প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না তেরতম গ্রেড মেনে নিতে হচ্ছে

প্রকাশিত:শনিবার, ১৮ জুলা ২০২০ ০২:০৭

শেখ মোজাম্মেল হোসেন,সহকারী শিক্ষক,নরসিংদী ।
আপাতত ১৩ তম গ্রেডই সহকারী শিক্ষকদের  মেনে নিতে হচ্ছে । মাননীয় ডিজি স্যার এ বিষয়ে বলেছেন যে , এক লাফে ১৫ থেকে চার ধাপ উপরের ১১তম তে যাওয়া সম্ভব নয় । আস্তে আস্তে হবে । শিক্ষক নেতারাও দেখছি ১১তমের দাবিতে একটু ধীর -স্থির । তৎপরতা কম । কিন্তু দাবি ছাড়েননি । এর মধ্যে ১৩ তমের প্রজ্ঞাপন জারির পৃষ্ঠাঙ্কন করে প্রতি উপজেলায় মেইল করা হয়েছে । এখন গত ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে কার্যকর ধরে বাস্তবায়ন করার পালা । কিন্তু উচ্চ ধাপ – নিম্ন ধাপে ফিক্সেশনের ধোয়াশা এখনো কাটেনি । এরই মধ্যে জানা গেছে , শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ সচিব জনাব আকরাম আল হাসান স্যার উচ্চ ধাপে ফিক্সেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । স্মরণ রাখা ভাল যে , মাননীয় অর্থ সচিব স্যার প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উচ্চ ধাপে নির্ধারণের মৌখিক ওয়াদা করেছিলেন । নি:সন্দেহে এটি হবে একটি ন্যায্য ব্যবস্থা । না হলে অনেক শিক্ষকদের একটি ইনক্রিমেন্ট হাওয়া হয়ে যাবে । এতে উনারা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতির শিকার হবেন । এটাই সত্য । মাননীয় জ্যেষ্ঠ সচিব এ বিষয়ে ন্যায্য ব্যবস্থা নিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা । আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান জ্যেষ্ঠ সচিব স্যারের অবদান অবশ্যই সুবিদিত । উনার দায়িত্ব পালন কালে , সহকারী শিক্ষদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়োগ বিধি প্রবর্তন যেখানে নারীদের ক্ষেত্রেও কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে , One day , One word কার্যক্রম চালু করা , ডিজিটাল ক্লাসরুম ব্যবস্থা চালু করা , সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের উন্নয়ন। ( সহকারীদের ১৫তম থেকে ১৩তম গ্রেডে ) , অনলাইন বদলির ব্যবস্থা গ্রহন । ( এ ব্যবস্থা একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে । খুব শীঘ্রুই চালু হবে । এর জন্য নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে । প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে নি:সন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ।)
এ সকল কারণে প্রাথমিক শিক্ষকদের উনার প্রতি সন্তুষ্টি ও আস্থা অনেক বেশি । এই আস্থা থেকেই
প্রাথমিক শিক্ষায় বিভাগীয় কোটা/ প্রার্থীতার মত একটি অতি জরুরী , ন্যায্য দাবি জানাচ্ছি । অন্য সকল অধিদপ্তর , বিভাগ , পরিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরেও বিভাগীয় কোটায় ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত উপরের পদগুলোতে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখার দাবি নিশ্চয়ই অযৌক্তিক হবে না । যেখানে প্রাথমিকের বর্তমান নিয়োগবিধিতেও সহকারী শিক্ষকরা , সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদের বিভাগীয় প্রার্থীতায় আবেদন করে পরীক্ষা দেওয়া সুযোগ আছে ; সেখানে খসড়া নিয়োগ বিধিতে কোন পদেই বিভাগীয় কোটা না রাখা কতটা যৌক্তিক , ন্যায্য ও বাস্তবিক হচ্ছে ? এতে কি সত্যিই প্রাথমিক শিক্ষার বিশেষ কোন কল্যাণ নিহিত আছে ? এতে করে সহকারী শিক্ষক চিরস্থায়ী হতাশার সম্মুখীন হবে । এর বাইরে আর কিছুই হবে বলে মনে করি না । এতদিন বা বর্তমান পর্যন্ত ( যদিও সীমিত পর্যায়ে )
বিভাগীয় প্রার্থীতা থাকাটা ছিল সহকারী শিক্ষকদের জন্য পরম মর্যাদাকর ব্যাপার । যদিও সবাই ঐ সুযোগে পদোন্নতি পেয়ে বসবে না । কিন্তু এর মনস্তাত্ত্বিক একটা মাহাত্ম্য রয়েছে । শিক্ষকরা এই সুযোগের উছিলায় একটু আশা নিয়ে চলতে পারত । নিরাশা , হীনমন্যতা, ক্ষেত্রবিশেষে আর্থিক অবস্থা উন্নতির একটি সিড়ি হিসেবে এই বিভাগীয় প্রার্থীতাকে ভাবতে পারত । আশা করতে পারত । এখন আশা করার জায়গাটুকু আর থাকছে না । একজন হতাশ, মর্যাদাহীন ( কারো সম্ভাবনা ও সুযোগ কমে গেলে মর্যাদার হানি ঘটেই থাকে ) শিক্ষকের কাছ থেকে সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা আর কতটুকুই পাবে ? স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যাশিত মাত্রায় তারা তা আদায় করতে পারবে না । এটাই চরম সত্য । চরম বাস্তবতা । এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে সম্ভাবনাময় শিশুদের প্রতিভা বিকাশের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে যাওয়া, নিবেদিত প্রাণ সহকারীদের জন্য বিভাগীয় প্রার্থীতার মাধ্যমে আরো বৃহৎ দায়িত্ব পালনের সুযোগ বহাল রাখা ও অন্যান্য পদে সুযোগ সৃষ্টির জোর দাবি জানাচ্ছি । উপরের পদগুলোতে সরাসরি নন-ক্যাডার থেকে পদায়নের নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান করছি । আশা করি প্রাথমিক শিক্ষাকে এক গভীর ও জটিল প্রক্রিয়ায় ধ্বংস হতে না দিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই বিভাগীয় প্রার্থীতার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ।

এই সংবাদটি 2,858 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ