বাংলাদেশের ইউনিয়ন অফিস, পাসপোর্ট অফিসে হচ্ছেটা কি ?

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রি ২০২১ ০৫:০৪

বাংলাদেশের ইউনিয়ন অফিস, পাসপোর্ট অফিসে  হচ্ছেটা কি ?
মাহফুজ আদনান : 
বাংলাদেশের সরকারি অফিস গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অফিস ইউনিয়ন অফিস। অন্যটি পাসপোর্ট অফিস । ইউনিয়ন অফিসের কাজ হল ইউনিয়ন এর মানুষের   বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করা, তাদের মাধ্যমে জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ সহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধান করা হয়।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন অফিস গুলো বর্তমান যে অবস্থা, যেটা দেখলে একজন বাঙালী হিসাবে নিজেকে লজ্জিত মনে হয়। একটা স্বাধীন দেশে একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের  কতই যে নাজুক অবস্থা চিন্তা করা যায় না। আপনি যদি
বাংলাদেশের ইউনিয়ন থেকে যদি জন্ম সনদ আনতে চান, জাতীয় পরিচয়পত্র আনতে চান । তাহলে আপনি যদি কোন নাম দেন, কারো নাম দেন তাহলে তার নামে ভুল পাবেন । আর সংশোধন করতে যাবেন তাহলে ঝামেলার শেষ নেই । ইউএনও অফিস যেতে হয় । নির্বাচনে অফিসে যেতে হয় । কত কি ঝামেলা । আর পাসপোর্ট করা, জাতীয় পরিচয় পত্র সব কিছুতে নামে ভুল করে ফেলেন আমাদের অফিসাররা। আমাদের অফিসার সাহেবরা কি ঘাস খান ? বাংলাদেশের গরীব মানুষকে কেন ভোগান্তিতে ফেলেন আপনারা  ? মানুষের নামে অনাকাংখিতভাবে কেন ভুল করেন ? কেন এত ভুল ? আমি প্রায়ই মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদে ভুল পেয়েছি । অফিসার মহাশয়রা পিতার নাম, মাতার নাম বা ব্যক্তির নামে ভুল করে আবার উল্টা ভাব ধরেন । গ্রাম শহরের কত মানুষ যে তাদের ভুলের খেসারত দিচ্ছে । কিছু হলেই আবার বলে উঠবেন  মুক্তিযোদধা। ইউনিয়ন আফিসের কর্মকর্তাদের ভুল করা একটি নিয়মিত রুটিন হয়ে গেছে। যেমন ধরেন আপনি একটি নাম দিলেন আব্বাস আলি, পিতা নাম আব্দুল আলি, জন্ম সনদ নেবার জন্য তখন দেখবেন নামের জায়গায় পিতার নাম দিয়ে দিবে আর পিতার নামের জায়গায় আপনার নাম। আনেক সময় দেখা যায় ছেলেকে মেয়ে  আর মেয়েকে ছেলে লেখে দেয়। আমাদের প্রশ্ন হল একজন  শিক্ষিত অফিসার যাদের কাছে এত বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তারা কিভাবে দিনের পর দিন ভুল করেন। নাকি তারা ইচ্ছা করে জনগনের সাথে এসব করেন। ভুক্তভোগীরা এসব কাগজ নিয়ে প্রতিদিন তাদের কাছে যেতে হয় এরপর ও তারা আজ হবে না, কাল হবে এসব করতে থাকে। আবার কিছু টাকা ওদের দিলে তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো এখন ভোগান্তিরব পাশাপাশি বিরক্তিকর প্রতিষ্ঠানে রুপ নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান এর প্রতি দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের নজর রাখার সময় এসেছে। একই সমস্যা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে
সার্ভার জটিলতা, প্রিন্টিং সমস্যা ও লকডাউনের কারণে  আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে যথাসময়ে মিলছে না পাসপোর্ট। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। সেই সঙ্গে দিন দিন জটিল হচ্ছে পরিস্থিতিও।
জানা গেছে, প্রবাসী অধুষ্যিত  সিলেট জেলার  আলমপুর অবস্থিত সিলেট আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসে গড়ে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে। সরকারি নিয়মে সাধারণ পাসপোর্ট ২১ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পেতে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা আর জরুরি প্রয়োজনে পাসপোর্ট ১১ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পেতে ৬ হাজার ৯০০ টাকা সরকারী ফিস ব্যাংকে মজা দিয়ে গ্রাহকরা আবেনদ করেন। কিন্তু জরুরী প্রয়োজনের পাসপোর্ট এক-দেড় মাসেও পাওয়া যাচ্ছেনা। কারো কারো ৬ মাস আট মাস লাগে যায় । আর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন মাস।
আবার অনেকে ছুটিতে এসে পাসপোর্ট নবায়ন করতেও একই ভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এতে অনেক প্রবাস ফেরত যথা সময়ে বিদেশও যেতে পারছেন না । আর যারা নতুন করে বিদেশ যাবে তাদের অনেকে ভিসার মেয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই পাসপোর্টের জন্য গ্রাহকরা পাসপোর্ট অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন। দিন দিন এই জটিলতা আরো বাড়ছ সিলেট  পাসপোর্ট অফিসে আসা এক ব্যক্তি বলেন, আমার পুত্র বিদেশ যাওয়ার জন্য একজনের সাথে কথা ফাইনাল হয়ে গেছে। তারা দ্রুত পাসপোর্ট চাচ্ছে। আমি জরুরী ই-পাসপোর্ট করার জন্য সরকারী যথাযথ নিময়ে আমার পুত্রের আবেদনটি জমা দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ দেড় মাসেও আমি পাসপোর্ট পাইনি। অফিসে যোগাগোগ করলে বলে-আপনার ছেলের পাসপোর্ট প্রিন্টং-এ আসে। সহসায় চলে আসবে। কিন্তু সময়তো চলে যাচ্ছে। একই কথা জানান মোস্তফা ইসলাম বলেন, ‘আমি অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করে জমা দিতে গেলে তারা আমার আবেদন জমা নিতে চায়নি। এটা-ওটা ভুল হয়েছে বলে আমাকে সারাদিন ঘুরিয়েছে। এভাবে প্রতিদিনই মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
অফিসারদের কথামত সার্ভার জটিলাত, প্রিন্টিং সমস্যা ও সরকারের ধারাবাহিত লকডাউনের কারণে অনেক সময় পাসপোর্ট আসতে দেরি হয়। এছাড়া আবেদনে তথ্যগত ভুল, পুলিশ প্রতিবেদন দেরিতে আসাসহ নানা কারণেও গ্রাহকরা যথা সময়ে পাসপোর্ট পায় না। দেশের  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আজ কি বেহাল অবস্থা যা চিন্তা করতে আজ নিজেকে অনেক লজ্জিত মনে হয়।
লেখক : মাহফুজ আদনান, চীফ নিউজ এডিটর- সিইও, বাংলানিউজইউএসডটকম । 

এই সংবাদটি 1,274 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •