পরিবর্তনের প্রত্যয়ে আইওয়াইসিএম

প্রকাশিত:বুধবার, ১৭ নভে ২০২১ ০৬:১১

পরিবর্তনের প্রত্যয়ে আইওয়াইসিএম

নিউজ ডেস্কঃ

‘বদলে যাও নিজে, বদলে দাও পৃথিবীকে’ স্লোগান নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার যা সংক্ষেপে আইওয়াইসিএম বলে পরিচিত। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবর্তন আর সেই পরিবর্তন আসবে তরুণদের হাত ধরেই। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাই তাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সংগঠনটির বিস্তৃতি এখন বিশ্বব্যাপী। সত্তরটিরও বেশি দেশে তাদের প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সজীব খন্দকার বলেন, ‘তরুণরা কেবল একটি দেশের নাগরিক নয়, তারা বিশ্ব নাগরিক। তাই বিশ্বের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর এর জন্য চাই দক্ষ যুবক আর আমরা সেই দক্ষ ও দায়িত্বশীল যুবসমাজ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছি।

২০১২ সালে কতিপয় উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবী সমাজে এমন পরিবর্তন নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়। সেবছর আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে বরিশাল জেলায় তাদের কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের প্রথম প্রকল্প ছিল পথশিশুদের ঈদের পোষাক বিতরণ, যার মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত সুবিধাবঞ্চিত শিশু নতুন পোষাকে ঈদ উদযাপন করে।

সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা জনসহযোগিতা, আশ্রায়ণ, দূর্যোগে সহযোগিতা, জনসচেতনতার মতো উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেয়। ২০১৬ সালে গোটা বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলায় তাদের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কমিটির সদস্যরা তার নিজ জেলার স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার বাংলাদেশের ১৩টি জেলায় পৃথক দল গঠনের মাধ্যমে কাজ করছে। জেলা দলগুলো তাদের জেলায় দূর্যোগে সাহায্য, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষায়ন, দরিদ্রদের সহায়তা, অসহায়দের ঈদ উপহার বিতরণ ও পথশিশুদের জীবনের মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে তাদের। ২০১৮ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা দল ৬০ জন শিশুর পড়াশোনা সহ প্রাসঙ্গিক যাবতীয় খরচ বহন করছে এবং তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। করোনা মহামারিতেও থেমে নেই সংগঠনটির কাজ। করোনা প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে ২০২০ সাল থেকে করোনা মোকাবেলায় ‘তারুণ্যের পদক্ষেপ’ নামে একটি ইভেন্টের মাধ্যমে হতদরিদ্রের মাঝে নিয়মিত খাবার বিতরণ করছে। ২০২১ সালে জুলাই মাস জুড়ে তারা দেশের ১৫টি জেলায় প্রায় বিশ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছে।

আইওয়াইসিএম শিগগিরই শিশু সুরক্ষা অলিম্পিয়াড আয়োজন করতে যাচ্ছে এবং এই বিষয়ে ইতোমধ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে।

বর্তমানে সংগঠনটির কো-ফাউন্ডার ও বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বরত আছেন লাবিবা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমাজে খুব কম নারীই কাজ করার সুযোগ পান। স্বনির্ভর হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণে তা হতে পারেন না। আমি এমন একটি সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি যেখানে সকলকে তার যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। সমাজের কাজে সকলেই অংশ নিতে পারবে, লিঙ্গবৈষম্য থাকবে না আর নারীরা চিরাচরিত কুসংস্কার থেকে বেড়িয়ে এসে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করবে।

সম্প্রতি জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে আইওয়াইসিএম আয়োজন করেছে যুব সম্মেলন ২০২১। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় তারুণ্যই শক্তি ও হাতিয়ার। তার জন্য তরুণদের হতে হবে দক্ষ আর থাকতে হবে বদলে দেয়ার মানসিকতা। আর সেই পরিবর্তনের প্রত্যয় বুকে নিয়েই সংগঠনটির নিরন্তর পথচলা।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •