পরিবহন চলাচলে মানতে হবে ৫ শর্ত : সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানের নির্দেশ

প্রকাশিত:বুধবার, ১৪ জুলা ২০২১ ১১:০৭

পরিবহন চলাচলে মানতে হবে ৫ শর্ত : সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানের নির্দেশ

নিউজ ডেস্কঃ

ঈদুল আজহা সামনে রেখে আটদিন শিথিল বিধিনিষেধের মধ্যে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে। এতে বলা হয়, আজ বুধবার মধ্যরাত হতে ২৩ জুলাই  সকাল ৬ টা পর্যন্ত পূর্বের আরোপিত বিধি-নিষেধ শিথিল করা থাকলেও করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণ বিস্তার রোধকল্পে এ সময়ে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

উল্লেখ্য, এ সময়ে পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রে গমন ও জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন, বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে।

 

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ জুলাই থেকে আট দিন শর্ত সাপেক্ষে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। পরিবহন চলাচলের অনুমতি দিলেও করোনা সংক্রমণ কমাতে বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

 

বুধবার (১৪ জুলাই) বিআরটিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত পাঁচটি শর্তে সব ধরনের যানবাহন চলতে পারবে।

 

১. বাস/ মিনিবাসে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলতে হবে। পাশাপাশি আসনে বসা যাবে না। গণপরিবহণে আসন বিন্যাস করতে হবে আড়াআড়িভাবে। অর্থাৎ, কোনো আসনে জানালার পাশে যাত্রী বসলে পেছনের আসনের যাত্রীকে করিডরের পাশের আসনে বসতে হবে।

২. অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলার কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তা পুষিয়ে নিতে বিদ্যমান ভাড়ার অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া দিতে হবে যাত্রীদের।

৩. গণপরিবহণের যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার/কন্ডাক্টর, চালকের সহকারী ও টিকিট বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিতদের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৪. যাত্রার শুরু ও শেষে বাস-মিনিবাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। জীবাণুনাশক ছিটিয়ে এসব যান জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের হাতব্যাগ ও মালপত্র জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৫. গণপরিবহণে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে হবে। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

 

এর বাইরে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া অন্যান্য শর্তও সবাইকে পালন করতে বলা হয়েছে বিআরটিএ’র বিজ্ঞপ্তিতে। এ ছাড়া এই পাঁচ শর্ত মেনে রাইডশেয়ারিং সেবার যানবাহনও চলতে পারবে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

 

এছাড়া ঈদযাত্রায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে লঞ্চ মালিক ও যাত্রীদের জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সদরঘাটে মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রীকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে নৌ-পুলিশ ও লঞ্চ মালিকদের যথাযথ নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

 

বুধবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা সদরঘাট নৌবন্দর পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সদরঘাট আগে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্ত এখন সদরঘাট বাইরে-ভেতরে ফিটফাট। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ১১ বছর ধরে আমরা সদরঘাটের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এতে আমাদের পাশে ছিল বিআইডব্লিউটিএ এবং লঞ্চমালিক ও যাত্রীরা। প্রতিনিয়ত সদরঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে, একমাস পরে এসে সদরঘাটের সৌন্দর্য্য আরো দেখতে পারবেন।’

এসময় অন্যদের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেকসহ ঢাকা নৌবন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •