বিলুপ্তির পথে বাসা তৈরির সুনিপূণ কারিগর বাবুই পাখি

প্রকাশিত:শনিবার, ০৩ এপ্রি ২০২১ ১১:০৪

বিলুপ্তির পথে বাসা তৈরির সুনিপূণ কারিগর বাবুই পাখি

ইকবাল হোসেনজীবন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
কবিরভাষায়‘বাবুইপাখিরেডাকিবলিছেচড়াই,কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পেরবড়াই।’বাসা তৈরিতেযারনিপুণকাজ সে তোশিল্পেরবড়াইকরতেইপারে। কিন্তু কবিরজনীকান্ত সেনেরকালজয়ীকবিতাটিরনায়কগ্রামবাংলারঐতিহ্যবাহীবাবুইপাখিআজবিলুপ্তির পথে। তালগাছের স্বল্পতা ওপ্রকৃতিকবিপর্যয়ের কারণেইএমনটিহচ্ছে। একসময়গ্রাম্যবাড়িরবাইরউঠানেতালগাছেরপাতায়পাতায় দেখা যেতবাবুইপাখির দৃষ্টিনন্দনবাসা; কিন্তু গ্রামের পথ ধরেঅনেকসময়হাঁটলেওএখনবাবুই ও তারবাসা চোখে মেলাভার।
বাবুইসাধারণত খড়, ঝাউ, তালপাতারআঁশ ও কাশবনেরআঁশ দিয়েইউঁচুতালগাছেরডগারমাথায়ঝুলন্তপাতায়এবং খেজুরগাছেবাসাবাঁধে। বাসাবানাতেবাবুইখুবইপরিশ্রমকরে থাকে। ঠোঁটদিয়েবনজাতীয়ঘাস ও কাশবনেরচিকনচিকনআস্তরণদিয়েবাসা বোনেবাবুই। বাসা পেটদিয়েঘষে অর্থাৎপলিশ কওে মসৃণকরে থাকে। শক্ত বুননের সাথে শিল্পেরঅনন্য সমন্বয়বাসাকে দেখতে খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয়করে তোলে। এতটাইমজবুতযাপ্রবলবাতাসেওছিঁড়েপড়েনা।
বুলবুলআহম্মেদ রচিতপাখিদের জীবনকথাবইয়ে এ নিয়েসুন্দরকিছু তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানেবলাহয়েছে, বাসা তৈরিরশুরুতেবাসারনিম্নমুখে দু’টি গর্ত থাকে। কিন্তু বাসা তৈরিসম্পূর্ণ হলে এক দিকের গর্ত বন্ধকরেতাতেডিমরাখার স্থান তৈরিকরে। আরঅপরদিকটি লম্বা করেপ্রবেশ ও বেরহওয়ার পথ তৈরিকরে। বাসা তৈরিরকাজেরএকপর্যায়েপুরুষবাবুইপাশেরবাবুইয়েরবাসায়গমনকরে সঙ্গীর খোঁজে। সঙ্গী পছন্দ হলেপুরুষবাবুইপাখি স্ত্রী বাবুইপাখিকে সঙ্গী বানানোরজন্য ভাব-ভালোবাসানিবেদনকরে। সেই সাথে বাসা তৈরিরকাজঅর্ধেকহতেই স্ত্রী বাবুইকেকাক্সিক্ষত বাসা দেখায়। কারণবাসাপছন্দ হলেই কেবল স্ত্রী বাবুইসম্পর্ক গড়ে তোলে। স্ত্রী বাবুইপাখিবাসাপছন্দ হলেবাকিকাজ শেষ করতেপুরুষবাবুইপাখিরসময়লাগেমাত্রচার থেকে পাঁচদিন।
স্ত্রী পাখির প্রেরণায়পুরুষবাবুইপাখিমনেরআনন্দে বিরামহীনভাবেবাসা তৈরিরকাজ শেষ করে। একটিপুরুষবাবুইপাখিএকটি মৌসুমেপ্রায়পাঁচ থেকে ছয়টিবাসা তৈরিকরতেপারে। তবে প্রেমিকবাবুইপাখিযতইভাব-ভালোবাসাপ্রকাশকরুকনা কেন প্রেমিকাবাবুইপাখিডিম দেয়ার সাথে সাথে প্রেমিকবাবুইআবার সঙ্গী খোঁজারকাজে ব্যস্ত হয়েপড়ে।
মাত্র ১৫-১৬ বছরআগেওগ্রামেরতালগাছে চোখেপড়তবাবুইপাখিরবাসা। গোশত সুস্বাদুবলেশিকারিদের সেরা তালিকায়বাবুই। নির্বিচারেতালগাছসহবাবুইপাখিরবাসাবানানোরগাছকাটায়বসবাসউপযোগীপরিবেশকমেছে। কীটনাশকেরঅবাধব্যবহার, শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিএবংজলবায়ুপরিবর্তনের বিরূপপ্রভাবেইআজএসবপাখিবিলুপ্তির পথে বলেধারণাগবেষকদের। সাধারণততিনপ্রজাতিরবাবুই দেখাযায়। দেশী, দাগিএবংবাংলা। তারমধ্যে দাগিএবংবাংলাবাবুইবিলুপ্তহয়ে গেছে। তবে দেশীবাবুইএখনোকিছুকিছু চোখেপড়ে।
পরিবেশবিদরামনেকরেন, শুধুবাবুইপাখির শৈল্পিকনিদর্শনটিকিয়েরাখতেনয়; বরংআমাদের পরিবেশ স্বাভাবিকরাখতেইবাবুইকেটিকিয়েরাখতেহবে। বাবুইসহঅন্যান্য প্রাণী ও পাখিযখনপরিবেশ থেকে হারিয়েযাচ্ছে তখন এই পরিবেশ যে দিনদিনমানুষেরজন্যেওঅনুপযোগীহচ্ছেতাতে কোনোসন্দেহ নেই।
মিরসরাইউপজেলাপ্রাণিসম্পদকর্মকর্তাশ্যামলচন্দ্র পোদ্দারবলেন, এখনোকিছুজায়গায়বাবুইপাখিসহঅন্যান্য পাখি দেখাযায়। তবেসবাইকেনিজএলাকারবিষয়েসচেতনহতেহবে। তাহলেই কেবলবাবুইসহঅন্য পাখি ও প্রাণিসংরক্ষণ সম্ভব।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •