নওগাঁ লকডাউন শিথিল করে ১৬ জুন পর্যন্ত ১৫টি নির্দেশণা জারি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১ ০৬:০৬

নওগাঁ লকডাউন শিথিল করে ১৬ জুন পর্যন্ত ১৫টি নির্দেশণা জারি

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুরে লকডাউন শিথিল করে ১৬ জুন পর্যন্ত জেলায় ১৫টি নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে জেলা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ।
এ নির্দেশনা ঘোষণায় সচেতন নওগাঁবাসিদের মধ্যে উদ্বৃগ্ন দেখা দিয়েছে। নওগাঁয় গত ২৪ ঘটায় ২৯২ নমুনার মধ্যে ৫২ জন শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসের ৯ জুন সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যেও ভিত্তিতে জেলায় ৮ জনের মৃত্যু আর ৩৫৪ শনাক্ত হয়েছেন জন। নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় গত ৩ জুন থেকে ঘোষিত লকডাউন ঢিলেঢালা চলায় করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুও হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার নমুনা সংগ্রহ করোনার শনাক্তের হার ১৭.৮০। গত মঙ্গলবার জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৭.৫৯। শনাক্তের হার মঙ্গলবারের চেয়ে ১০.২১ ভাগ বেশি। মঙ্গলবার মোট জেলায় ৪৭৪ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩৬ জন জন। সোমবার পিসিআর ল্যাবে থেকে পাওয়া ৮৪টি নমুনার মধ্যে ৩৫ জন এবং ১ হাজার ১১০টি এটিজেন এর মধ্যে ৯৪জন শনাক্ত হয়েছে। মোট ১১৯ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। নমুনা সংগ্রহে করোনা রোগীর শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৯৬।
সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ জানান, গত বছরের মার্চে করোনায় শনাক্ত হওয়ার পর থেকে নওগাঁয় মোট ৪৮ জনের মৃত্যু হলেও চলতি মাসেই ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে করোনার শনাক্তে হার কম থাকলেও গত ঈদের পর থেকে হঠাৎ করে মৃত্যু ও শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায় বুধবার পর্যন্ত আইসোলেশনে আছেন ২২ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন। তবে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ জানান, সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান, শপিংমল ও মার্কেট খোলা রাখা যাবে। তবে চায়ের ষ্টল বন্ধ থাকবে। হোটেল রেস্তোরা শুধু পার্সেলের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করতে পারবে। তবে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে বাত্যয় হলে তাৎক্ষণিক মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়াও অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত বাড়ি থেকে কেউ বের হতে পারবেন না। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও ভারত সীমান্তের সাপ্তাহিক হাটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে বিধি নিষেধে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীর সাথে সকল যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকবে। জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা এবং রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাথে সকল পরিবহণ বন্ধ থাকবে।
এ সময় পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উত্তম কুমার রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী জয়নাল আবেদিন জানান, লকডাউনের সময় খেটে খাওয়া মানুষদের খাদ্য, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও অর্থ সহায়তার দাবি জানাই। এ ছাড়াও যেখানে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে লকডাউন শিথিল করে ১৬ জুন পর্যন্ত জেলায় ১৫টি নির্দেশনা জারি করায় নওগাঁবাসীদের মধ্যে উদ্বৃগ্ন দেখা দিয়েছে।
এর আগে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২ জুন জেলা প্রশাসন নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলাকে ৭ দিনের বিশেষ সর্বাত্বক লকডাউন ঘোষনা করে। ৩ জুন রাত থেকে তা লকডাউন কার্যকর হলেও ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •