প্রথম চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়া মাইকেল কলিন্স আর নেই

প্রকাশিত:বুধবার, ২৮ এপ্রি ২০২১ ০৭:০৪

প্রথম চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়া মাইকেল কলিন্স আর নেই

নিউজ ডেস্কঃ

একজন কিংবদন্তী হারালো বিশ্ব। প্রথম চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়া মাইকেল কলিন্স আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে বুধবার (২৮ এপ্রিল) ৯০ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ১৯৬৯ সালে প্রথম চন্দ্র অবতরণ মিশন অ্যাপোলো ১১-তে তিন সদস্যের ক্রুর একজন ছিলেন মাইকেল কলিন্স।

মাইকেল কলিন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, জীবনের শেষ দিনগুলি বেশ শান্তিপূর্ণভাবেই কাটিয়েছিলেন তিনি। মাইক সর্বদা নম্রতার সাথে জীবনের প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

এই দক্ষ পাইলট এবং মহাকাশচারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে নাসা। নাসার প্রধান মুখপাত্র ড. স্টিভ জুরসিযেক বলেন, একজন সত্যিকারের কিংবদন্তী হারালো বিশ্ব।

 

 

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে প্রথম মানুষ পদার্পণ করে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই। সেদিনে চাঁদের বুকে নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং ও তার অপর সঙ্গী বাজ অল্ড্রিন। সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় ছিলেন মাইকেল কলিন্স। যদিও তিনি চাঁদের মাটিতে হাঁটেননি। এ কারণে তাকে ‘বিস্মৃত নভোচারী’ বলা হয়। এই তিন নভোচারী আট দিন মহাকাশে কাটিয়ে ২৪ জুলাই পৃথিবীতে ফিরে আসেন। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট মারা যান নিল আর্মস্ট্রং। গতকাল চলে গেলেন তাদের সঙ্গী মাইকেল কলিন্স। তাদের হারিয়ে এখনো পৃথিবীতে আছেন বাজ অল্ড্রিন (৯১)।

প্রথম চন্দ্র অভিযানে অংশ নেওয়া মাইকেল কলিন্স আর নেইমার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স এই তিনজনকে হোয়াইট হাউসে সম্মান জানিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি তিনজনকেই ‘প্রকৃত আমেরিকান নায়ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

মাইকেল কলিন্স ইতালির রোমে ১৯৩০ সালের ৩১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে মেজর জেনারেল ছিলেন। কলিন্স যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন। এরপর বিমানবাহিনীতে যোগ দেন।

কলিন্স ১৯৫২ সালের আগস্ট মাসে কলম্বাস, মিসিসিপি – তে কলম্বাস এয়ার ফোর্স বেস-এ টি-৬ টেক্সান-এ বেসিক ফ্লাইট প্রশিক্ষণ শুরু করেন, তারপর টেক্সাসে সান মারকোস এয়ার ফোর্স বেসে যান জেমস কনলাল এয়ার ফোর্স জেট বিমান প্রশিক্ষণের জন্য।

১৯৬৩ সালে নাসা তাকে পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৬৩ সালে মহাকাশ অভিযানে যান। তবে কলিন্স বলেছিলেন, নাসা মশকরা করেছে আমাকে চাঁদে পাঠিয়ে। কারণ, আমি মনে করি মঙ্গল আরো চমকপ্রদ জায়গা। মঙ্গল বিষয়ে আমি ছোটবেলায় অনেক কিছু পড়েছিলাম।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •