বেতন পাচ্ছে না মাধবপুরে বৈকুন্ঠী চা বাগানের শ্রমিকরা

প্রকাশিত:শনিবার, ১৩ আগ ২০১৬ ০১:০৮

বেতন পাচ্ছে না মাধবপুরে বৈকুন্ঠী চা বাগানের শ্রমিকরা

ডেস্ক নিউজ:
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বৈকুন্ঠী চা বাগানে ৪১৫ শ্রমিক ও ৮ স্টাফ বেতন, রেশন ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। বেতন ও রেশন না পেয়ে শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইতিমধ্যে শ্রমিক স্টাফসহ ৫ জন অনাহারে অর্ধাহারে মারা গেছেন বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন। ৪ মাস ধরে বাগান ম্যানেজার ও দুই কর্মকর্তা লাপাত্তা হয়ে গেলেও শ্রমিকরা বাগানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাচ্ছেন না তাদের শ্রমের ন্যায্য মজুরী ও রেশন। এতে যে কোন সময় ফুঁসে উঠতে পারে ওই বাগানের শ্রমিকরা।

শনিবার শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯৫৫ একর ভূমি নিয়ে বৈকুন্ঠী চা বাগান। ৪১৫ শ্রমিক ও ৮ জন স্টাফ নিয়ে বাগানের চা উৎপাদনের কাজ চলছিল। গত ১০ মে থেকে বাগান মালিকের অব্যস্থাপনার কারণে চা বাগানের ৪১৫ জন শ্রমিক ও ৮ জন স্টাফ নিয়মিত মজুরী, রেশন ঔষধ পাচ্ছে না। চা শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরী না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
চা শ্রমিক নেতা শাওন রবি দাস ও বাগান পঞ্চায়েত সেক্রেটারী জানান, শ্রমিক প্রভিন্ডেট ফান্ডের ২৪ মাসের ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ২৯ টাকা বাগান মালিক পক্ষ আত্মসাত করেছে। ৪ মাসের স্টাফ বেতন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৫ টাকা, শ্রমিকদের মজুরী ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, হাজিরা বোনাস ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করেই মুখার্জী কোম্পানীর (বৈকুন্ঠী চা বাগান) ম্যানেজার শাহজাহান ভুইয়া লাপাত্তা রয়েছেন।

শ্রমিকরা বলেন- ন্যায্য মজুরী বোনাস, রেশন না পেয়ে আমরা এখন খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। ৪১৫ শ্রমিকের আড়াই হাজার সদস্য অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছে। অর্ধাহারে ও অনাহারে থেকে ইতিমধ্যে ৩ শ্রমিক নিতাই শাওতাল, প্রবণ সাওতাল ও লক্ষ্মীমনি বুমিজ মারা গেছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন অনেকটা কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছেন। বেতন না পেয়ে ও শ্রমিকদের চাপের কারণে স্ট্রোক করে বাগানের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও মরণ চক্রবর্তী মারা গেছেন ।

চা শ্রমিকদের মহিলা সর্দার অমলা র্যা লী জানান, ৪ মাস ধরে বেতন ও রেশনের টাকা না পাওয়ায় বাগানের শ্রমিকরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই ছেলে-মেয়েদের খাতা, কলমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতে পারেছন না। হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তারপরও তারা বাগানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাগানের টিলাবাবু (মালিক পক্ষের কর্মচারী) দীপক কুমার রায় জানান, ৪ মাস ধরে শুধু শ্রমিক নয়, আমরাও বেতন, ভাতা, রেশন পাচ্ছি না। বেতনের টাকার জন্য মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দেই দিচ্ছি বলে সময় কর্তন করছেন। তিনি বলেন- স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দুই সহকর্মী মারা গেছে। আমরা অবিলম্বে বেতন ভাতা চাই।

ইউপি সদস্য বাবুল চৌহান জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য শ্রমের মূল্য দেয়ার জন্য বার বার মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কাছ থেকে সদুত্তর পাচ্ছি না। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি না পেয়ে বাগানের চা উৎপাদন ও পাতা প্লাকিং অব্যাহত রেখেছেন। ইতিপূর্বে মালিক পক্ষ বাগানের উৎপাদিত চা বিক্রির চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা পাওনা টাকা না পাওয়ায় তা বিক্রি করতে দেয়নি।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে আমরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছি। এখন আমরা চাই প্রশাসনের মাধ্যমে বাগানের শ্রমিকদের সমুদয় বেতন ভাতা পরিশোধ করে বাগানের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তাদের ন্যায্য মজুরী দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম। অন্যথায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

এ ব্যাপারে বাগানের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও রেশনের টাকা পরিশোধ করা হবে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ