প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলা ২০২০ ০৭:০৭

ফারজানা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চট্রগ্রামঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য নিয়োগবিধি ২০১৯ করে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।অধিকার কেড়ে নেওয়াটা অপমানের। তাই না?অধিকার কেড়ে নেওয়ার কষ্ট আমার আপনার মত কে বুঝবে বলুন তো??
কষ্টের মাত্রা অনেক বেশি হয় যখন এর সাথে অপমান যুক্ত হয়।আর তার সাথে বৈষম্য যোগ হলে আর নিজের অস্তিত্ব সংকটে থাকি।তাই না??
এ রাষ্ট্র আমার,আপনার সকলের।অধিকার ভোগ করার সাথে দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে আমাদের।দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হতে ইচ্ছে করে যখন সমান অধিকার যুক্ত হয়।তা কাজের তাগাদাকে আরো বেশি দায়িত্বশীল করে তোলে।তাই না??
সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার।
আইনে তো সমান অধিকার দেয়া আছে।আমরা কি আসলে সমান অধিকার পাচ্ছি??সে আইনের সম্মান থাকছে তো,রাখছে তো???
সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,ধর্ম,বর্ণ,লিঙ্গ,বাসস্থান বা পেশাগত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
পেশাগত বৈষম্যের স্বীকার কি হচ্ছি না?? সব অধিদপ্তরে ৪৫ বছর শিথিলযোগ্য বিভাগীয় প্রার্থীতা আছে,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নেই কেন???নিয়োগবিধি ২০১৯ খসড়া করে সে অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?? কেন এই বৈষম্যের রেখাপাত করা হচ্ছে??
২৯নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।
সরকারি অন্যান্য অধিদপ্তরে বিভাগীয় প্রার্থীতার মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ পদে আসীন হতে পারলে আমরা পারব না কেন??
আমরা শিক্ষক।জাতির কারিগর।তবে আমরা কেন এত বৈষম্য,অপমানিত বলতে পারেন???টেকসই উন্নয়ন করতে হলে আমাদের বেতন গ্রেড, সুযোগ সুবিধা আরো বেশি করে দরকার।যাতে আমরা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারি।উন্নত দেশে শিক্ষকরা প্রথম গ্রেডে বেতন পায়।আর আমরা তৃতীয় শ্রেণী।পদোন্নতির যে ধারা আছে তা বাতিল করলে আমাদের কি থাকে?? নিজের ইচ্ছায় এ পেশায় আসতে চাই নি।পরিবেশ পরিস্থতি ভাগ্য আমাকে এখানে টেনে এনেছে।ক্রমে এ পেশাকে ভালবেসে ফেলেছি।বিশ্বাস করুন খুব ইচ্ছে করে সব বদলিয়ে দেই।আমার মত এমন ইচ্ছা অনেকের আছে।তাদের এ মহৎ ইচ্ছাকে ত্বরান্বিত করতে আমাদের অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দিন।বৈষম্যের মৃত্যু হোক।গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকুক।

এই সংবাদটি 2,349 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •