পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূলের বিশাল হ্যাটট্রিক বিজয়

প্রকাশিত:রবিবার, ০২ মে ২০২১ ১০:০৫

পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূলের বিশাল হ্যাটট্রিক বিজয়

নিউজ ডেস্কঃ

সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি ফের ব্যর্থ হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। ‘সাম্প্রদায়িকতার ঝাণ্ডা’ উড়িয়ে আপ্রাণ চেষ্টার পরও রাজ্যটির বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে হেরে গেল দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বাংলায় গেরুয়া ঝড় তুলতে মমতাকে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল হুইল চেয়ারে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। দৃশ্যত হুইল চেয়ারে বসে একাই বর্গীদের (মোদি-অমিত বাহিনী) রুখে দিয়ে পশ্চিম বাংলার মসনদ অক্ষত রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়াফুল ছাপিয়ে গেল পদ্মফুলকে। ২৯২টি আসনের নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে ফের নবান্নে বসতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রস। বিজেপির প্রাপ্ত আসন হচ্ছে ৭৭টি। অন্যান্য দল পাচ্ছে মাত্র ২টি। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, কংগ্রেস নেতা অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫৩ ভোটে হেরে গেলেও তার ম্যাজিকে গেরুয়া ঝড় রুখে দিয়ে তৃতীয় তথা হ্যাটট্রিক জয় এনে দিয়েছেন নিজ দলকে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তার দল ২১১টি আসন পেয়েছিল। ৭৭টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাম-কংগ্রেস জোট এবং ৩টি আসন পেয়েছিল বিজেপি।
এদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের আন্না ডিএমকে-কে পরাজিত করে তামিলনাড়–র ক্ষমতায় বসতে চলেছেন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের ডিএমকে বা দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাঘাম। ২৩৪ আসনের বিধান সভায় ডিএমকে পেতে চলেছে ১৫৬টি আসন। অন্যদিকে আন্না ডিএমকে পেতে যাচ্ছে ৭৮টি আসন।

আসাম বিধান সভার নির্বাচনে পূর্বাভাস মতো বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখছে। ১২৬ আসনের বিধান সভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ৭৫টি আসন পেতে যাচ্ছে, অন্যদিকে ৫০টি পাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট।

কেরালায় লাল পতাকা তথা বাম ফ্রন্ট ৯৯ আসন পেতে যাচ্ছে ১৪০ আসনের বিধান সভায়। অন্যদিকে ইউডিএফ পেতে যাচ্ছে ৪১ আসন। এ রাজ্যে বিজেপি কোন আসন পাচ্ছে না।
এদিন আরো ঘোষিত হল পুদুচেরি বিধান সভা আসনের ফলাফল। এ রাজ্যে ৩০ আসনের পার্লামেন্টে ২৫ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকার গঠনের জন্য ১৬ আসনের প্রয়োজন হলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১৪টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ৬টি আসন পেয়ে রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। অন্যরা পেয়েছে ৫টি আসন।

 

 

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতেছিলেন এমন হেভিওয়েট প্রার্থী এ দফা হেরে গেছেন। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম নিয়ে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ১৭ রাউন্ড ভোটগণনার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি সেখানে জয়ী হয়েছেন বলে খবর আসছিল, কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতে মমতার জয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বলা হয়, সার্ভারে সমস্যার জেরে সঠিক ভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না। তার পরেই ১৬২২ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের খবর আসে। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আনন্দবাজার ডিজিটালকে ফোনে তিনি বলেন, ‘১৬২২ ভোটে জিতেছি আমি।’ যদিও পোস্টাল ব্যালট ছাড়া মমতার সাথে শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান ৯৭৮৭ ভোটের। তার পর সংবাদ সম্মেলনে নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম যা রায় দেবে, মাথা পেতে নেব।’

তবে নিজে হারলেও দলের জয়ের জন্য বাংলার মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বাংলার জয়ের জন্য সকলকে অভিনন্দন। বাংলার জয়, মানুষের জয়। বাংলা আজ ভারতকে বাঁচিয়েছে।’

নন্দীগ্রামের মানুষ যা করেছেন, ভালো করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসাথে ফলাফল নিয়ে এই বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, ‘আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে, রায় ঘোষণার পর কারচুপি হয়েছে।’

এর আগে যদিও সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছিল, ১২০২ ভোটে নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন মমতা। সার্ভারের ত্রুটির জেরে দুপুরে এমনিতেই ৪০ মিনিট ভোটগণনা বন্ধ ছিল সেখানে। তার পর মমতার জয়ের খবর সামনে আসার পরও কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। তারপরেই জানা যায়, শুভেন্দু জয়ী হয়েছেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, মমতা হেরে গেলে তিনি কি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন? ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ১৬৩ ও ১৬৪ অনুযায়ী, কাউকে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হতে চাইলে বিধানসভার সদস্য হতে হবে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, রাজ্যের বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ আইন প্রণেতারাই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবেন। আরও বলা হয়েছে, টানা ছয় মাস মন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রী থাকতে গেলে তাকে রাজ্যের কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় ১৮০ দিন পর তার পদ বাতিল হয়ে যাবে।

সংবিধানের এসব ধারা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা ধরে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান তাহলে তিনি অন্য কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে ৬ মাস সময় পাবেন। সেক্ষেত্রে দলের কোনো এক সদস্যকে পদত্যাগ করে তার আসনটি শূন্য করে দিতে হবে। আর সেখান থেকেই নির্বাচন করে রাজ্যের আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হবেন তিনি।

 

এদিকে, একুশের বাংলায় হ্যাটট্রিক করার পর কেন্দ্র সরকারকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকল দেশবাসীকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি কেন্দ্র সরকারের কাছে, তা না দিলে গান্ধী মূর্তির সামনে অহিংস আন্দোলন করব’, জয়ের পর এ ভাষাতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মমতা আরো বলেন, ‘এতটা পাব ভাবতেও পারিনি। খুব খুশি আমি। যারা আমায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ। বিজেপি-কে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘ বিজেপি-র ধস নেমেছে, এই ধস যেন বজায় থাকে। বিজেপি গো-হারা হেরে গিয়েছে।’

দলের জয়ের পর এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ‘আমার একটা টার্গেট করা ছিল ২২১। আমি বলেছিলাম ডাবল সেঞ্চুরি করব। বাংলার জয় হয়েছে। বাংলার মা-বোনেদের জয় হয়েছে। স¤প্রীতি, সংহতির জয় হয়েছে। সারা ভারতবর্ষকে বাঁচিয়েছে’। তৃণমূলনেত্রী আরো বলেছেন, ‘সত্যিই খেলা হয়েছে, আমরা জিতেছি। কোভিড কমে গেলে ব্রিগেডে বড় করে বিজয় মিছিল হবে। মমতা বলেছেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতে এখনই লকডাউন নিয়ে কথা বলব না’।

গতকাল ফলাফল ঘোষণায় দেখা যায়, তৃণমূল প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিজেপি পেয়েছে ৩৬ শতাংশ। কংগ্রেস আড়াই ও সিপিএম সাড়ে চার শতাংশ ভোট পেয়েছে। অবশ্য দেশটির অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এবারের ভোটে না আসায় এবং বামফ্রন্টের ভরাডুবি হওয়ায় ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলেই আসন বেড়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাবে এবারের বিধানসভায় আসন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিজেপির। এবার দলটির আসন বেড়েছে ৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে যেখানে মাত্র ৩টি আসন ছিল ধর্মভিত্তিক দলটির সেখানে এবার জিতেছে ৭৫টিতে। তৃণমূলের বেড়েছে ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বামফ্রন্টের আসন কমেছে ৭২ শতাংশ। এই ফলাফলের কারণে অবশ্য বিজেপির রাজ্য প্রধান দিলীপ ঘোষের দাবিÑ হারলেও রাজ্যে তাদের উন্নতি হয়েছে বিস্তর।

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা মাত্র ৩ আসনে জিতেছিলাম ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। সেই জায়গায় ৫ বছরে আমরা যেখানে পৌঁছেছি সেটা কম নয়। তবে এটা ঠিক, যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছিলাম তার তুলনায় আমাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা কম।’

অবশ্য এই দিলীপ ঘোষই মোদি কিংবা অমিত শাহের মতোই বলেছিলেন, ২০০ এর কাছাকাছি আসন পাবে বিজেপি। কিন্তু ফলাফলে তিন অঙ্কেও পৌঁছাতে পারেনি দল। কিন্তু কেন এমন ফল হলো? দিলীপের বক্তব্য, ‘ক্ষমতায় আসার জন্য আরও পরিশ্রম করতে হবে আমাদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫ বছর পরিশ্রমের পরে ক্ষমতায় এসেছেন। আমাদের অনেক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

এই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রায় গোটাটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেটাও কি ফল খারাপ হওয়ার কারণ? দিলীপের ভাষ্য, এখনই ওই ভাবে কিছু বলা ঠিক হবে না। এই ফলের কারণ, দলের মধ্যে বিশ্লেষণ করে খুঁজে বার করতে হবে।’

তবে দলটির রাজ্য নেতাদের একাংশের মতো দিলীপের উল্টো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের নাম না নিলেও রাজ্যের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, যারা সেনাপতি হয়েছিলেন, জিতলে তারা কৃতিত্ব নিতেন। তাদের এখন হারের দায়ও নিতে হবে।

তার ভাষ্য, ‘প্রার্থী ঠিক করার ক্ষেত্রেও রাজ্য নেতাদের কথা অনেক সময়ই শোনা হয়নি। তাতে নিচুস্তরের কর্মীদের মনোবল ভাঙা হয়েছিল। সমর্থকদের মনোবলও যে ভেঙে গিয়েছিল তাও এখন স্পষ্ট।’

বিজেপির স্বপ্নভঙ্গের কারণ সম্পর্কে রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গী বলেন, ‘হয়তো বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেন।’

এবারের নির্বাচনে আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা কেবল হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিকে ভোট দেয়নি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতো হিন্দু বাঙালিরা এবার বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিলে দলটি অনেকটাই এগিয়ে থাকত। কিন্তু সেই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি এবার ব্যর্থ করে দিয়েছে বাঙালি হিন্দুরা। যদিও রাজনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, কিছু হিন্দু ভোট বিজেপি পেয়েছে। মেরুকরণের সেই রাজনীতি একেবারে বৃথা যায়নি। তবে হিন্দুদের একটা বড় অংশ যে এবার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে সেটাও তারা স্বীকার করছেন।

 

 

এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। টুইটে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ে মমতা দিদিকে অভিনন্দন জানাই। জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে ও কভিড-১৯ মহামারী কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের অন্যতম ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তৃণমূল নেত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজনাথ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই জয়ের জন্য অভিনন্দন। তার পরবর্তী মেয়াদে তার প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মমতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই জয়ের জন্য অভিনন্দন। কী অসাধারণ লড়াই! পশ্চিমবঙ্গের মানুষকেও আমার শুভেচ্ছা।’

মমতাকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের আলোচিত রাজনীতিবিদ লালুপ্রসাদ যাদব।

সমাজবাদী দলের প্রধান অখিলেশ যাদবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি টুইটে বলেন, একজন নারীকে বিজেপি যেভাবে ‘দিদি, ও দিদি’ বলে কটাক্ষ করছিল, তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার জনগণ। হ্যাশট্যাগে তিনি লিখেছেন ‘দিদি, জিও দিদি’।

প্রসঙ্গত, উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ১৮টি আসনে পদ্মফুল ফুটিয়ে অভ‚তপূর্ব উত্থান ঘটেছিল বিজেপি’র। সেই সাফল্যের ধারা বজায় রেখে একুশের মহাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গেরুয়া শিবির। এদিকে, সর্বশক্তি দিয়ে বিজেপি-কে রুখতে উঠেপড়ে লেগেছিল জোড়াফুল শিবির। একুশের লড়াইয়ে বাংলাকে পাখির চোখ করেন মোদি-শাহরা। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপি-কে রুখে ফের বাংলার কুর্সি দখল করতে পারায় জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিবিরোধী জোটের প্রধান মুখ হয়ে উঠবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনে দলের জয়লাভে অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে জয়ের জন্য মমতা দিদি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ও করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেন্দ্র রাজ্য সরকারকে সবরকম সাহায্য করা জারি রাখবে। এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে ট্যুইট করেন নরেন্দ্র মোদি।

তিনি আরো একটি ট্যুইট করে লেখেন, ‘কার্যত নগণ্য উপস্থিতির একটি দলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিতি জানান দিতে সাহায্য করার জন্য বাংলার সমস্ত ভাই-বোনদের ধন্যবাদ জানাতে চাইব। বিজেপি মানুষের হয়ে কাজ করা জারি রাখবে। দলের সমস্ত কার্যকর্তা যেভাবে লড়াই করেছেন, তাদের সকলকে অভিনন্দন জানাতে চাইব’।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, যা ট্রেন্ড তাতে মানুষ মমতাজিকেফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। সন্ধ্যে পর্যন্ত দেখব। ফল যা আশা করেছিলাম তা হবে বলে মনে হচ্ছে না। তার পরেও বলব আমরা অনেকটা উন্নতি করেছি। গত বিধানসভা আমাদের ৩টি আসন ছিল। সেই ৩ থেকে আমরা কতটা আসন বাড়াতে পারব তা সন্ধ্যে পর্যন্ত বোঝা যাবে।

নিজের আসনে হেরে গেছেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তবে তিনিও তৃণমূলের এই ফলকে একপ্রকার মেনেই নিলেন। বাবুল সুপ্রিয় বলেন, মানুষ এটাই চাইছে।
মোদি-শাহদের পরাস্ত করে মমতার এ হেন জয় নিয়ে উচ্ছ¡সিত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে তথা কংগ্রেস নেতা অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। টুইটারে মমতার দরাজ প্রশংসা করে প্রণব-পুত্র লিখেছেন, ‘দিদি, একা হাতেই বাংলায় গেরুয়াবাহিনীকে রুখেছেন। স্যালুট জানাচ্ছি’।

এতেই শেষ নয়, প্রণব-পুত্র আরো লিখেছেন, মেরুকরণের চেষ্টা, কোটি কোটি টাকা ছড়িয়েও, পর্যটকদল, ভুয়ো খবর, ঘৃণ্য প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি বিজেপি-কে সাহায্য করল না। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বাংলায় পদ্মফুল ফোটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল গেরুয়া বাহিনী। কিন্তু, শেষমেশ মমংতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশ্মায় ধরাশায়ী হয়েছে তারা। অন্যদিকে, একুশের নির্বাচনে খাতা খুলতেই পারেনি কংগ্রেস। নিজের দলের ধাক্কার থেকে তৃণমূলের কাছে বিজেপির পরাজয় নিয়ে যেভাবে সোচ্চার হলেন প্রণব-পুত্র, তা রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •