‘নতুন স্বাভাবিক’ বিশ্ব যেমন হতে পারে

প্রকাশিত:সোমবার, ২৪ মে ২০২১ ০২:০৫

‘নতুন স্বাভাবিক’ বিশ্ব যেমন হতে পারে
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাস ( কোভিড-১৯ ) থেকে সুরক্ষায় টিকা নেওয়াকেই উৎসাহিত করছে সবাই। কোভিড-১৯ মহামারির বাস্তবতায় ‘নতুন স্বাভাবিক’ বিশ্ব কেমন হবে তারও কিছু আভাস মিলতে শুরু করেছে। ভিসা আবেদনসহ যাত্রার আগে কোভিড-১৯ পরীক্ষা আর গন্তব্যে পৌঁছার পর নিজ খরচে হোটেল বা সরকার নির্ধারিত স্থাপনায় কোয়ারেন্টিনের বিধি-নিষেধ তো থাকছেই। এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে যাত্রী কোভিড-১৯ টিকা নিয়েছেন কি না এবং নিয়ে থাকলে কোন টিকা নিয়েছেন।

বাংলাদেশে চীনা টিকা অনুমোদন প্রক্রিয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, পড়ালেখার জন্য চীনে যেতে চায় এমন শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না। কারণ চীন কর্তৃপক্ষ বিদেশিদের চীনে প্রবেশের ক্ষেত্রে চীনা টিকা নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেছে।

জানা গেছে, গত মার্চে চীন সরকার বিভিন্ন দেশে ভিসাব্যবস্থা আবারও চালু করেছে। সেখানে ভিসা আবেদনের শর্ত দেওয়া আছে, চীনে ঢুকতে হলে চীনে তৈরি টিকা নিতে হবে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা গত সপ্তাহে কোভিডের টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া সম্পন্ন করা বিদেশিদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ওই টিকা অবশ্যই ইইউ অনুমোদিত হতে হবে। ইইউ এ পর্যন্ত মোট চারটি কোভিড-১৯ টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো হলো বায়োঅ্যানটেক অ্যান্ড ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন অ্যান্ড জনসন/জেনসেন ফার্মাসিউটিক্যালস কম্পানির। অর্থাৎ চীন ও রাশিয়ার টিকা যাঁরা নিয়েছেন তাঁরা এই বাস্তবতায় ইইউতে ঢুকতে পারছেন না।

সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দক্ষিণ এশিয়া কোভিড-১৯ সংক্রমণের ‘কেন্দ্র’ হয়ে ওঠায় বর্তমানে এই অঞ্চলের দিকে সারা বিশ্বের দৃষ্টি রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে যাত্রী প্রবেশের ওপর অনেক দেশ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আবার অনেক দেশ এখনো নিষেধাজ্ঞা না দিলেও এই দেশগুলো থেকে যাওয়া যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা কড়াকড়ি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও টিকার সাফল্য আশাব্যঞ্জক। যাঁরা এরই মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়েছেন বা টিকার নির্দিষ্ট ডোজ সম্পন্ন করেছেন, তাঁরা এরই মধ্যে বিদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ধরে নেওয়া হচ্ছে, তাঁরা কম ঝুঁকিপূর্ণ। আগামী দিনে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদের পাশাপাশি কোভিড-১৯ টিকা দেওয়ার সনদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ওই কূটনীতিক আরো জানান, একেক দেশ একেক ধরনের টিকার অনুমোদন দেওয়ায় টিকা গ্রহণকারীদের সনদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে এক দেশ অন্য দেশের টিকা বা  টিকা গ্রহণকারীর সনদকে গ্রহণ করার ঐকমত্য প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে অ্যাপসভিত্তিক যে ব্যবস্থা চালু হচ্ছে তা ভবিষ্যতে আরো জোরালো হতে পারে। এ ব্যবস্থার সুবিধা হলো কোনো ব্যক্তি টিকা নিয়েছেন কি না এবং কখন, কোথায় যাচ্ছেন তা অনুসরণ করা যায়। সৌদি আরবে এ ব্যবস্থা চালু আছে। যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে সৌদি আরব।

সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, কোভিড-১৯ টিকা নেননি এমন ব্যক্তিরা সৌদি আরব গেলে তাঁদের অবশ্যই সৌদিতে প্রবেশের পর নিজ খরচে হোটেলে সাত দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এতে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে আগ্রহী যাত্রীদের অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।

জানা গেছে, বিভিন্ন দেশে টিকার ডোজ সম্পন্নকারীদের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ তাঁর কোভিড-১৯ টিকার নির্ধারিত ডোজ সম্পন্ন করলে মহামারির আগের মতোই কাজ ও দৈনন্দিন জীবন শুরু করতে পারবেন। তাঁরা মাস্ক পরা বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ছাড়াই দৈনন্দিন জীবন যাপন করতে পারবেন। তবে তাঁদের কর্মক্ষেত্রসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •