বালিয়াডাঙ্গীতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অসহায় ও ভূমিহীন ৮শ পরিবার ঘর পাচ্ছে

প্রকাশিত:সোমবার, ০৭ জুন ২০২১ ০৭:০৬

বালিয়াডাঙ্গীতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অসহায় ও ভূমিহীন ৮শ পরিবার ঘর পাচ্ছে

 

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে স্বপ্নের ঠিকানা পাচ্ছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষ। ‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’। এ স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বিভিন্ন খাস জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি ঘরে দুটি শয়ন কক্ষ, একটি করে বারান্দা, রান্না ঘর ও বাথরুম, বিদ্যুৎ সংযোগসহ নানা সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ম পর্যায়ে ১৬৬ পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্র ভূমিহীন পরিবারের জন্য ২য় পর্যায়ের আরো নির্মাণ হচ্ছে ৮শত স্বপ্নের ঘর। এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম।

সুবিধাভোগী প্রতিটি পরিবারকে ২ শতক করে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া হবে। এতে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। তাদের আর অন্যের জায়গায় বসত করে বা ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ট্রাস্টফোর্স কমিটির তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এসব ঘর নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। চলতি জুন মাসেই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে পরিবারগুলোকে।

প্রথম ধাপে এই উপজেলায় গৃহহীনদের ১৬৬টি ঘর দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: যোবায়ের হোসেন ইতিপূর্বে যারা ঘর পেয়েছেন প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং তাদের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করছেন। এসব ঘর নির্মাণে তদারকি করছেন ইউএনও।

জানা গছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের লোহাগাড়া, জাউনিয়া, রায়মহল। চাড়োল ইউনিয়নের হারামডাঙ্গী, মাহাতপাড়া ও সাবাজপুর। ধনতলা ইউনিয়নের শিলপাটি পুল, বোয়ালীমন্ডল, কাঁচনাপাড়া, দোগাছী, ও কৈমারীতে। বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের গড়িয়ালি, সেনুয়া, কুশলডাঙ্গী, ময়মনসিংহ পাড়া, হাঠাৎ পাড়া, পিতাইচড়ি, সর্বমঙ্গলা। দুওসুও ইউনিয়নের তেলি বন্দর, নিরাসী পুকুর। ভানোর ইউনিয়নের হলদীবাড়ি বিশ্রামপুর। আমজানখোর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া, আমবাগান, ঠগবস্তী, থুকড়াবাড়ি, পানজার বস্তি, ক্যাম্পের হাট। বড়বাড়ী ইউনিয়নের আধার দিঘি, জাউনিয়া গ্রাম সহ প্রায় ৩০টি স্থানে সরকারি জমিতে দুই মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৩০টি স্থানে ৮’শ ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। খাস জমিতে এসব গৃহ নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। সরজমিনের দেখা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নির্মাণাধীন লাল-সবুজের ঘরগুলিতে নির্মাণ কাজের সময় ভালো মানের ইট, রড, সিমেন্ট, বালি, কাঠ, শিট, এ্যাঙ্গেল, লাল-সবুজের টিনসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী, দক্ষ রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী, রং মিস্ত্রী দ্বারা নিমার্ণ করে লাল-সবুজের ঘরগুলো দৃষ্টিনন্দন করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাড়াও নিমার্ণ কাজে তদারকি করছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাশসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ ।

উপকারভোগী আলাল বলেন, আমি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার মাথা গোজার ঠাই ছিলো না। শেখ হাসিনা আমাকে উপহার দিয়েছেন। আমি তার জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পাওয়া বিধবা করিমন জানান, স্বামী নাই আমার। এমন শোয়ার ঘর পাবো জীবনেও আশা করিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে হয় । রাতে নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমাতে পারতাম না।
হলদিবাড়ী গ্রামের সাহেদা (৫২) বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতো। বসতভিটা তার ছিলো না। বসতভিটা পেয়ে আরাম আয়েশে রাত্রিযাপন করতে পাচ্ছে।

জাউনিয়া গ্রামের রবিচন্দ্র বসাক (৪০) হোটেল শ্রমিক। তার পরিবারের সদস্য ৫ জন। সারাদিন উপার্জন করে সংসার চালাতো। রাতে কোথায় ঘুমাবে স্থায়ী ঠিকানা ছিলো না। সে বলে, আমি এখন শান্তির ঠিকানা পেয়েছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহৎ উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আরো যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন রয়েছে তাদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন বলেন, নির্মাণ কাজ হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। প্রতিনিয়ত গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করছেন জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিমসহ জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন জানান, প্রথম দফায় ১৬৬টি গৃহহীন পরিবারকে এ প্রকল্পের আওতায় ঘর প্রদান করা হয়েছে। ২য় ধাপের আরও ৮’শ ঘর নির্মাণ কাজ শেষের দিকে।ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাবে এই ঘর। দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা টিনশেড ও বারান্দাসহ একটি আলাদা বাথরুম রয়েছে প্রতিটি ঘরে। থাকছে বিদ্যুতের ব্যবস্থা। তবে ইতোমধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যক্ত, বিধবা ও অতিদরিদ্র পরিবার বাছাই করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জুন মাসে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত টাস্কফোর্স বাছাই করা গৃহ ও ভূমিহীনদের মাঝে এসব ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব ঘর উদ্বোধন করবেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উপহার। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সকল মানুষের বাসস্থান থাকবে এটা উনি পূরণ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় এসে তার পিতার দেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রকৃত ভূমিহীনরা যাতে মাথা গোজার ঠাই পাই এ ব্যবস্থা করেছেন। বালিয়াডাঙ্গীর লাল-সবুজের বাংলাদেশ এই ঘরের অনেকগুলা ছবি ভাইরাল হয়েছে। যা ঢাকার পরিকল্পনা কমিশনে মুজিববর্ষের দেওয়ালে ছবিগুলো শোভা পেয়েছে। লাল-সবুজের ঘরগুলো খুব নান্দনিক হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনকে স্বাগত জানান।

 

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ