নওয়াপাড়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানী কয়লা দাম

প্রকাশিত:বুধবার, ০৭ এপ্রি ২০২১ ০২:০৪

নওয়াপাড়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানী কয়লা দাম
সোম মল্লিক অভয়নগর প্রতিনিধি :
যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া থেকে সারা দেশে কয়লা সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কয়লার দাম। যে কারণে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ইটভাটা মালিকেরা। অন্যদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলি অধিক মুনাফা ঘরে তুলছে।
এতে আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানগুলির পোয়া বারো হলেও পথে বসার উপক্রম হয়েছে ভুক্তভোগী ইটভাটা মালিকদের- এমন অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন ইটভাটা মালিকেরা।
তারা জানান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এমন খামখেয়ালীপনার কারণে অনেক ইটভাটা মালিকেরা তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে ইটভাটার ব্যবসা করে মুনাফাতো দুরের কথা আসল ঘরে তোলা দায় হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ আফ্রিকা এবং অষ্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানি করে আসছে নওয়াপাড়া বাজারের প্রায় ৮ থেকে ১০টি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান। এই কয়লা আমদানি করা হয় ডলারের হিসেবে। প্রতি টন ইন্দোনেশিয়া কয়লা ৫০ থেকে ৬০ ডলারে ক্রয় করা হয়। যার দেশীয় মূল্য আসে ৪ হাজার দুইশ’ ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার ১শ’ টাকা।
এই কয়লা দেশে এনে ড্যাম্পিং পর্যন্ত টন প্রতি পরিবহন খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫শ’ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি টন কয়লা আমদানি ও পরিবহন বাবদ খরচ দাড়ায় ৬ হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা থেকে ৭ হাজার ৬শ’ টাকা। অথচ নওয়াপাড়ায় বর্তমান প্রতিটন কয়লা বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলির লাভের পরিমাণ টন প্রতি প্রায় দ্বিগুন।
একটি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি ‘এলসি’ দেয়। যার প্রতি এলসিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্টিক টন কয়লা আমদানি হয়। সেই হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠান ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ মেট্টিক টন কয়লা আমদানি করে থাকে। এছাড়াও কিছু কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার কয়লার ভালো মান থাকায় নিম্নমানের আফ্রিকা ও অষ্ট্রেলীয়ার কয়লা মিশিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রিও করছে।
যে কারণে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কত টাকা লাভ হলে এসব স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট হবেন। এটা দেখার কি কেউ নেই? অপরদিকে- একজন ইটভাটা মালিক নিজের স্বর্বস্ব উজাড় করে এবং ধার-দেনা করে ইটভাটা পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। আর জ্বালানী খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা লাভের মুখতো দুরের কথা বছর শেষে ধার-দেনা মেটাতে হারিয়ে ফেলছে সর্বস্ব। আর এই দায়ভার পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।
সাধারণ মানুষ ৯ থেকে ১০ টাকা দরে একটি ইট ক্রয় করে নিজের আবাশস্থল নির্মাণ করতে দম ফুরিয়ে যাবার অবস্থা। আর অন্যদিকে সরকারী নির্মাণ খরচ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। যার দায়ভারও পড়ছে ওইসব সাধারণ মানুষের উপর। অথচ এনিয়ে ভাবার যেন কেউ নেই। সচেতন মহলের দাবি, ব্যবসায়ীদের এমন দ্বিগুন লাভের মানসিকতার লাগাম এখনই টেনে ধরতে না পারলে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা শুধু দরিদ্রই হতে থাকবে।
এব্যাপারে মোশারফ এন্ড ব্রাদার্সের নওয়াপাড়া সেল সেন্টারের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মিন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান আমাদের কোন কয়লার স্টক নেই। সাহারা এন্টারপ্রাইজের নওয়াপাড়া সেল সেন্টারের ইনচার্জ রেদুওয়ান হোসেন জানান, ‘বর্তমান আমাদের কাছে শুধুমাত্র অষ্ট্রেলিয়ার কয়লা আছে, যার দাম প্রতি টন ৯ হাজার ৫শ’ টাকা।
প্রতি টন আমদানি খরচ কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মালিক বলতে পারবে, এগুলি আমাদের বলে না।’ বর্তমানে উত্তরা প্রা: লি: এর ইন্দোনেশিয়া কয়লা প্রতিটন ১২ হাজার টাকা আর জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল-এর ইন্দোনেশিয়া কয়লা সাড়ে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানায় ওই প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জরা।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আমিনুর রহমান জানান, ‘এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার, এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিষয়টি তাদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনে সে মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’ এব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: ওয়ালিদ বিন হাবিব জানান, ‘কোন পণ্যের মূল্য যদি সরকার নির্ধারিত করে দেয়, তাহলে সেই পণ্যের অধিক মূল্য যদি কেউ নেয় তাহলে ভোক্তা-অধিকার সেইখানে কাজ করে।
কিন্তু কয়লার মূল্য আমার জানামতে সরকার এখনও নির্ধারণ করে দেয়নি যে কারণে এই মুহুর্তে আমরা কিছু বলতে পারছিনা, তবে আমি অবশ্যই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব এবং এব্যাপারে যে নির্দেশনা আসবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ