• ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ , ১০ মাঘ, ১৪২৮ , ২০ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

“মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার” সাড়া ফেলেছে প্রত্যন্ত এলাকায়

STAFF USBD
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২১
“মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার” সাড়া ফেলেছে প্রত্যন্ত এলাকায়

 

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর ভারতীয় সীমান্তের কোল ঘেঁষে অবস্থিত ধামইরহাটের প্রত্যন্ত এলাকা আগ্রাদিগুন গ্রামের ব্যক্তিগত উদ্দোগে “মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার” প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই পাঠাগারকে ঘিরে ইত্যেমধ্যে পার্শ্ববর্তী ৪২টি গ্রাম থেকে ১১০ জন পাঠক নিয়ে ১০ গ্রুপ করা হয়েছে। যারা নিয়মিত গ্রন্থাগারে আসবে এবং ১০টি গ্রুপ কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে অন্যান্যদের বই পাঠে আগ্রহী করবেন। পাশাপাশি কবি- সাহিত্যিক রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন ও তাদের জীবন আলেখ্য চর্চা করবেন।
স্বপ্নমানব পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েস বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর কবির ব্যাক্তিগত উদ্যেগে এই পাঠাগার স্থাপন করেন।
আধুনিক যুগে ডিজিটাল মোটিভেশনে মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আর ইন্টারনেটর দাপটে যে সময় যুব সমাজের মন-প্রাণ প্রযুক্তি নির্ভর ডিভাইসের দিকে আসক্ত। ডিজিটাল যুগে পড়ালেখার অজুহাতে কেউ ছুটছে ডিভাইসের দিকে, কেউ ছুটছে মাদকের দিকে, কেউবা দু’টোই। পাঠাগারতে বসে পড়ার চর্চা গত প্রায় একযুগ থেকে স্থিমিত হয়েছে। ঠিক সেই সময় যুবসমাজকে জ্ঞানার্জনের জন্য বইমূখী করতে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতিকর আসক্তি থেকে ফেরাতে যুব সমাজের জন্য ও শিক্ষানুরাগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগার ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে প্রত্যন্ত ওই এলাকায়।
জানা গেছে, আলমগীর কবিরের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান টানা ১৭ বছর সততার সঙ্গে আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে তার মৃত্যু হয়। এরপর বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করেন তার চার ছেলে। তৃতীয় ছেলে আলমগীর কবির মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। ২০১৫ সাল থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসার ৫০ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক বৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ‘মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার’টি কার্যক্রম শুরু পর থেকে নিয়মিত পাঠক সৃষ্টি করতে ইতিমধ্যেই পার্শ্ববর্তী ৪২টি গ্রাম থেকে ১১০জন পাঠক নিয়ে ১০গ্রুপ করা হয়েছে। যারা নিয়মিত গ্রন্থাগারে আসবে এবং ১০টি গ্রুপ কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে অন্যান্যদের বই পাঠে আগ্রহী করবেন। পাশাপাশি কবি-সাহিত্যিক রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন ও তাদের জীবন আলেখ্য চর্চা করা হবে। পাঠাগারটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে।
গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলমগীর কবির আরও জানান, করোনার চাপ সহনীয় মাত্রাই আসলে শিক্ষনীয় বিভিন্ন সিনেমা ও ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হবে। উপজেলার ২৬টি হাইস্কুল থেকে মাসে ১দিন করে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষণীয় ডকুমেন্টরি প্রদর্শণ, বইপড়া, ছড়া-কবিতা, বিতর্ক, গান পরিবেশ সুরক্ষা গ্রন্থাগারের গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়ে বিনোদনের মাধ্যমে উপস্থাপন এবং দিনশেষে মূল্যায়নের মাধ্যমে ভাল ফলাফল কারিদেরকে পুরস্কৃত করা হবে। শিক্ষার্থীদের বইমূখী করতে এ সকল করা হবে গ্রন্থাগারের খরচে। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক সম্প্রীতি ও বন্ধন সৃষ্টি সহজতর হয়। কারণ আজকের ছাত্র আগামী দিনে জাতির কান্ডারী। ইতিমধ্যেই গত কয়েক বৎসর যাবৎ উপজেলার ২৬টি হাইস্কুল, ১৬টি প্রাথমিক ও ৩টি মাদ্রাসার ট্যালেন্টপুলে ফলাফল অর্জনকারীদের “মজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন” এর মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অব্যাহত আছে।
জানা গেছে, মজিবুর রহমান গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মজিবুর রহমানের জ্যৈষ্ঠ পুত্র আলমগীর কবির কয়েকটি সামাজিক সেবামূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়স ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ গ্রন্থাগারে আকৃষ্ট হয়ে পাঠে সময় ব্যায় করছেন।
বাজারের নিজস্ব মার্কেটের ২য় তালায় আনুমানিক ১ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবং ১০-১২ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরী হচ্ছে এই পাঠাগার। এখানে একসঙ্গে ৩০-৩৫ জন পাঠক বসে পাঠাগার থাকা প্রায় সাড়ে ৩ হাজারো বই থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন। এমন সময়ে প্রত্যন্ত ওই এলাকায় পাঠাগার স্থাপনের বিষয়টি এলাকার সচেতন মহলদের দৃষ্টি কেড়েছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, জ্ঞান, বিজ্ঞান, বিনোদনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্র-পত্রিকাসহ পাঠাগারে প্রজেক্টরের বড় পর্দায় দেখানো হয় বিভিন্ন দেশের শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু।
স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল মালেক জানান, তার অনেক পরিচিত শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিয়াসু ব্যক্তি আগ্রহী হয়ে ওই লাইব্রেরীর পাঠক হয়েছেন। আগামীতে আরো অরো অনেক শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিয়াসু ব্যক্তিরা সেখানে পাঠক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খেলাল-ই-রব্বানী গ্রন্থাগার বিষয়ে বলেন,” গ্রন্থাগার সৃষ্টি নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্দোগ, গ্রন্থাগার মনুষ্যত্ব সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম আর মনুষ্যত্বের মাধ্যমেই মানুষ পূর্ণতা পায়।”
আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের প্রবীন গুণিজন ও সাপাহার উপজেলার চৌধুরী চান মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, মজিবুর রহমান গ্রন্থাগার তার নিজস্ব স্বকীয়তায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে মাদকমুক্ত, প্রতিহিংসামুক্ত, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বিচক্ষণ জ্ঞানদিপ্ত সমাজ গঠনে অবদান রাখবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও তাদের দেখে লাইব্রেরীমুখী হবে বলে আমি মনে করি।
ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, একজন স্বপ্ন মানব আলমগীর কবির, যিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছেন, তৈরী করছেন আলোকিত মানুষ ‘মজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে জ্ঞানের ছড়িয়ে দিচ্ছে, ইউনিয়ন পর্যায় পেরিয়ে ভবিষ্যতে পুরো ধামইরহাট উপজেলায় মানবিক মানুষ তৈরীতে এই পাঠাগার অনন্তকাল ভূমিকা রাখবে এটিই সকলের প্রত্যাশা।

 

এই সংবাদটি 1,239 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •