প্রাণঘাতী ব্লু হোয়েল গেম থেকে সাবধান

প্রকাশিত:সোমবার, ০৯ অক্টো ২০১৭ ০৩:১০

প্রাণঘাতী ব্লু হোয়েল গেম থেকে সাবধান

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও কম নয়। মানুষের অসচেতনতা বা আসক্তির ফলে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কেননা তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে মানুষ যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ছে। বর্তমান প্রজন্ম স্মার্টফোন আর ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে কখনো কখনো প্রাণঘাতি সিদ্ধান্ত নিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না।

 

বর্তমান বিশ্বের আতঙ্ক এখন একটি অনলাইন গেম নিয়ে। যার নাম ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’। এই খেলার জন্ম হয় রাশিয়ায়। গেমটির প্রস্তুতকারক ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত মনোবিজ্ঞানের ছাত্র। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম গেমটির সূত্রপাত হয়। ২০১৫ সালে এই গেমের কারণে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়।

 

 

 

বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে পড়ছে গেমটি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে ব্লু হোয়েল গেম। গত ৫ অক্টোবর সকালে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয় তার পড়ার কক্ষ থেকে। কিশোরীর নাম অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা। ধারণা করা হয়, মেধাবী এই ছাত্রীও ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত ছিলো।

 

আরও পড়ুন- আত্মহত্যায় শেষ হচ্ছে যে অনলাইন গেম

বর্তমানে সাধারণ ভিডিও গেমের পরিবর্তে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে অনলাইন গেম। সারা বিশ্বের যেকোন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে এখানে প্রতিযোগিতা করা যায়। ফলে বর্তমান প্রজন্ম নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এক সময় তাদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে হতাশা। আর তারপরই এই অনলাইন গেমের মাধ্যমে ঘটছে মর্মান্তিক ঘটনা।

 

অবাক করার মত বিষয় হলেও সত্য যে, ব্লু হোয়েল গেম খেলতে খেলতে এক সময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপে না তাদের। কারণ ওই খেলায় একের পর এক ভয়ংকর সব কাজ করতে বলা হয়, যার শেষ পর্যায়ে আত্মহত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে।

 

 

 

ব্লু হোয়েল গেম আসলে কী? এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে মোট ৫০টি ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো খেলার জন্য ওই কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিয়ে থাকে। প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেওয়া হয়। যেমন- মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা, খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা, ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা ইত্যাদি। ধাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাৎ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে অাত্মহত্যা করতে হবে।

 

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •