ফিলিস্তিনি পতাকা থাকায় কিশোরকে ইসরাইলি পুলিশের হামলা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১ ০৩:০৬

ফিলিস্তিনি পতাকা থাকায় কিশোরকে ইসরাইলি পুলিশের হামলা

নিউজ ডেস্কঃ  অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পূর্ব জেরুসালেমের সিলওয়ান মহল্লায় সাইকেলে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোয় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাড়িচাপা দিয়েছে ইসরাইলি পুলিশ। সোমবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়।

জাওয়াদ আল-আব্বাসি নামের ওই কিশোর বলে, ‘আমি সাইকেলে করে রুটি আনতে যাচ্ছিলাম। এসময় সাইকেলে (ফিলিস্তিনি) পতাকা থাকায় তিন ইসরাইলি পুলিশ আমাকে ধাওয়া করে।’

জাওয়াদ জানায়, ইসরাইলি পুলিশের গাড়ি তার সাইকেলে ধাক্কা দেয়ায় সে মাথা, ঘাড় ও পায়ে আঘাত পেয়েছে।

জাওয়াদ আরো জানায়, ইসরাইলি পুলিশ তার দিকে বন্দুক তাক করে এবং তাকে মারধর করে।

সে বলে, ‘আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, তারা আমাকে গুলি করবে বা গ্রেফতার করবে।’ পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

এই ঘটনায় ইসরাইলি পুলিশের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাওয়াদের চাচাতো ভাই ইসা আল-আব্বাসি জেরুসালেমভিত্তিক ওয়াদি হিলওয়া ইনফরমেশন সেন্টারে জানিয়েছেন, ঘরে থাকতেই তিনি তার চাচাতো ভাইয়ের খবর শুনতে পান। খবর শোনার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, পুলিশ তার ভাইকে ঘিরে রেখেছে।

ইসা বলেন, ‘আমরা অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলাম কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতারে জোর করছিল।’ পরে পুলিশের কাছ থেকে কৌশলে জাওয়াদকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান ইসা।

তিনি বলেন, ‘আর সব শিশুর মতো জাওয়াদ তার বাড়ি থেকে রুটি কিনতে গিয়েছিল এবং তার সাইকেলে পতাকা লাগিয়েছিল। এই পতাকা ছিল তার দেশের। এতে অপরাধ কী?’

এদিকে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে। ঘটনার জন্য ইসরাইলি সরকারকে দায়ী করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি হত্যাচেষ্টা এবং মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ।’

১৯৬৭ সালে আরব ও ইসরাইলের মধ্যে ছয় দিনের যুদ্ধের পর ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়। পরে ১৯৮০ সালে পুরো শহরটি তারা ইসরাইলে যুক্ত করে এবং শহরটিকে তারা ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইসরাইলের এই পদক্ষেপ অল্প কিছু দেশ বাদে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কোনো স্বীকৃতি পায়নি।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •