বাজেটে কালোটাকা বিনিয়োগে আরও সুবিধা চায় পুঁজিবাজার

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১ ০৩:০৩

বাজেটে কালোটাকা বিনিয়োগে আরও সুবিধা চায় পুঁজিবাজার

নিউজ ডেস্কঃ করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে গতি আনতে গত বাজেটেকালো টাকা বিনিয়োগে বিস্তর সুযোগ দেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়েই যে কেউ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছেন। আগামী ৩০ জুন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত এ সুযোগ শেষ হচ্ছে।

তবে এবার এই খাতে কালো টাকা বিনিয়োগে আরো এক বছর সুযোগ চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিসএসই) ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। শুধু তাই নয়, এজন্য নামমাত্র কর আরোপের প্রস্তাবও তাদের, মাত্র পাঁচ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় ডিএসইর চিফ অপারেটিং অফিসার সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, এ সুযোগ এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হলে এবং করহার পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনলে বাজারের উন্নয়নে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

গত অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তি করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ছিল ৩০ শতাংশ। অতীতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও প্রযোজ্য কর দেওয়ার পর ঐ করের ওপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিতে হতো। কিন্তু গত বাজেটে তা মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। শুধু তাই নয়, ঐ অর্থ কোথা থেকে পাওয়া গেছে, এ নিয়ে আয়কর বিভাগ তো নয়ই, অন্য কোনো সংস্থার প্রশ্ন তোলার সুযোগও বাতিল করা হয়। এই সুযোগ এর আগে কখনোই এত অবারিত ছিল না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিস্তর অপ্রদর্শিত টাকা এসেছে পুঁজিবাজারসহ অন্যান্য খাতে। এবার সেই কর অর্ধেকে নামিয়ে আনার দাবি জানালো ডিএসই।

আগামী জুনে সরকার পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। বাজেটকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শমূলক আলোচনা সভার অংশ হিসেবে গতকাল ব্যাংক ও আর্থিক খাত, ডিএসই এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ই-ক্যাব) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা করে এনবিআর। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে আলাদা এসব আলোচনায় খাত সংশ্লিষ্টরা আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ে তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ডিএসইর অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার সাড়ে ১৭ শতাংশ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩২ শতাংশ এবং মোবাইল ফোন কোম্পানির করহার ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে ৬ বছরের জন্য হ্রাসকৃত হারে কর আরোপ, স্টক এক্সচেঞ্জের আয়ের ওপর কর এক তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনাসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়।

ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল ব্যাংকের করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক মানদণ্ডে ৪০ শতাংশ কর অনেক বেশি। এছাড়া আয়ের আগেই কর ধার্য করা (অগ্রিম আয়কর) নিয়েও নিজেদের আপত্তির কথা জানান। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিএসআরের জন্য একটি গাইডলাইন দেওয়া এবং ট্রেজারি চালানে সমতা আনার ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার এখাতের বিক্রয়ের ওপর (মুনাফা হোক বা না হোক) বিদ্যমান বাধ্যতামূলক কর ০.৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান। এছাড়া এ খাতকে আইটি এনাবল্ড সার্ভিসের (আইটিইএস) অন্তর্ভুক্ত করা, দ্বৈত ভ্যাট আদায় বাতিল করা, পণ্য ডেলিভারি চার্জের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা, ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত অর্থের ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করাসহ ১৬টি দাবি তুলে ধরা হয়।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বেশির ভাগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের বাইরে থাকায় অসন্তোষের কথা জানান। তিনি বলেন, মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমরা তথ্য নিতে পারছি। বাদবাকি ৯০ শতাংশের বিষয়ে জানা যাচ্ছে না। ১০ শতাংশকে সুবিধা দিতে গিয়ে ৯০ শতাংশকে হাতছাড়া করতে চাই না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো লাইসেন্স বা নিবন্ধনের ব্যবস্থাও নেই। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি প্লাটফরমের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ই-ক্যাবের পক্ষথেকে জানানো হয়, অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ট্যাক্স হয়রানির ভয়ে নিবন্ধনের আওতায় আসতে চায় না। বরং যারা নিবন্ধনের আওতায় এসেছে, তারাও এখন সদস্যপদ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করছে। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভয় না দেখাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •