মরিচের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না কৃষকরা

প্রকাশিত:রবিবার, ২৫ এপ্রি ২০২১ ০২:০৪

মরিচের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না কৃষকরা

আনোয়ার হোসেন আনু,কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥
পর্যটন নগরী কুয়াকাটাসহ সমুদ্র উপকুলে মরিচ চাষে কৃষকের কাঙ্খিত স্বপ্ন পুরন হয়েছে। চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ জুড়ে কাঁচা পাকা মরিচ দেখে দুর থেকে মনে হয় লাল ও সবুজ কার্পেটে মোড়ানো গালিচা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে এমন ভূল ভেঙ্গে যাবে অনেকেরই। মাঠ জুড়ে মরিচের এমন বাম্পার ফলনে কৃষকের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। তবে ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না কৃষকরা এমন অভিযোগ করছেন অনেকেই। কাঁচা মরিচের দাম কৃষক পর্যায়ে খুবই কম। এজন্য ক্ষেত থেকে তুলে আনা মরিচ শুকিয়ে মজুদ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপকুল ভাগে বৃষ্টি না হওয়ায় মরিচের ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমন মরিচের ঝাল বেশি বলে কৃষকরা জানান। করেনা মহামারির কারনে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অনেক কম। তাই উৎপাদিত মরিচ শুকিয়ে মজুদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে গেলে মজুদ করা মরিচ ন্যায্য মুল্যে বিক্রি হবে এমনটাই আশা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র উপকুলসহ কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিন্দু,জিরা,বাঁশগাড়াসহ নানা জাতের মরিচের চাষ হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত হয়ে থাকে।
কৃষকের ক্ষেত জুড়ে নানা জাতে মরিচের আবাদ হয়েছে। মরিচের ফলনও হয়েছে আশানুরুপ। উৎপাদিত মরিচ তুলতে নারী পুরুষ ও শিশুরা ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দল বেধে ১৫-২০জন মিলে মরিচ তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামের গৃহবধু থেকে শুরু করে শিশুরাও। স্কুল বন্ধ থাকায় মায়েদের পাশাপাশি সন্তানরাও এ কাজে সহায়তা করছেন। নারী শ্রমিকরাই মরিচ তোলার কাজে বেশি নিয়োজিত। কৃষকদের তথ্যমতে, ক্ষেত থেকে যারা মরিচ তুলে আনে তাদেরকে ৬ ভাগের ১ভাগ দিতে হয়। পানি সেচ, সার,ঔষধ, পরিচর্যা বাবদ অনেক টাকাই ব্যয় হয়। বাজারে মরিচের এখন যে মূল্য তাতে লোকসান গুনতে হবে। এজন্য বেশিরভাগ কৃষকই ন্যায্য মুল্যের আশায় মরিচ মজুদ করে রাখছে। ন্যয্য দাম না পেলে আগামিতে মরিচ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন কৃষকরা।
বর্ষায় তলিয়ে যাবার আগেই উৎপাদিত মরিচ ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন কৃষক। ক্ষেত থেকে আহরনকৃত মরিচ শুকিয়ে বস্তা ভরে ঘরে মজুদ করা হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল হলে তখন মজুদ করা এসব মরিচ কাঙ্খিত মুল্যে বিক্রি হবে। অর্থনৈতিক সংকটের কারনে আবার অনেকেই বর্তমান বাজার মুল্যেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এসব কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে।
কৃষকরা আরও জানান. গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। ফি মৌসুমে মরিচ চাষিও বেড়েছে দ্বিগুন। উপকুলের কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মরিচের চাষাবাদ করছেন। বিগত বছর গুলোতে ভালো ফলন ও কাঙ্খিত দাম পাওয়ায় এবারে মরিচ চাষে ঝুঁকে পড়ছে অনেক কৃষকই। দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে মরিচের চাষাবাদ। ভাগ্য ফেরানোর আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এখানকার কৃষকরা। ভালো ফলন হবার পরও করোনা দূর্যোগে ন্যায্য মূল্যে থেকে বঞ্চিত উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিরা। কৃষকদের দাবী ধান ও গমের মত সরকার কর্তৃক উৎপাদিত মরিচের মুল্য নির্ধারণ করে দেয়া হলে কৃষকরা লাভবান হবেন এমনটাই জানিয়েছেন তারা।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভাসহ উপজেলায় ৫০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ টন মরিচ উৎপাদন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হওয়ায় লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবছর।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক তৈয়ব বলেন, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারে তিনি বেশি জমিতে মরিচ আবাদ করেছেন। এ বছরে ফলন ভালো হলেও দাম অনেক কম। তৈয়ব আরও বলেন গত বছর ১মন শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৮হাজার টাকা। এবার একই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫হাজার টাকা মন। লতাচাপলি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আবজাল ভদ্র (৫০) জানান, তিনি প্রায় ৩একর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমের প্রথম দিকে এক কেজি কাঁচা মরিচ ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করছিলেন । এক মন কাচাঁ মরিচ বিক্রি করে পেয়েছেন ৭০০ টাকা। যা দিয়ে উৎপাদন খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এজন্য তিনি কাচা মরিচ বিক্রি করেননি। ক্ষেতেই পাকিয়ে শুকিয়ে মজুদ করছেন।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা শুকনা মরিচ নিয়ে এসেছেন। কোন পাইকার না থাকায় তারা কম টাকায় মরিচ বিক্রি করে বাড়ি যাচ্ছেন। কারো হাতে তেমন টাকা না থাকায় তারা সাময়িক অর্থ কষ্ট দূর করার জন্য এমনটাই করেছেন বলে জানান। কৃষকদের অভিযোগ পাইকারী ব্যবসায়ীরা সেন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দামে মরিচ ক্রয় করছে। তারা কৃষকদের ন্যায্য মুল্য দিচ্ছে না।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি-কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, এ উপজেলায় এবার ৫০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ টন উৎপাদন হয়েছে। আগামীতে আবাদ ধরে রাখতে হলে কৃষকদের ন্যায্য দাম না দিলে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তিনি আরও জানান কৃষকরা যাতে ন্যায্য মুল্য পায় এজন্য বাজার মনিটরিং এর প্রতি জোর দিতে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতি অনুরোধ করেন তিনি ।

এই সংবাদটি 1,242 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •