বাপার আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০১ এপ্রি ২০২১ ০১:০৪

বাপার আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে  বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
হাকিকুল ইসলাম খোকন ,সিনিয়র  প্রতিনিধি: দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে বাংলাদশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।খবর বাপসনিউজ।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানিদের হাতে আটক হওয়ার আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান, সেই মুহূর্তে ঘোর অন্ধকার, হানাদারের গুলি আর বেয়োনেটে ক্ষতবিক্ষত দেশ।
এরপর চলে ৯ মাসের তীব্র লড়াই; ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ গঠনের পালা। ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সামনে সাফল্যের অনন্য এক উদাহরণ। সেই সূর্য সন্তানের উত্তরসূরিরা আজ আমেরিকায় এসে গড়েছেন আরেকটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশ।
গত ২৮শে মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক নগরীর কুইন্সে স্থানীয় একটি হলে প্রায় ২০০ বাঙ্গালী পুলিশ অফিসারদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) এমন আয়োজন ছিল সত্যি মনোমুগ্ধকর। বাংলাদশের জাতীয় সংগীত দিয়ে এপর্ব শুরু হয়। এরপর বাপার প্রায় ২০০ সদস্য নিজেদের পরিচিত পর্ব ও চাকরির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ডিটেকটিভ মাসুদ রহমান ও লেফটেন্যান্ট প্রিন্স আলম এবং সভাপতিত্ব করেন ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী।
সাবেক নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা এবং ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট এরিক অ্যাডামস মহান স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অথিতি হিসেবে বক্তব্যকালে বলেন, এটা নিঃসন্দেহে গৌরবের একটি মুহূর্ত। আমি সত্যি গর্বিত যে বাপার এমন চমৎকার অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।
এরিক আরও বলেন, দিন যত যাচ্ছে বাংলাদেশি- আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আরও বড় হচ্ছে। আমি অবশ্যই বলব কমিউনিটির স্বার্থে বাপায় যেন বাকি সব বাংলাদেশি-মার্কিন পুলিশ অফিসার ও কর্মকর্তারা যোগ দেন। বক্তব্য শেষে এরিক অ্যাডামসকে বাপার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বাপার প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী বলেন, আমি গর্বিত বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি। আজ যাদের আত্মত্যাগে এই ভাষা পেয়েছি তাদের তাজা রক্তের লেখা ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো আমাদের দায়িত্ব। আশা করি বাপা বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কাজের পাশাপাশি নিজ দেশের ভাষা, সংস্কৃতিও তুলে ধরবে।
বাপার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রথম বাংলাদেশি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হক বলেন, বাংলাদেশ কিছু ভালো করলে আমরাও গর্ব করি। আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তার প্রমাণ বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমের সংবাদগুলো পড়লে বুঝা যায়।
শামসুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ ভারত, পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে জিডিপি, নারীরা নিরক্ষরতা এমনকি গড় আয়ুতেও ছাড়িয়ে গেছে।তাই এমন একটি দিনের সাক্ষী হতে পেরেও নিজেকে ধন্য মনে করছি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন -বাপার প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেট এরশাদ সিদ্দিকী, ট্রেজারার ও পুলিশ অফিসার রাশেক মালিক, ইভেন্ট কো অর্ডিনেটর ও পুলিশ অফিসার সরদার আল মামুন, মিডিয়া লিয়াজো ও ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার, কো- ট্রেজারার মেহেদী মামুন অক্সিলিয়ারি লেফটেন্যান্ট সৈয়দ এনায়েত আলী, সার্জেন্ট (আর্মস) ও পুলিশ অফিসার মাহবুবুর জুয়েল।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- বাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ট্রাফিক সুপারভাইজার মহিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সেক্রেটারি ও সার্জেন্ট কবির হোসাইন, লেফটেন্যান্ট মিলাদ খান, ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার ও লেফটেন্যান্ট মামুন, পুলিশ অফিসার পলাশ, ট্রাফিক সুপারভাইজার আলী চৌধুরী, পাপিয়া সারওয়ার, সোনিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সুবর্ণজয়ন্তী ও সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ৪ জন সার্জেন্ট, একজন লেফটেন্যান্ট এবং নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হকের পদোন্নতি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এছাড়া প্রথম বাংলাদেশি পুলিশ অফিসার হিসেবে বাপার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও লেফটেন্যান্ট সুমন সাঈদ অবসর উপলক্ষে কেক কেটে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ