বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোলে মাঠজোড়া সোনালী ধান আতংকে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২০ এপ্রি ২০২১ ১২:০৪

বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোলে মাঠজোড়া সোনালী ধান আতংকে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

একেএম.জিলানী, নাচোল(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় খাদ্য উদ্বৃত্ত বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোলে মাঠজোড়া সোনালী ধান। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আতংকে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। প্রায় ১৪হাজার ৬শ’ ২৬হেক্টোর মাঠজোড়া বোরো ধানের সোনালী ঢেউয়ে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন ঝড় ও শীলাবৃষ্টির আতংকে চরম অনিশ্চতার মাঝে দোল খাচ্ছে। সোনালী স্বপ্নের দোলাচালে বিভোর কৃষক। সরেজমিনে দেখাগেছে, মাঠের প্রায় ৭৫শতাংশ ধান পেকে গেছে। কৃষকরা এখন ১০/১৫টি দিনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। সার, কীটনাশক ও পর্যাপ্ত সেচ দেয়া প্রায় শেষের পথে। বাকি ২৫শতাংশ কৃষক শেষ সেচ(গড়া পানি) দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। একসময় ধানের ন্যয্যমূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু গতবছর থেকে ধানের ও আউড়ের ভাল মূল্য পাওয়ার করণে কৃষক আবারও ধানের আবাদে ফিরেছে। উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, রবি মৌসুমের ফসল উঠিয়ে উপজেলায় প্রায় ১৪হাজার ৬শ’ ২৬হেক্টোর জমিতে ধানের আবাদ করেছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহাম্মেদ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ৮হাজার, ৫শ’ ৮৫ হেক্টোর জিরাশাইল, ব্রী-৫১, ৯২,৮৯, ৮১, বাঁশমতি ও কিছু স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। কোন বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে আবাদের ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে এবং প্রায় ৯০হাজার মেট্রিক টন ধান থেকে প্রায় ৬০হাজার মেট্রিক টন চাউল উৎপাদন হতে পারে। ধানের বাজারমূল্য ভাল থাকলে বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে ধানের আবাদের প্রতি বেশী আগ্রহী হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন।
উপজেলার হাঁকরইল গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব সেকান্দার আলী, খৈবুর রহমান, আন্ধরইল গ্রামের কৃষক জাইফুল ইসলাম, আব্দুল গাফ্ফার, সূর্যপুর গ্রামের বিধান সিং ও কামার জগদইল গ্রামের আজিজুর রহমান জানান, এক বিঘা ধানের আবাদে প্রায় সাড়ে ৮হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে তারা ধারনা করছেন। এবছর উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বক্ষনিক পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকির কারণে ধানে কোনরকম পোকার আক্রমণ ও মৌসুমী সংক্রমণ দোখা যায়নি। কোনরকম প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে এবছর বিঘাপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ২৫মন দরে ধান উৎপাদন হতে পারে। তবে বর্গাচাষীরা যে হারে বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান তৈরীতে আগ্রহ হচ্ছেন ও বাগান সম্প্রসারণ করছেন তাতে করে ভবিষ্যতে আগামী ১০বছর পর ধান চাষের জমি থাকবেনা এমনটিই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •