• ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ , ৫ মাঘ, ১৪২৮ , ১৫ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

মহাকাশেও বাংলাদেশ

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১১, ২০২২
মহাকাশেও বাংলাদেশ

মোস্তাফা জব্বার:

বিশ্বে স্পেস সোসাইটিতে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশ বাংলাদেশ। মহাকাশ জয় আমাদের জাতিগত অহঙ্কার। বাঙালীর মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন পূরণের ঐতিহাসিক দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ১২ মে। এইদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় দেশের প্রথম ও একমাত্র যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই ঘটনাটি ঘটেছিল বাংলাদেশ সময় ১১ মে রাত ২টা ১৫ মিনিটে, ইংরেজী দিনপঞ্জি মতে ১২ মে ভোর। মহাকাশ বিজয়ের মাহেন্দ্র এই ক্ষণটি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পথ বেয়ে অর্জিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়ায় যে উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ তারই পরিপূর্ণতা। এই অর্জন একজন ভিশনারি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি চিন্তার স্বর্ণালী ফসল। এরই ধারাবাহিকতায় জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে বাংলাদেশ বিশ্বে আজ অনুকরণীয়।

মহাকাশে বাংলাদেশের এই অস্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় চলমান ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার এক উজ্জ্বল সোপান। টেলিকম প্রযুক্তির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং ইউপিইউ-এর সদস্যপদ লাভ করে। বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী গর্বিত দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’র রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহাশূন্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য স্থির করেন। ২০০৯ সালের মে মাসে বিটিআরসির একজন কমিশনারকে আহ্বায়ক করে স্যাটেলাইট কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিমূলক কার্যাদি শুরু করা হয়। পরে ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরই ফলে মহাকাশে অরবিটাল স্লটের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা আইটিওতে আবেদন দাখিল করা হয়। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্য্যাশনাল এসপিআই-এর নিয়োগ, ইন্টারস্পুটনিক থেকে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অরবিটাল স্লট লিজ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে স্যাটেলাইট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান থ্যালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্রান্সের সঙ্গে ১১ নবেম্বর ২০১৫ স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্নের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের মূল কার্যাদি শুরু হয়। প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ২৭৬৫.৬৬ কোটি টাকা। তন্মেধ্যে চুক্তিমূল্য প্রায় ১৯০৮.৭৫ কোটি টাকা। মহাশূন্যে উৎক্ষেপিত তিন হাজার ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিরবচ্ছিন্নভাবে ১৫ বছরের অধিক সময় মহাশূন্যে থেকে সেবা দিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সুবিধার ব্যাপক প্রসার ঘটছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সমগ্র বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্নভাবে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচারের নিশ্চয়তা। বর্তমানে বিদেশী স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রদেয় বার্ষিক ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়, ট্রান্সপন্ডার লিজের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল লার্নিং, ডিজিটাল এডুকেশন, ডিটিএইচ প্রভৃতি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাবমেরিন অথবা টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত সময়ে প্রয়োজনে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেট যোগাযোগ সুবিধা প্রদান, স্যাটেলাইটের বিভিন্ন সেবার লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম চার্জ বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, স্যাটেলাইট টেকনোলজি এবং সেবার প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর ১৪টি সি ব্যান্ড এবং ২৬টি কিউ ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডারসহ মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। ৪০টি ট্রান্সপন্ডার দ্বারা বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স ও ‘স্তান’ভুক্ত দেশগুলোয় টেলিযোগাযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে। এরই মধ্যে ফিলিপিন্স ও নেপালে স্যাটেলাইট সেবা বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমানে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডসহ দেশের সকল টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও আফ্রিকায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট এবং রেডিও স্টেশনগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মিশন লাইফ ১৫ বছর এবং ডিজাইন লাইফ ১৮ বছর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি সামনে রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ২০২৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে এটির কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। দেশ প্রথম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্যাটেলাইটনির্ভর সম্প্রচার ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করে। অন্যান্য প্রকৃতি ও ধরনের স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল সংযুক্তির সক্ষমতা তৈরিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ জাতীয় জীবনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরও এক নতুন যুগে পদার্পণ করবে। এর ওপর ভর করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আরও বেগবান ও অর্থবহ হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর ওপর নির্ভর করে আমরা চর ও দ্বীপসহ দুর্গম অঞ্চলের ডিজিটাল কানেকটিভিটি তৈরি করছি। আমরা বেতার ও টিভি চ্যানেলসমূহের সম্প্রচার অব্যাহত রাখছি। দেশের দুর্গম এলাকায় টেলিমেডিসিন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনায় নিবিড় পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি একটি স্যাটেলাইট দিয়ে আমাদের ভবিষ্যত প্রয়োজন মেটানো যাবে না। স্যাটেলাইটে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার বাইরে উপগ্রহের মাধ্যমে আরও নতুন সেবা দিতে পারি। আমরা ইতোমধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের কার্যক্রম শুরু করেছি। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সেটিও আমাদের ওপর অর্পিত একটি বড় কাজ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্রযুক্তির লেটেস্ট ভার্সন ফাইভ-জি ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে এবং ফাইভ-জি পলিসি চূড়ান্ত ও ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ হচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ-জি সেবা চালুর কার্যক্রম চলছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ হতে যাচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট। ইংরেজীতে এই স্যাটেলাইটের নাম দেয়া হয়েছে আর্থ-অবজারভেশন (ঊঙ)। কারিগরি সহায়তার কারণে এবারের স্যাটেলাইটটি হতে যাচ্ছে জি টু জি পদ্ধতিতে। অর্থাৎ আরেকটি দেশের সহায়তা নিয়ে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবে বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকবে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের হাতে।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮-এ বর্ণিত দেশের পরবর্তী স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিগত ২২ অক্টোবর ২০১৯ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কার্যক্রম শুরু করে। এই লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণীর ক্রমিক ৬.৬-এর প্রেক্ষিতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণ বিষয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) কার্যক্রম গ্রহণ করে। নির্দেশনা মোতাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২-এর ধরন ও প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চৎরপবধিঃবৎযড়ঁংব ঈড়ড়ঢ়বৎং অফারংড়ৎু খখঈ (চডঈ)-কে নিয়োগ করে সম্ভাব্যতা যাচাই (ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু) সম্পন্ন করেছে। চডঈ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা জরিপ এবং বৈদেশিক চাহিদা সংগ্রহ করে উক্ত সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইটের ব্যবহারের চাহিদা সম্বন্ধে ধারণা নেয় এবং এর সঙ্গে আয়-ব্যয় ও অন্য বিষয়াদির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অপশন তৈরি করে। এ প্রেক্ষিতে বিগত ৮ জুন ২০২১ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে আমার সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় চডঈ-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের চাহিদা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ‘অপশন ৫: উবাবষড়ঢ় ধ পড়হংঃবষষধঃরড়হ ড়ভ ঝধঃবষষরঃব রিঃয নড়ঃয ঙঢ়ঃরপধষ ধহফ ঝঅজ ঈধঢ়ধনরষরঃরবং’-কে চূড়ান্ত করা হয়, যা Earth Observatory (EO) ঝধঃবষষরঃব। আমি আগেই উল্লেখ করেছি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ একটি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট, যার মাধ্যমে দেশের সকল অনুমোদিত টিভি চ্যানেল, ডিটিএইচ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ বেতারের রিলে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ঊঙ ঝধঃবষষরঃব-এর মাধ্যমে পৃথিবীর কোন নির্দিষ্ট স্থানের চিত্রগ্রহণ করা হয় এবং উক্ত চিত্র পর্যালোচনা করে নি¤েœাক্ত কার্যক্রমসমূহে ব্যবহার করা যায়-

ক) অভ্যন্তরীণ এবং উপকূলীয় জল এবং পরিবেশ (সমুদ্র ও নদীর স্তর, তরঙ্গ গতি বিশ্লেষণ, তেল ছড়ানো শনাক্তকরণ, জাহাজ শনাক্তকরণ, পানির গুণমান) সহ জলীয় সম্পদের পর্যবেক্ষণের বুদ্ধিমত্তা এবং নজরদারি। খ) অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ, নির্মাণ প্রকল্প, শহুরে পরিবেশ, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের জন্য বাণিজ্যিক ইমেজিং পরিষেবার বিধানসহ পরিবর্তন শনাক্তকরণ। গ) পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এ্যাপ্লিকেশন, যেমন- মহাসাগরবিদ্যা, বন্যা এবং খরা পর্যবেক্ষণ। ঘ) পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, উচ্চ রেজ্যুলেশনের ভূমি ব্যবহার এবং কৃষির ল্যান্ডকভার ম্যাপিং, কার্টোগ্রাফি এবং ভূতত্ত্ব। ঙ) দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনাএ চ) প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এ্যাপ্লিকেশন, যেমন- পুনর্নবীকরণ, সীমান্ত সুরক্ষা ইত্যাদি।

এছাড়াও পরোক্ষভাবে উক্ত চিত্র সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে অন্যান্য খাতে অবদান রাখতে পারবে। স্পারসো, বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ইনস্টিটিউট অয ওয়াটার মডেলিং, বন বিভাগ, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য সংগঠন এই স্যাটেলাইট দ্বারা উপকৃত হবে। এটি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করবে এবং দেশকে স্বনির্ভর করে তুলবে। এটি সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থার দ্বারা বিদেশী উপগ্রহ থেকে চিত্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য রেমিট্যান্সের প্রবাহ দূর করবে। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে চিত্রের ডেটা বিক্রি করে আন্তর্জাতিক আয়ের পথ তৈরি হবে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলার নিজস্ব অস্তিত্ব দেখে আমাদের গর্ব হয়। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা মহাকাশ বিজয়ী হতে পারতাম না। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের সক্ষমতাকে অনেক দূর বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ২০০১ থেকে ২০০৮ সালে সরকার সেই কর্মসূচীটির কবর রচনা করে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীসহ সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা মহাকাশ বিজ্ঞান, পরমাণু প্রযুক্তি, সমুদ্রবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্র, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র গাজীপুর এবং সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া থেকে আমাদের সন্তানরাই উদ্বোধনের দিন থেকে অদ্যাবধি দক্ষতার সঙ্গে স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করছে।

 

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক

mustafajabbar@gmail.com

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •