নিউইয়র্কে প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও নাগরিক সংবর্ধনা

প্রকাশিত:বুধবার, ২৪ নভে ২০২১ ০৩:১১

নিউইয়র্কে প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও নাগরিক সংবর্ধনা

নিউজ ডেস্কঃ নিউইয়র্কে প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়টে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ সংবর্ধনা পর্ষদ এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করে। বর্ণাঢ্য এ সংবর্ধনায় মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, কমিউনিটি নেতবৃন্দসহ নানা শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট প্রদান ছাড়াও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান হয়। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।

শারমিন নিহার ও গোলাম মোস্তফার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ সংবর্ধনা পর্ষদের আহ্বায়ক ফখরুল আলম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মোতালেব বিশ্বাস, বেলাল বেগ, মোর্শেদ আলম প্রমুখ।
সংবর্ধনার জবাবে বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আপনাদের এ সংবর্ধনা পাওয়ার যোগ্যতা মোটেই আমার নেই। বক্তৃতায় নিজেকে এসএসসি পাশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার মত কম শিক্ষিত ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিতে এত মানুষের সমাগম আমাকে ঋণী করেছে। আপনাদের ভালবাসায় আমি ধন্য। এ আন্তরিক ভালবাসা সবসময় আমার প্রেরণা হয়ে থাকবে।

সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর কমনওয়েলথ স্কলারশীপ পাওয়া প্রথম তৃণমূল সাংবাদিক তিনি। এই স্কলারশীপ পাওয়া অবস্থায় তিনি যোগ দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। ওই বছরই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

বক্তৃতায় নিউইয়র্কের প্রবাস জীবনের অনুধাবনের কথা উল্লেখ করে করেন, দেশে বিরাজমান অন্যায়ের প্রতিবাদ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিকার আদায়ের জন্য একটি নিজস্ব মুখপত্র থাকা প্রয়োজন। সেই ভাবনা ও নিজের লেখালেখির নেশা থেকেই সাপ্তাহিক প্রবাসী নামে একটি পত্রিকা বের করেন তিনি। নিজের প্রবাস জীবনের নানা কষ্ট আর দু:সময়ে যারা সহায়তা করেছেন তাদের কথা বলতে গিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
বক্তৃতায় সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ তাঁর এ পর্যায়ের আসার পেছনে স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিবারের খরচ চালাতে স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের বেবি সিটিংয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর ব্যতিক্রমী কার্যক্রম প্রবাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন। তারা তাঁকে কিংবদন্তী সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। আবেগঘণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনাটি শেষ হয়।

বক্তৃতা শেষে কমিটি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেক কাটেন সংবর্ধিত সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ।
পরে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান, সঙ্গীত শিল্পী শাহ মাহবুব প্রমুখ। ছিল কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানও।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ সংবর্ধনা পর্ষদের আহ্বায়ক ফখরুল আলম কমিটির সকল সদস্যের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশিষ্টজনদের সানুগ্রহ উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আলোকিত ও প্রাণবন্ত করেছে। একইসাথে প্রতিভাবান শিল্পীদের চমৎকার নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল করেছে। সকলের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ। সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ্যায়ু কামনা করেন তিনি।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ