• ২১ জানুয়ারি, ২০২২ , ৭ মাঘ, ১৪২৮ , ১৭ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

বিমানের ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে যেসব তথ্য জানলে অবাক হবেন

newsup
প্রকাশিত জানুয়ারি ৯, ২০২২
বিমানের ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে যেসব তথ্য জানলে অবাক হবেন

নিউজ ডেস্কঃ ব্ল্যাক বক্স একটি যন্ত্র যাতে বিমান উড্ডয়নের শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করা থাকে।এটিকে বিমানের ‘ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারও’ বলা হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্ল্যাক বক্স সাধারণত বিমানের পিছনের দিকে রাখা হয়। এটি টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরি ও একটি টাইটানিয়াম বাক্সে আবদ্ধ থাকে।

ব্ল্যাক বক্সের ইতিহাস:
১৯৫৩-৫৪ সালে বিমান দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় একটি ডিভাইস তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছিল যা বিমান দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। যা দুর্ঘটনা থেকে বিমানকে বাঁচাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং ‘রেড এগ’ নামে পরিচিত ছিল। ডিভাইসটির ভিতরের দেয়ালগুলি কালো রঙের ছিল, তাই পরবর্তীতে এটি ‘ব্ল্যাক বক্স’ নামে পরিচিত পায়।

ব্ল্যাক বক্সের মধ্যে দুটি পৃথক বক্স রয়েছে:
১. ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার: এই বক্সে ফ্লাইটের দিকনির্দেশনা, উচ্চতা, জ্বালানি, গতি, টার্বুলেন্স ও কেবিনের মধ্যকার নানা তথ্য থাকে। প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে 88 ধরনের বিভিন্ন ডেটা রেকর্ড করতে পারে এটি।

বক্সটি এক ঘণ্টার জন্য প্রায় ১১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ১০ ঘণ্টার জন্য ২৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এই বক্সগুলো লাল বা গোলাপি রঙের হয় যাতে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

২. ককপিট ভয়েস রেকর্ডার: এই বক্সটি শেষ দুই ঘণ্টার মধ্যে বিমানের মধ্যে ঘটে যাওয়া শব্দ রেকর্ড করে। এটি ইঞ্জিন, ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম, কেবিন এবং ককপিটের শব্দ রেকর্ড করে যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে বিমানের অবস্থার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

ব্ল্যাক বক্স যেভাবে কাজ করে:

যেমনটি আমরা আগেই বলেছি যে ব্ল্যাক বক্স শক্তিশালী ধাতু দিয়ে তৈরি। এটি কোনো বিদ্যুৎ ছাড়াই ৩০দিন কাজ করতে পারে। এটি ১১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। বক্সটি কোথাও হারিয়ে গেলে প্রায় ৩০দিন ধরে ভাইব্রেশনের সঙ্গে জোরে আওয়াজ করতে পারে। প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকে তদন্তকারীরা এই ভয়েসটি সনাক্ত করতে পারে।

ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে একটি মজার তথ্য হল, এটি সমুদ্র পৃষ্ঠের ১৪ হাজার ফুট গভীরতা থেকে তরঙ্গ নির্গত করতে পারে।

যদিও ব্ল্যাক বক্স বিমান দুর্ঘটনার পুরো চিত্র প্রতিফলিত করে না। কিছু দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। তবে নিঃসন্দেহে এটি বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •