ধুনটে রিয়াদের ভরসা মায়ের কোল

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

রফিকুল আলম,ধুনট (বগুড়া):
রিয়াদ বাবুর জন্মই যেন আজন্ম পাপ। জন্ম স্বাভাবিক হলেও, তিন মাস বয়সে অজানা রোগে হয়েছে শারীরিক, মানসিক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী। যে বয়সে তার হই-হুল্লোড়ে মেতে থাকার কথা। বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারনে রিয়াদের কোনো আশাই পূরণ হয়নি।

Manual8 Ad Code

রিয়াদ বাবু বগুড়ার ধুনট উপজেলার শ্যামগাতী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মোত্তালেব হোসেন দিনমজুর। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রিয়াদ মেঝ। মা বিলকিছ খাতুন সারা দিন ছেলেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। সহায় সম্বল বলতে ২ শতক বসতভিটা। বাবার সামান্য আয় দিয়েই চলে পাঁচ জনের সংসার। এত কষ্টের মাঝেও রিয়াদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সহায়তা।

রিয়াদ বাবুকে দেখে তার কষ্টটা বোঝা যায়। রিয়াদ দাঁড়াতে পারে না, হাঁটতেও পারে না। সারা দিন ঘরের ভেতর চেয়ারে বসে থাকতে তার খুব কষ্ট হয়। মা তাকে নাওয়া-খাওয়া করান। চলাচলের একমাত্র ভরসা মায়ের কোল। তার জন্য দরকার একটু সহযোগীতা। একটু সহমর্মিতা। প্রয়োজন একটি হুইল চেয়ার। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে পরিবারটি।

Manual6 Ad Code

রিয়াদ বাবুর জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা প্রয়োজন। তাকে সহায়তায় সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রিয়াদ বাবু সহায়তা পেলে আর দশজন মানুষের মত স্বাভাবিক জীবন না পেলেও, হয়তো সংসারের অভাব কিছুটা দুর হতো। এমন প্রত্যাশায় দিন কাটছে পরিবারটির।

Manual8 Ad Code

রিয়াদ বাবুর মা বিলকিছ খাতুন জানান, অন্যরকম এক জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। দুই মাস বয়সে রিয়াদের জ্বর হয়। টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসা করাতে পারেনি। তারপরও অনেক টাকা ব্যয় করেছে। কিন্ত তাকে প্রতিবন্ধকতার থাবা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রিয়াদ বাবুর বয়স ১০ বছর। সেই আতুর ঘর থেকে ছেলের সব কাজ তাকেই করতে হয়। কিন্তু এখন তার আর শরীরে কুলায় না।

Manual8 Ad Code

রিয়াদের বাবা মোত্তালেব হোসেন জানান, অভাবের সংসারে মেয়ের জন্য বাড়তি কিছু করাটা কঠিন। তারপরও চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকার অভাবে ছেলেকে এখনো একটা হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারেননি। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য মেম্বর/চেয়ারম্যানের কাছে গেছেন। কিন্ত জনপ্রতিনিধিদের দাবীকৃত অভৈধ অর্থের যোগান দিতে না পারায় রিয়াদের ভাগ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড জোটেনি।

ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, রিয়াদের বাবা ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য দেখা করেছেন। কিন্ত রিয়াদের প্রতিবন্ধী জরিপ কার্ড নেই। তাই সব প্রক্রিয়া শেষ করে রিয়াদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code