বজ্রপাতে বরের পিতাসহ ১৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:সোমবার, ০৯ আগ ২০২১ ০১:০৮

বজ্রপাতে বরের পিতাসহ ১৬ জনের মৃত্যু

জাবেদ ভূঁইয়াঃ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মানুষের শোকের মাতম আর দরদমাখা স্মৃতি নিয়েই এখন প্রতিটি বাড়িতে চলছে আলাপ। বিয়ের অনু্ষ্ঠানে যোগ দেয়ার পথে এই ইউনিয়নের ১৬ জনের প্রাণ গেছে বজ্রপাতে।

বুধবার (৪ আগষ্ট) সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাঁকা গ্রামে যাবার সময়ে আকর্ষিক বজ্রপাতে ঝরে যায় ১৭ জনের জীবন।

নিহতের এরমধ্যে বরের বাবা শরিফুল ইসলাম (৪৫) এবং বরের ভাতিজা ৩ সন্তানের জনক আলম (৩৫), চাচাতো ভাই সজিব (১৬), চাচাতো বোন ২ সন্তানের জননী ছয়নূর (২৫), ভাতিজি ২ সন্তানের জননী বেলী(২৫) তার স্বামী টিপু মিয়া (৪০) সহ পরিবারের ১৬ জন আত্নীয় স্বজন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বর, কনের গ্রামের মানুষ শোকে কাতর। আর এ খবর এলাকা ছাড়িয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে সারাদেশে ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

সর্বনাশা পদ্ম নদীর গান যেন আবার শুনলেন দেশের মানুষ তবে অন্যভাবে ১৬ তরতাজা প্রাণের নিথর শোকে।

বেলা তখন ১১টা ৫৫ মিনিট, একটি বড় নৌকায় বিয়ের অনুষ্ঠানের যাত্রী ছিলেন ৫৫ জন। যে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন তারা, সেই বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো কয়েক দিন পূর্বে ই। সেই দিন তারা যাচ্ছিলেন কনে- কে তুলে আনতে। কিন্তু সেই যাত্রার মধ্যে পথে থেমে যেতে হয় বৃষ্টির জন্য। সবাই আনন্দে ভরপুর তখন, সবাই মোবাইল ফোনে ছবি আর ভিডিও রেকর্ডিং এ ব্যস্ত! সেটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে! বলে মনে করেন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক পাঁকা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেন। এই ঘটনায় মারা গেছেন তার আপন ফুফাতো ভাই রফিকুল ইসলাম (৫৫) । ৬ ছেলে মেয়ের জনক রফিকুল ইসলাম স্থানীয় পদ্মাঘাটের মাঝি ছিলেন। তার ছোট মেয়ে বিয়ের দিন নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু তার কন্যাদান করা হলো না সেই আক্ষেপ তার পরিবারের।

নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন হোদ্দা জানান, যারা মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে তাৎক্ষিণক ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে । পাঁকা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মুজিবুর রহমানের স্বধর্মীনি পারভিন বেগম প্রবাস জার্নালকে জানান নিহতের অধিকাংশ দিন মজুর রয়েছেন যাদের পরিবারের চালিকা শক্তি দ্রুত হারিয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ প্রকল্প কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম প্রবাস জানার্লকে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আকাশে মেঘ বৃষ্টি দেখা দিলেই এক দুইজনের মৃত্যু হয় প্রায়।

পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাঁকা গ্রামের হোসেন আলীর তৃতীয় মেয়ে সুমি বেগমে সাথে নারায়ণপুর ইউনিয়নের সূর্যনারায়নপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে মামুন মিয়ার সাথে বিয়ের অানুষ্ঠানিকতা হবার কথা ছিলো সেই দিন। তবে সেই যাত্রায় বর ছিলেন না। তিনি আগ থেকে ই শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

বরের দাদা কালু মন্ডল জানিয়েছেন, জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বজ্রপাতে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সাহায্য দেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ১৭ মে বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগের তালিকায় বজ্রপাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে বাংলাদেশে বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু মারা গেছে।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •