মান্দায় সেতুর কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি

প্রকাশিত:সোমবার, ২৬ এপ্রি ২০২১ ০৫:০৪

মান্দায় সেতুর কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাবে নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার খেয়াঘাটে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে কাজ শেষ করে সেতুটি পারাপারের জন্য কবে খুলে দেওয়া হবে তাও কেউ বলতে পারছেন না। এতে করে সহসাই ভোগান্তির হাত থেকে রেহায় পাচ্ছেন না দুইপারের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ। দ্রুত সেঁতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় জোতবাজার খেয়াঘাটে আত্রাই নদীর ওপর ২১৭ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের একটি সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহবান করে এলজিইডি। নির্মাণ ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৮১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান ‘মিলন এসিএল’ এবং এমএএইচসিএল (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সূত্রটি আরও জানায়, সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ১৪ এপ্রিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিনামা সম্পাদন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরপর ১৭ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তিনামায় ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ থাকলেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির গড়িমসির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় নদী কেন্দ্রীক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় জোতবাজার হাটটি। সেই সময় এখানে প্রচুর পরিমাণে পাট বেচাকেনা হত। মান্দা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে নৌকা ও গরুর গাড়িতে পাটের আমদানি হত এ বাজারে। সেই মজুদ পাট কিনতে দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে আসতেন ব্যবসায়িরা। পাটের বিখ্যাত মোকামের কারণে বাজারটির নামকরণ হয় ‘জুটবাজার’। কালের বিবর্তনে সেই নামের পরিবর্তন হয়ে ‘জোতবাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কমল কুমার, আব্দুল কাদের, মোজাফ্ফর হোসেনসহ অনেকে জানান, এ বাজারের ধান, পাট. সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। তখন ছিল আত্রাই নদীর ভরা যৌবন। বর্তমানে আত্রাই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় খরা মৌসুমে নদীতে আর নৌকা চলে না। এসময় পণ্য আমদানী-রফতানি জন্য তাদের ব্যবহার করতে হয় সড়ক পথ।
ব্যবসায়িরা আরও জানান, আত্রাই নদী উপজেলার পূর্বমান্দাকে দুইভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। নদীর দুইপারে যাতায়াতসহ পণ্য আনা-নেওয়া সহজ করতে জোতবাজার খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসির দীঘদিনের। সেতুটি নির্মাণ হলে এ জনপদের ব্যবসায়িসহ লোকজন সহজেই নওগাঁ সদরে যাতায়াত করতে পারবেন। পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমে যাবে অনেক। তাদের বহুল প্রত্যাশিত সেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে সঠিক নজরদারি না থাকায় তা চলছে ঢিমেতালে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধও ছিল। সেতুটি নির্মাণের পর কবে খুলে দেওয়া হবে এনিয়েও সংশয়ে রয়েছেন তারা।
ঠিকাদার দেওয়ার ছেকার আহমেদ শিষাণ বলেন, গড়িসমি নয় ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ডিজাইন পরিবর্তনের পর বর্তমানে পুরোদমে চলছে নির্মাণ কাজ। খুব তাড়াতাড়ি কাজটি সম্পাদন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সেতুটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, করোনাভাইরাস ও দুর্যোগের কারণে কাজে অনেকটা ধীরগতি ছিল। ডিজাইন পরিবর্তনও ছিল আরেকটি কারণ। সেই সব সমস্যা আর নেই। কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামি ২০২২ সালের জুনে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলেও জানান।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •