমি পানি কমেছে। তবে এখনো এ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৫৬ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে নদীতে তীব্র ¯্রােত রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ফেরি চলাচলের উপর।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পদ্মার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মহাসড়কের পশ্চিম পাশ দিয়ে এক সারিতে অন্তত ২ শতাধিক বাস ও ৩ শতাধিক পন্যবাহি ট্রাক পারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। অপরদিকে ঘাটের উপর কিছুটা চাপ কমাতে ১২ কিমি জুড়ে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় মহাসড়কে আটকে রাখা হয়েছে আরো অন্তত ৩শ পন্যবাহী যানবাহন। আটকে থাকা অনেক যানবাহন গত ২-৩ দিন ধরেও ঘাটে পৌছাতে পারছে না।
এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনকে উপেক্ষা করেই কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে লঞ্চ- ফেরিতে পার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন যানবাহনে আসা যাত্রীদের ঢল নামায় কোথাও কোন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার সুযোগ নেই।
বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ব্যাবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, নৌরুটে পর্যাপ্ত ফেরি থাকলেও পদ্মায় প্রবল ¯্রােতে ফেরিগুলোগুলো ট্রিপ দিতে সময় লাগছে দ্বিগুন। এছাড়াও শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ওই রুটের যানবাহনের চাপ পড়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় রুটে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী যানবাহনগুলোকে যথা সম্ভব দ্রুত পার করতে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •