বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও ইতিহাস জানাতে জেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশিত:শনিবার, ২১ নভে ২০২০ ১১:১১

বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও ইতিহাস জানাতে জেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
লাল-সবুজ বাংলার প্রতি ইঞ্চিতেই জড়িয়ে আছে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। রয়েছে বর্ণাঢ্য ইতিহাস। আর সেসব ইতিহাস এ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে নওগাঁ জেলা প্রশাসন। তাই বই হাতে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানতে ব্যাস্ত নতুন প্রজন্মসহ সব শ্রেনীর পেশার মানুষ। নওগাঁ ‘অনুপ্রেরনার বাতি ঘর’ চত্বরে এমনই ভিড় থাকে প্রতিদিন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ মুখেই গড়ে তোলা হয়েছে এই চত্বর। যেখানে একটি ঘরে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, যুদ্ধকালীন ইতিহাস ও তার পারিবারিক ইতিহাস জানবার জন্য বইসহ রাখা হয়েছে বিভিন্ন উপকরণ।
প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষরা এখানে এসে খুঁজে ফিরেন জাতীর এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। এছাড়াও এ চত্বরে বঙ্গবন্ধুকে জানার পাশাপাশি উপজেলা ভিত্তিক বিশ্রামাগার ও মা-শিশুদের জন্য ব্রেষ্ট ফিডিং কর্নার নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর নওগাঁ সফর ও প্রতিদিনের দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়।
এখানে বই পড়তে আসা রফিকুল ইসলাম, রাফিত হোসেন, চন্দন দেবসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, ‘অনুপ্রেরনার বাতি ঘর’ এসে আমাদের তাদের অনেক ভালো লাগছে। এখানে এসে বঙ্গবন্ধুর জন্ম, বঙ্গবন্ধুর বেড়ে উঠা, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস, যুদ্ধকালীন ইতিহাস ও তার পারিবারিক ইতিহাসসহ অনেক কিছু জানতে পারলাম। যা আগে এত কিছু জানা ছিলো না। জানা থাকলেও সঠিক জানতাম না। তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মর জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে তারা স্বাগত জানাই।
জেলা প্রশাসনের এমন কাজকে স্বাগত জানিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার হারুন অল রশিদ বলেন, এমন কাজে খুশি জেলার মুক্তিযোদ্ধারাও। তিনি বলেন, ১৯১৯ সালে বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহন করেন। এরপর তিনি কিভাবে রাজনীতিতে আসলেন, তার জীবনের ইতিহাসটা কি অনেকেই আমরা জানি না। নতুন প্রজন্ম ও সাধারন মানুষও জানে না। তাই এটা নতুন প্রজন্ম জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রশ্ন থাকাটায় স্বাভাবিক। তাই শুধু নওগাঁ না বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে সারাদেশে এমন উদ্যোগ গ্রহণের দাবী জানান।
জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ জানান, মুজিব বর্ষে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে, তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিতে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তারুণ্যকে উজ্জীবিত রাখতে স্থাপিত করা হয়েছে ‘অনুপ্রেরণার বাতিঘর’। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু আমাদের সকল প্রেরণার উৎসাহ। তাই বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্ম যত বেশি জানবে, তার ইতিহাস জানবে, তার যে বেড়ে উঠা, খোকা থেকে শেখ মুজিব, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা, এই যে তার সংগ্রামি জীবন সম্পর্কে জানতে পারবে ততবেশি নতুন প্রজন্ম দেশ প্রেমে জাগ্রত হবে ও বাংলাদেশকে ভালোবাসবে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর উপর যত বই লেখা ও বঙ্গবন্ধুর লেখা বই আছে সেগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ডিজিটাল ডিভাইস রাখা হয়েছে। এই ডিভাইসের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর উপর সবগুলো বই ডাউনলোড করে রাখা হয়েছে যাতে করে নতুন প্রজন্মরা এখানে এসে এগুলো পড়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে। তাই নওগাঁবাসি ও নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা ‘অনুপ্রেরনার বাতি ঘর’ নামে বঙ্গবন্ধুর এই গ্যালারী স্থাপন করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •