নাট্যব্যক্তিত্ব ইনামুল হককে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১২ অক্টো ২০২১ ০২:১০

নাট্যব্যক্তিত্ব ইনামুল হককে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

সাহিত্য ডেস্কঃ  একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ড. ইনামুল হক আর নেই। গতকাল সোমবার (১১ অক্টোবর) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসাতে মারা গেছেন। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ও ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাগর বলেন, হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত নিজ বাসাতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন। ছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ডিরেক্টরস গিল্ড, বাংলা একাডেমি, নাট্যকার সংঘ, কবি, সাহিত্যিক থেকে মঞ্চ ও টিভি নাটকের শিল্পীরা।

ড. ইনামুল হকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায়। তার বাবার নাম ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন।

ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। বর্তমানে দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন গুণী এই নাট্যজন।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •