বগুড়ায় লাউ-পানিফলের চাষ অনুপ্রেরণা জাগাচ্ছে কৃষকদের

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual5 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

বগুড়া :
নিজস্ব দেড় বিঘাসহ পত্তন ও বর্গা মিলে মোট সাড়ে তিন বিঘা জমির মধ্যে ১৪ শতকের এক খন্ড জমি বছরের বেশীর ভাগ সময় জলাবদ্ধতা থাকে। এসব জমি থেকে ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে ধান চাষ করলেও বেশিরভাগ সময় জলাবদ্ধতার কারণে ফসল ঘরেও তুলতে পারেনা। এসব কথা চিন্তা করে বিকল্প হিসেবে ওই জমিতে প্রতি বছর ‘ইশা’ নামক হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করেছেন। সেই সঙ্গে ঢিবির ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা কাদা-পানিতে ফলিয়েছেন পানিফলের সমন্বিত চাষ করে আসছে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার এক হতদরিদ্র কৃষক জয়নাল আবেদীন ভুট্ট। তবে এ সমন্বিত চাষেই বেশ ভালভাবে দিনাতিপাত করছে তার পরিবার-পরিজন।

হতদরিদ্র কৃষক জয়নাল আবেদীন ভুট্টর সমন্বিত চাষ দেখতে সরেজমিনে গেলে তিনি বলেন, তার চাষযোগ্য জমির গুলোর মধ্যে ১৪ শতক জমি জলাবদ্ধ নিচু জমিকে সবজি চাষের জমিতে পরিণত করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন ওই নিচু জমির মাঝে মাঝে মাটি দিয়ে ৫৬টি উঁচু ঢিবি তৈরি করেছেন। ওই ঢিবিগুলোর ওপর এ বছর ‘ইশা’ নামক হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করেছেন। সেই সঙ্গে ঢিবির ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা কাদা-পানিতে ফলিয়েছেন পানিফল।
তার মধ্যে মাত্র ১৪ শতক জমি থেকে তিনি ১২ হাজার টাকার লাউ এবং চার হাজার টাকার পানিফল বিক্রি করেছেন। তারপরও আরও চার শতাধিক লাউ বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। যাতে আরও ১০-১২ হাজার টাকার লাউ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন কৃষক। সবমিলিয়ে জলাবদ্ধ নিচু জমিতে লাউ ও পানিফলের সমন্বিত চাষে ভাগ্য বদলিয়েছেন

ভুট্ট মিয়ার এমন কৌশলে হতবাক বনে গেছেন প্রতিবেশী কৃষকেরা। বিষয়টি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক অনেকেই তার এই লাউ মাচা দেখতে আসছেন। জলাবদ্ধ অনাবাদি জমিকে ফসলি জমিতে রূপান্তরের এই কৌশল অন্যান্য কৃষকের জন্য হতে পারে অনুকরণীয়।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে শাহজানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, হাঁস-মাছ, ধান-মাছ এ ধরনের সমন্বিত চাষ লাভজনক। তবে কৃষক ভুট্ট মিয়ার লাউ-পানিফল সমন্বিত চাষ নতুন ধারণার সৃষ্টি করেছে। যা অন্যান্য কৃষকদের উৎসাহিত ও অনুপ্রেরণা জাগাচ্ছে। অভিজ্ঞ কৃষকরা অনেক সময় কৃষিক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা উপহার দিয়ে থাকেন। এটি অনেকটা সেরকমই বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code