নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম বাংলাদেশী, মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় কাউন্সিল ওম্যান হতে যাচ্ছে শাহানা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১ ০৭:০৬

নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম বাংলাদেশী, মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় কাউন্সিল ওম্যান হতে যাচ্ছে শাহানা

রাসেল কবির রহমানঃ

আমাদের শাহানা হানিফ (র‌্যাংক পদ্ধতির ভোট গণনা ও নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের মতো কয়েকটি পর্ব বাকী থাকলেও, আমি নিশ্চিত এগুলো এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা)। শাহানা-কে আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা এই অর্জনে। এতো বড় ও ঐতিহাসিক ঘটনাটির প্রায় এক সপ্তাহ পর আমি এটি লিখছি। এই কয়দিন ধরে আমি শুধু দেখছিলাম/পড়ছিলাম পরিচিত/অপরিচিতদের অভিনন্দন বার্তা শাহানার প্রতি। আর ভাবছিলাম শাহানা যে কিভাবে বা কতটা ভালোভাবে এই সাফল্য পাওয়ার অধিকার রাখে সেটি হয়তো অনেকেই জানে না, পত্রিকার পাতায়ও হয়তো এই কথাগুলো ঠিক ভাবে আসবে না।

শাহানা’র সাথে আমার প্রথম পরিচয় আমার আগের কাজের সূত্র ধরে প্রায় ৯/১০ বছর আগের কথা। আমি তখন ছায়া সিডিসি-তে কাজ করি এবং ও এরকম আরেকটি নন-প্রফিট সংস্থা সিএএএভি-এ কাজ করতো কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে, ভাড়াটেদের সংগঠিত করার কাজ। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ওর কাজের ছোট ছোট আয়োজনগুলোতেও ও কতটা সিরিয়াস সবকিছু সঠিকভাবে বাংলায় অনুবাদের বাবস্থা করতে। নিউ ইয়র্কে জন্ম, স্কুল, বেড়ে উঠার পরও যথেষ্ট ভালো বাংলা বলতে পারে, গান গাইতে পারে। কিন্তু তারপরেও নিজের কমিউনিটিকে আরো ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, বাংলা আরো ভালোভাবে শিখবার জন্য প্রায় পাঁচ বছর আগে ও ঢাকা চলে গেলো ছয় মাসের জন্য। ফিরে এসে Bangla4Justice নামে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যাঙ্ক চালু করলো। যা কিনা ইমিগ্র্যান্টদের নিয়ে যারা কাজ করতো, তাদের প্রতিদিনকার সাধারণ অনুবাদের প্রয়োজনীয়তাটা মিটাতে পারতো।

ভাষাগত ন্যায্যতা প্রতিষ্টার আন্দোলন থেকে শুরু করে ইমিগ্র্যান্টদের সব ধরণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনেই কম্যুনিটির সাথে/সামনে থেকে অংশ নিয়েছে। সেই সিএএএভি থেকে শুরু করে সর্ব সাম্প্রতিক কাউন্সিল মেম্বার ব্র্যাড ল্যান্ডার-এর ডিরেক্টর অব কমিউনিটি অর্গানাইজিং এন্ড এনগেজমেন্ট- প্রতিটি পদেই সমান আন্তরিকতা নিয়ে ওকে কাজ করতে দেখেছি। যেনতেন ভাবে কাজগুলো শেষ না করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে, কম্যূনিটির মানুষ, সংগঠন, নেতা সবাইকে সাথে নিয়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছে। এই সব কিছুর মধ্য দিয়ে যে ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৈরী করতে পেরেছিলো তার একটি ফলাফল ছিল ব্রুকলিনের আন-ডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের জন্য COVID-19 সহায়তা তহবিল গঠন করা, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই $৪০,০০০ আর বেশি সংগ্রহ ও তা বিতরণ করতে পারা।

একইরকম ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রেও যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়েছিলো শাহানা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণাটি দুই বছর আগে শুরু করলেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আরো অনেক আগে থেকে। সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ট্রেনিংগুলো নিয়েছে। অন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত জোট গঠন ও সম্প্রসারণ করেছে। আর এটি শাহানা এতটাই ভালোভাবে করতে পেরেছে যে, সাদা-জ্যুইশ প্রধান একটি এলাকা থেকে সিটির প্রথম মুসলিম কাউন্সিল ওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হতে চলেছে। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আমি কখনো শাহানা-কে প্রগতিশীল চিন্তা থেকে, সঠিক আদর্শ থেকে সরে যেতে দেখিনি। নির্বাচনে জেতার জন্য বা মানুষকে খুশি করার জন্য একেক জায়গায় একেকরকম কথা বলতে শুনিনি। অন্য কোনো বাংলাদেশীর দ্বারা এই ইতিহাসটি রচিত হলে প্রতিনিধিত্বের হিসেবে হয়তো আমাদের ভালো লাগতো, অভিনন্দন জানাতাম। কিন্তু সেটি যোগ্য প্রাপ্তি হতো কিনা, একইরকম তৃপ্তি বা গৌরব বোধ করতাম কিনা সন্দেহ আছে ! আশাকরি নির্বাচিত হয়েও শাহানার তৃণমূল ভিত্তিক কমিউনিটি সংগঠিত করার কাজ চলতে থাকবে এবং সাফল্য অব্যাহত থাকবে !

 

লেখকঃ সিইও, সেতু ইনক 

এই সংবাদটি 1,241 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •