পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার রোধ করতে হবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৪ নভে ২০২০ ০৩:১১

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার রোধ করতে হবে

সম্পাদকীয়: পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু এক বড় সামাজিক সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বন্যার প্রকোপ দেখা দিলে এই মৃত্যুহার কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বছরে প্রায় ১৯ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫৩ জন শিশু-কিশোর পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে। চলমান বন্যায় এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। ইতোমধ্যে চলমান বন্যায় দেশের ৩৩ জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর একটি বড় কারণ সাঁতার না জানা। নদীমাতৃক দেশ হলেও আমাদের অধিকাংশ শিশুই সাঁতার জানে না। একদিকে পারিবারিকভাবে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানো হয় না, অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়েও এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ বাংলাদেশ কর্তৃক বন্যাপ্রবণ এলাকায় শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানোর একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশ কয়েক বছর ধরে এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। দেশে যেহেতু বন্যা ফি বাৎসরিক দুর্যোগ হয়ে দেখা দেয়, সেহেতু শিশু-কিশোররা যাতে পানিতে ডুবে মারা না যায়, সে ব্যাপারে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত, গ্রামীণ জনপদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে খুব একটা মনোযোগী নন। শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখানো যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তা তারা বোঝেন না। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া নিশ্চয়ই প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা। শিশুরা যাতে পানির কাছাকাছি যেতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে বিশেষত অভিভাবক মহলের সতর্ক দৃষ্টি প্রয়োজন।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •