নওগাঁয় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা

প্রকাশিত:সোমবার, ০৯ আগ ২০২১ ১০:০৮

নওগাঁয় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা
নাদিম আহমেদ অনিক, স্টাফ রিপোর্টার-
শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণী গোষ্ঠী। ধান রোপণ আর জমি প্রস্তুত করতে প্রতিদিন ভোর থেকেই কৃষকের পদচারণায় মাঠ সরগরম হয়ে ওঠে।
নওগাঁ কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এ উপজেলার কৃষকরা আমন, বোরো ধান উৎপাদনে অভিজ্ঞ। এ কারণে তারা বছরে বেশ ভাল আবাদ করে থাকেন। পাশাপাশি রবিশস্যেরও চাষাবাদ করা হয়।
নওগাঁ জেলায় আবাদী জমির উর্বরতা বেশি তাইতো শস্য ভান্ডার খ্যাত জেলা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে । এবার বর্ষা মৌসুমে নওগাঁয় প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছে। মাঠে পানি থাকায় শ্রাবণের শুরু থেকেই এখানকার কৃষকেরা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেন। শ্রাবণের শেষ অর্থাৎ আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চারা লাগানোর ব্যস্ত থাকবেন বলে জানিয়েছে কৃষক কৃষাণীরা।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানান, লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে হাইব্রিড- ৩৫৫ হেক্টর, উন্নত ফলনশীল (উফসী) জাতের ১ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২৬ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষ চলছে।
তিনি আরও জানান, হাইব্রীড জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ধানী গোল্ড এবং এ্যারাইজ ৭০০৬ জাতের ধান। স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে চিনি আতপ ও বিন্নাফুল। উফশী জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বর্ন, ব্রিধান-৫১, ব্রিধান-৫২, ব্রিধান-৩৪ এবং ব্রিধান-৪৯।
সূত্রমতে, উপজেলাভিত্তিত আমন ধান উৎপ্দানের লক্ষ্যমাত্রা হলো, নওগাঁ সদর উপজেলায় হাইব্রীড ২০ হেক্টর, উফশী ৮ হাজার ৬শ’ হেক্টর ও স্থানীয় ১ হ্জাার ১শ’ ৩৫ হেক্টর সহ মোট ৯ হাজার ৭শ’ ৫৫ হেক্টর। রানীনগর উপজেলায় হাইব্রীড ৫০ হেক্টর, উফশী ১৭ হাজার ৯শ’ ৭৫ হেক্টর ও স্থানয়ি ১০৫ হেক্টরসহ মোট ১৮ হাজার ১শ’ ৩০ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় উফশী ৩ হাজার ৯শ’ ৯৫ হেক্টর ও স্থনীয় ১ হাজার ১৫ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ১০ হেক্টর। বদলগাছি উপজেলায় উফশী ১২ হাজার ৫শ’ ৮০ হেক্টর ও স্থানীয় ১ হাজার ৪শ’ ৩৫ হেক্টরসহ মোট ১৪ হাজার ১৫ হেক্টর। মহাদেবপুর উপজেলায় হাইব্রীড ১৮০ হেক্টর, উফশী ১৭ হাজার ৪শ’ হেক্টর ও স্থানীয় ১০ হাজার ২শ’ ৭৫ হেক্টরসহ মোট ২৭ হাজার ৮শ’ ৫৫ হেক্টর। পত্নীতলা উপজেলায় হাইব্রীড ২০ হেক্টর, উফশী ২৪ হাজার ৪শ’ ৩০ হেক্টর ও স্থানীয় ৩ হাজার ৮শ’ ৫ হেক্টরসহ মোট ২৮ হাজার ২শ’ ৫৫ হেক্টর। ধামইরহাট উপজেলায় হইব্রীড ৮০ হেক্টর, উফশী জাতের ১৯ হাজার ৩শ’ ৫ হেক্টর ও স্থানীয় ৬শ’ ৯৫ হেক্টরসহ মোট ২০ হাজার ৮০ হেক্টর। সাপাহার উপজেলায় উফশী ১০ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর ও স্থানীয় ১ হাজার ৮শ ’৩০ হেক্টরসহ মোট ১১ হাজার ৯শ’ ৮০ হেক্টর। পোরশা উপজেলায় উফশী ১৫ হাজার ৪শ’ হেক্টর ও স্থানীয় ১ হাজার ২শ’ হেক্টরসহ মোট ১৬ হাজার ৬শ হেক্টর। মান্দা উপজেলায় উফশী ১৪ হাজার ৮শ ৭৫ হেক্টর ও স্থানীয় ১ হাজার ৯৫ হেক্টরসহ মোট ১৫ হাজার ৯শ’ ৭০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় হাইব্রীড ৫ হেক্টর, উফশী ২৫ হাজার ২শ’ ৯০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ১শ’ ১০ হেক্টরসহ মোট ২৯ হাজার ৪শ’ ৫ হেক্টর।
কৃষি বিভাগ জানা যায়, এই পরিমান জমি থেকে চালের আকারে সম্ভাব্য উৎপাদনের পরিমান হচ্ছে ৫ লাখ ১৯ হাজার ২৫১ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে হাউব্রীড ১ হাজার ৫শ’ ১ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন, উফশী জাতের ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাতের ৪০ হাজার ৫০ মেট্রিক টন।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •