পবিপ্রবিতে চলে গেলেন ড. হারুন ॥ অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ডিন সামন্ত

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৮ জানু ২০২১ ১১:০১

পবিপ্রবিতে চলে গেলেন ড. হারুন ॥ অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ডিন সামন্ত

এম আমির হোসাইন, দুমকি (পটুয়াখালী) :
নিরবে চলে গেলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত-সমালোচিত উপচার্য প্রফেসর (অব:) ড. মো: হারুনর রশীদ। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে অনুগত সহকর্মীদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি। ৪ জানুয়ারি তার ভিসি পদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। এদিকে ভাইস-চ্যান্সেলরের শূন্যপদে পরবর্তী ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিশ^বিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের জ্যেষ্ঠতম ডিন ও রেজিস্ট্রার (অ.দা.) প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত কে ভিসি’র দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব পালনের লক্ষে ৬ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শাখার এক আদেশে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক ড. হারুন গত ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি পবিপ্রবি’র ভিসি নিযুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী শৃঙ্খলা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিৎকরণ ও দূর্ণীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাসময়ে আগমন ও প্রস্থান তদারকি করতে কোন না কোন ডিপার্টমেন্টের সামনে আকস্মিক দাড়িঁয়ে থেকে বিলম্বে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার, তিরস্কারসহ কৈফিয়ত তলব, সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন। চাকুরী জীবনে একজন অত্যন্ত সৎ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকের সুনাম অর্জন করলেও ভিসি নিযুক্তির পর তার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারেননি। এ ছাড়া ঠুনকো অভিযোগে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকুরীচ্যুত করে সংশ্লিষ্টদের বিরাগ ভাজনও হয়েছেন। গত ৬ জানুয়ারি সরকার ভিসি পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ও জেষ্ঠ্যতম ডিন অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তকে অন্তবর্তিকালীন উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি অনেকটা নিরবে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিদায় নিয়ে তার নিজ বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরে চলে যান।
অপরদিকে প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসে পটুয়াখালী কৃষি কলেজে (পবিপ্রবি’র পূর্ব নাম) প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি পবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার (অ.দা.) ছাড়াও পবিপ্রবি’র শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, পবিপ্রবি, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ ¯œাতকোত্তর এবং পবিপ্রবি থেকে ২০১৫ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৬২ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

এই সংবাদটি 1,254 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ