প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতার স্বীকৃতি প্রত্যাহার মানসম্মত শিক্ষার অন্তরায়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলা ২০২০ ১২:০৭

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতার স্বীকৃতি প্রত্যাহার মানসম্মত শিক্ষার অন্তরায়

জসিম বেপারী, সহকারী শিক্ষক কালকিনি, মাদারীপুর

 

 জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এর সতেরোটি লক্ষ্যমাত্রার চার নম্বর লক্ষ্য হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা। SDG-এর লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করার জন্য জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০১৬-২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে। আবার এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব চলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী নাগরিক গড়ে তুলতে হলেও প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষার। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। আমরা যদি জাতিসংঘের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে না পারি তাহলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা ভোগ করতে পারবো না। আর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা ভোগ করতে না পারলে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের পরিণত করার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে হলে শিক্ষকতা পেশায় প্রয়োজন এক ঝাক মেধাবী তরুণ -তরুণী যাদের রয়েছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান ও ধারণা। একজন মানুষকে শিক্ষকতা করতে হলে বিষয়গত জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে এবং সাথে সাথে শিখনবিজ্ঞান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন ( শিখন শেখানো পদ্ধতি বিষয়ক জ্ঞানই শিখন বিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়। আমাদের দেশে শিক্ষকতা পেশা শুরু করার পর শিখন শেখানো পদ্ধতি শেখানো হয়)। এটা স্বীকার করতেই হবে যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ব্যতীত শিক্ষক হওয়া সম্ভব নয়। একজন মানুষকে যতই শিখন শেখানো পদ্ধতি শেখানো হোক তার যদি বিষয়গত জ্ঞান না থাকে তাহলে কোনো দিনই পাঠদানে শিখন ফল অর্জিত হবে না। আর শিখনফল অর্জিত না হলে মানসম্মত শিক্ষাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। মেধাবী তরুণ-তরুণীদের অবশ্যই বিষয়গতজ্ঞান অন্যান্যদের তুলনায় বেশি থাকে। তাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় এনে যদি শিখন শেখানো পদ্ধতি শেখানো হয় তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করা নিশ্চয়ই কঠিন হবে না। কিন্তু মেধাবী তরুণ-তরুণীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে তাদের দিতে হবে সম্মানজনক বেতন ও বিভাগীয় সুযোগসুবিধা। বিদ্যালয়ের পাঠদানের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকরাই প্রধান ভূমিকা পালন করে এবং প্রধান শিক্ষক থাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় তাই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে মেধাবীদেরই নিয়োগ দেয়া উচিত। যেহেতু বিদ্যালয়ের পাঠদানের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকরা প্রধান ভূমিকা পালন করে তাই সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতার স্বীকৃতি হতে পারে মেধাবীদের শিক্ষকতায় পেশায় আকৃষ্ট করার অন্যতম ভালো একটি উপায়। বিভাগীয় প্রার্থীর সুযোগ ব্যবহার করে যদি মেধাবীরা অফিসার হওয়ার সুযোগ পায় তাহলে তারা সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করতে আগ্রহী হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে দক্ষ মাঝি ছাড়া যেমন নৌকাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না তেমনি মেধাবী শিক্ষক ব্যতীত জাতিকে মানসম্মত শিক্ষা উপহার দেয়াও সম্ভব হবে না। যদিও বিভাগীয় প্রার্থীতা সুযোগ ব্যবহার করে সবাই অফিসার হতে পারবে না কিন্তু যারা শিক্ষকতা পেশায় রয়ে যাবে তারা তাদের বিষয়গত জ্ঞান ও শিখন শেখানো পদ্ধতি ব্যবহার করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। দেখা গেছে রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগই রয়েছে বিভাগীয় প্রার্থীতার সুযোগ ব্যবহার করে প্রশাসনের উচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ তাহলে সহকারী শিক্ষকরা কেন বঞ্চিত হবে? পুলিশ বিভাগে একজন ১৭ তম গ্রেডের কনস্টেবল বিভাগীয় সুযোগ ব্যবহার করে যদি ১০ম গ্রেডের এসআই হতে পারে তাহলে স্নাতক (সম্মান) ও বিএড, এমএড করা একজন সহকারী শিক্ষক তার বিভাগের ৯ম ও ১০ম গ্রেডের পদে যাওয়ার কেন সুযোগ পাবে না? কর্তৃপক্ষ যদি সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতার স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে তাহলে মেধাবীরা শিক্ষকতার প্রতি আকৃষ্ট হবে না। আর মেধাবীরা শিক্ষকতায় না আসলে মানসম্মত শিক্ষাও জাতিকে উপহার দেয়া সম্ভব হবে না। তাই কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান প্রাথমিক বিদ্যালয় যেহেতু জাতিকে উন্নত করার প্রাথমিক ভিত্তি তাই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মেধাবীদের আনার জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রেখে আরও কী কী সুবিধা দেয়া যায় সেই ব্যবস্থা করুন।

এই সংবাদটি 1,661 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •