নিউইয়র্কের সিরাকোজে যাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশিত:শনিবার, ২৫ জুলা ২০২০ ০৩:০৭

নিউইয়র্কের সিরাকোজে যাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার ত্রাণ বিতরণ

নিউইয়র্ক : যাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা কভিড-১৯ এর মহামারিকালে শুরু থেকেই বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে দাঁড়িয়েছে। শিকাগো ভিত্তিক এ সংগঠনটি বহির্বিশ্বেও দারিদ্রপীড়িত, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য কাজ করলেও এবারে করোনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯ টি অঞ্চলে ব্যাপক ভিত্তিক কর্মসূচী হাতে নেয়। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের রিফিজি সিটি হিসেবে খ্যাত সিরাকোজ সিটির মসজিদ ইশা বিন মরইয়ম মসজিদের সামনে জরুরি ত্রান সামগ্রি বিতরণ করে সংগঠনটি। যাকাত ফাউন্ডেশনের এডভাইজার ফাররাক রেজা, বিশিস্ট কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ডা. সৈয়দ খান, যাকাত ফাউন্ডেশনের রিজিউনাল ম্যানেজার ইমরান আনসারী এসময় উপস্থিত ছিলেন। মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবারের মধ্যে ১৫ হাজার পাউন্ড ফ্রেস ফুড বিতরণ করে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, করোনায় বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক সিটিতে এসংগঠনের কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। জরুরি সহযোগিতার অংশ হিসেবে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, গ্লাবস, মাস্ক, আলু, ফলমূল বিতরণ ছিল অন্যতম।
নিউইয়র্ক সিটির লক ডাউনের শুরুতেই স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে সংগঠনটি। আর এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমরান আনসারী। ২৮ শে মার্চ জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টার ও ২৯ শে মার্চ ব্রুকলিন ইসলামিক সেন্টারে ২০০ পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংগঠনটির নিউইয়র্কে জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিতরণ করা হয় প্রায় ৫ হাজার মাস্ক, ২৫০০ গ্লাবস। নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি হসপিটালকে দেয়া হয় এ গ্লাবস। এছাড়া নিউইয়র্কে চল্লিশটি কমিউনিটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে ৪৪ হাজার পাউন্ড আলু বিতরণ করে সংগঠনটি। পাশাপাশি চালু রাখা হয় দরজায় দরজায় জরুরি খাদ্য সামগ্রি বিতরণ। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমরান আনসারী। তিনি আরো জানান, যাকাত ফাউন্ডেশন প্রায় ৬০ টি কমিউনিটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে সুদূর সেন্ট লুইস থেকে ৪৫ হাজার পাউন্ড ফ্রেস ফুড বিতরণ করেছে। একাজে হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার, বাংলাদেশ সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী রাত-দিন খেটে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রি পৌছিয়েছেন। এছাড়া বিদেশি ছাত্রদের অর্থসহায়তার জন্য হট লাইন খোলা হয়েছে যাকাত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে।
একাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ইমরান আনসারী বলেন, স্বচ্ছল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের শারিরীক শ্রম এত বিশাল কাজ করতে সহায়তা করেছে। যাকাত ফাউন্ডেশনের কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য কমিউনিটি নেতা আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, আফতাব মান্নান, আবদুর রহিম হাওলাদার, রুহুল আমিন, জাহিদ মিন্টুসহ অগনিত স্বেচ্ছাসেবকদের ভূয়ুসি প্রশংসা করেন তিনি। এ পর্যন্ত ১০০ জন স্বেচ্চাসেবক যাকাত ফাউন্ডেশণের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেন। নিউইয়র্কে যাকাত ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যত কর্মপন্থা জানাতে গিয়ে ইমরান আনসারী জানান, একটি স্থায়ী ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকল্পে কাজ করে যাচ্ছে যাকাত ফাউন্ডেশন। যারা কুরবানী দিতে চান এবং বিশ্বের যে দেশে কুরবানি দিতে চান, যাকাত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেই কুরবানী দেয়া যাবে বলেও জানান তিনি। প্রত্যেক দেশের জন্য আলাদা আলাদা শেয়ার রেট অনুযায়ী যাকাত ফাউন্ডেশনের ওয়েভ সাইট যাকাত ডট অর্গ গিয়ে অতিসহজেই কুরবানীর কাজটি সম্পন্ন করা যাবে বলে জানান তিনি। কভিড -১৯ এপর্যন্ত প্রায় দুই লক্ষাধিক ডলার সমমূল্যের সহযোগিতা নিউইয়র্ক সিটিতে করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে সংগঠনটি। নিউইয়র্কে যাকাত ফাউন্ডেশনের কাজে পার্টনারশীপে কাজ করা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার, বাংলাদেশ সোসাইটি, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, ড্রাম, কুইন্স মিউচুয়াল এইড, দারুল উলুম, মুনা, কুইন্স টুগেদার, মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি, মসজিদ তাকওয়া, ল্যাটিনো মুসলিম অব নিউইয়র্ক, মজলিসে শুরা নিউইয়র্ক, আল নূর কালচারাল সেন্টার, নোয়াখালি সমিতি, হৃদয়ে বাংলাদেশ।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •