বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী নাগরিক সমাজের বিবৃতি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টো ২০২১ ০৩:১০

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী নাগরিক সমাজের বিবৃতি

নিউজ ডেস্কঃ  আবারো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। ইসলাম ধর্মের অবমাননার অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে সারা দেশে দুর্গা পুজার প্রতীমা ও মন্ডপ ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা চলেছে। অপবিত্র হয়েছে উৎসব মুখর পুজা মন্ডপ। হতাহত এমন মানুষের সংখ্যা শতাধিক।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রবাসী নাগরিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে। দুর্গা পুজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক ধর্মীয় উৎসব। প্রতিটি হিন্দু পরিবার এই উৎসবের অপেক্ষায় সারা বছর পথ চেয়ে বসে থাকে। শুধু পুজা উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য অসংখ্য প্রবাসী হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে বেড়াতে যান। এবারেও তারা গেছেন, কিন্তু উৎসবের বদলে তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে কুৎসিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার। এই ঘটনা গভীর গ্লানির। আমরা এই নিন্দা জানাই।

সরকারী ভাবে বলা হয়েছে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি রয়েছে। কিন্তু এটি যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় তার প্রমাণ প্রায় অর্ধ শতক প্রতীমা ভাংচুরের ঘটনা ও অসংখ্য পুজা মন্ডপে হামলা। দাঙ্গার আগে ও পরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা প্রশাসনের ব্যর্থতা অস্বীকারের কোন উপায় নেই। চলতি প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিয়েছেন, সকল সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। বাংলাদেশে এর আগেও আমরা দেখেছি দাঙ্গার পরপর সরকার এই রকম কঠোর ভাষায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, কিন্তু প্রকৃত অপরাধী কখনোই খুঁজে বের করা হয় না। কেউ যথাযথ শাস্তিও পায়না। আমাদের দাবী, এই নাটকের অবসান হোক, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল অপরাধীর যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গৃহীত হোক।

দাঙ্গা রোধের ব্যর্থতা কেবল সরকারের নয়, নাগরিক সমাজের। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম, কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধ শতক পরেও প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক চেতনা নির্মাণে আমরা সক্ষম হয়নি। এই ব্যর্থতা নাগরিক ও সুশীল সমাজকে বহন করতেই হবে। প্রতিটি সংখ্যালঘু শুধু এই দেশের সমান অধিকারভোগী নাগরিকই নয়, তারা আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করণে যে অক্ষমতা, তার দায়ভার এই নাগরিক ও সুশীল সমাজকেও নিতে হবে। তাদের দ্বিগুণ প্রত্যয় নিয়ে সকল রকম সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমরা তাদের আশ্বাস দিতে চাই, এমন লড়াইতে আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।

প্রবাসে বাস করি বলেই হয়ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যেকোন ঘটনা আমাদের এত তীব্রভাবে আহত করে। এদেশের পত্র-পত্রিকায় দাঙ্গার কথা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে। যতবার সে প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম উল্লেখিত হয়, ততবার লজ্জায় ও গ্লানিতে আমরা আকণ্ঠ নিমজ্জ্বিত হই। বাংলাদেশ আমাদের গভীর গৌরবের, এর অসাম্প্রদায়িক চরিত্র আমাদের গভীর শ্লাঘার কারণ। অথচ সেই দেশ যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্লেদাক্ত হয়, আমরা তখন স্বাভাবিকভাবেই গভীর বিষাদ ও ক্রোধে আচ্ছন্ন নই।

প্রবাসী বাংলাদেশী হিসাবে বাংলাদেশের সরকারের কাছে আমাদের দাবী, অবিলম্বে দাঙ্গার সকল ঘটনা তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি অথবা গ্রুপকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক। একইভাবে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একটি সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হোক। এই কমিশনের দায়িত্ব হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও অন্যান্য সকল নাগরিক সমানাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপারিশ চুড়ান্ত করা।

সবশেষে আমরা বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে সকল হিন্দু ভাই-বোনদের জানাতে চাই, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা আপনাদের বেদনার ও ক্রোধের সমান ভাগীদার। একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে আমাদের শর্তহীন অঙ্গীকার রয়েছে, একথা আমরা নির্দ্বিধায় জানাতে চাই। প্রেস রিলিজ

বিবৃতিদাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিকবৃন্দ :

1.   ড. হায়দার আলী খান, ডেনভার

2.   ড. আবদুন নূর, ভার্জিনিয়া

3.   জাফর বিল্লাহ, নিউ জার্সি

4.   ড. সৈয়দ আশরাফ আহমদ, ম্যারিল্যান্ড

5.   আব্দুল্লাহ জাহিদ, নিউইয়র্ক

6.   ফাহিম রেজা নূর, নিউইয়র্ক

7.   গোলাম সারোয়ার হারুন, নিউ জার্সি

8.   বদিউজ্জামান আলমগীর, ফিলাডেলফিয়া

9.   ড. খালেকুজ্জামান মতিন, পেনসিলভ্যানিয়া

10. ড. রিয়াজ ও জেবিন চৌধুরী, নর্থ ক্যারোলাইনা

11.  ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ ও ড. ফাতেমা আহমদ, ফিলাডেলফিয়া

12. ড. আবুল কালাম আযাদ ও সামিরা সায়ীদ, ফিলাডেলফিয়া

13. ড. নূরুন নবী ও ড. জিনাত নবী, নিউ জার্সি

14. ড. শহীদুল্লাহ ও শাহিদা আফরোজ, ফিলাডেলফিয়া

15. ড. মোয়াজ্জেম ও ড. রুবি হোসেন, ক্যালিফোর্নিয়া

16. কৌশিক আহমেদ, নিউইয়র্ক

17. আহমাদ মাযহার, নিউইয়র্ক

18. হাসান ফেরদৌস ও রানু ফেরদৌস, নিউইয়র্ক

19. ড. নজরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক

20. নিনি ওয়াহেদ, নিউইয়র্ক

21. জামাল উদিন হোসেন, আলাবামা

22. সেমন্তী ওয়াহেদ, নিউইয়র্ক

23. বিশ্বজিত সাহা, নিউইয়র্ক

24. ফকির ইলিয়াস, নিউইয়র্ক

25. ফারহানা ইলিয়াস তুলি, নিউইয়র্ক

26. শামস আল মোমিন, নিউইয়র্ক

27. ড. মালেকা আহমেদ ও মীর হাকিম, নর্থ ক্যারোলাইনা

28. ড. চৌধুরী হাফিজ আহসান ও ড. সেলিনা পারভীন, লাস ভেগাস

29. সালাউদ্দিন ও রাজিয়া আহমেদ, নিউ জার্সি

30. গুলশান আরা কাজী ও কাজী বেলাল, কানেকটিকাট

31. ড. এসমেত হাকিম, বস্টন

32. ড. আশিক আনসার ও ড. নুরুন্নেসা বেগম, ডেলাওয়্যার

33.  ড. জিয়াউর রহমান, নিউইয়র্ক

34.  ড. মাসুদুল হাসান, নিউইয়র্ক

35. ইশরাত জাহান, ডেলাওয়্যার

36.  ড. মোহাম্মদ ও ড. সাবিনা শারমিন, ফিলাডেলফিয়া

37. শাহানা বেগম, নিউইয়র্ক

38. মিনহাজ আহমেদ, নিউইয়র্ক

39. শামীম আহমেদ, নিউইয়র্ক

40. কবীর কিরণ, নিউ জার্সি

41. রাশা আহমেদ, নিউ জার্সি

42. ড. ইবরুল চৌধুরী ও ফারহানা আফরোজ, ফিলাডেলফিয়া

43.  ড. আবুল কালাম আযাদ, নিউইয়র্ক

44. ড. মোহাম্মদ আলম, নিউইয়র্ক

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ