পাটকল শ্রমিকদের এককালীন বেনিফিট নিয়ে অবসর উত্তম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০২ জুলা ২০২০ ১০:০৭

পাটকল শ্রমিকদের এককালীন বেনিফিট নিয়ে অবসর উত্তম

১৯৭২ সালে বিজেএমসির হাতে জুটমিল ছিল ৭৮টি। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বাঙালি মালিকানাধীন মিলগুলো বাঙালি মালিকদের মালিকানায় ফিরিয়ে দেন। অবাঙালি মালিকদের মিলগুলো শুধু বিজিএমসির অধীনে ছিল। তার মধ্যে বৃহত্তম জুটমিল ছিল আদমজী জুটমিল। খালেদা জিয়া যখন দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন, তখন শ্রমিকদের দায়দেনা পরিশোধ করে আদমজী বন্ধ করে দেন।

আদমজী এশিয়ার বৃহত্তম জুটমিল। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিশাল জায়গা নিয়ে আদমজী জুটমিল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জায়গায় আদমজী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মিলগুলো পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত ছিল। উপার্জন নিয়ে পাকিস্তানের সময় বিবাদের সূত্রপাত। বিবাদের পরিণতিতেই পাকিস্তানের অবসান। আজ সেই জুটমিলগুলোর পরিসমাপ্তির কথা বলছে সরকার।
প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন প্রথমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন ফোর্ড গাড়ি কোম্পানি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য কোর্টের অনুমতি প্রার্থনা করেছিল। বিরাট এমপ্লয়মেন্ট-এর কথা চিন্তা করে ওবামা রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদান করে ফোর্ড গাড়ি কোম্পানিকে জীবিত রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তাতেও ফোর্ডকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ দেখা যাচ্ছে বিএমআরইতে কাজ হবে না। তার শতাব্দী প্রাচীন সব মেশিনের পরিবর্তন না করলে ফোর্ড তার গতি ফিরে পাবে না। লাভজনক পর্যায়ে আসতে পারবে না। বাংলাদেশ আমেরিকার মতো ধনী রাষ্ট্র নয় যে, জনসাধারণের ট্যাক্সের হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পাটকলগুলো চালু রাখার বিলাসিতায় মগ্ন হবে। সুতরাং বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই উত্তম হবে। তবে শ্রমিকদের বেনিফিট এককালীন পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে, নয়তো এই সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য নয়।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •