মিষ্টি জলে রোদ-বৃষ্টির খেলা

প্রকাশিত:বুধবার, ০৪ অক্টো ২০১৭ ০৩:১০

মিষ্টি জলে রোদ-বৃষ্টির খেলা

যতদূর চোখ যায়- শুধু পানি। চোখ জুড়িয়ে যাওয়া স্বচ্ছ পানি। হাতের আজলা ভরে মুখে নিয়ে চমকে উঠতে হবে! এত বড় জলরাশি অথচ পানি তো মিষ্টি! বলছিলাম দেশের সর্ববৃহৎ ও এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরের কথা।

 

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা ছেড়েছিলাম মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে। লক্ষ্য ছিল মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ভিজে নিজেকে তৃপ্ত করা। প্রথমেই বাঁধে বিপত্তি। শুক্রবার ও পূজার ছুটির কারণে সব বাস কাউন্টার ছিল টিকিটশূন্য। মহাখালী, কল্যাণপুর ঘুরে হাজির হলাম সায়দেবাদ বাসস্ট্যান্ডে। বহু কষ্টে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খুঁজে বের করলাম মৌলভীবাজার যাওয়ার একটি টিকিট। এত কষ্ট করার কারণ ছিল একটাই, ঘুরতে যেতেই হবে!

 

 

 

টিকিট পাওয়ার পর শুরু হলো অপেক্ষার পালা। বাস ছাড়বে সেই রাত সাড়ে ৯টায়। সাড়ে ৯টায় বাসে ওঠানো হলো সব যাত্রী। কিন্তু বাস ছাড়লো প্রায় পৌনে ১১টায়। এত কষ্টের পরও মনে কিছুটা আনন্দ, যাওয়া তো হচ্ছে মাধবকুণ্ড।

 

আরও পড়ুন- দেখে আসুন সমুদ্র দ্বীপ শিপচর

বাস মৌলভীবাজার পৌঁছল ভোররাতে। আগে থেকেই ঠিক করা জায়গায় বাকিটা রাত বিশ্রাম নিলাম। ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে গেল। উঠেই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বেরিয়ে পড়লাম। সিএনজি ঠিক করলাম মাধবকুণ্ডের উদ্দেশ্যে। কিন্তু খানিকটা দূর যাওয়ার পর জানা গেল, বন্যার জন্য রাস্তা খুবই খারাপ। যাওয়াটা ঠিক হবে না। নিরুপায় হয়ে মন কিছুটা খারাপ করেই সিএনজিওয়ালাকে বললাম, ‘তাহলে হাওরের দিকে চলেন।’ মনে হচ্ছিল- হাওরে গিয়ে খুব একটা ভালো লাগবে না। তাই পথটুকু ঝিমুতে ঝিমুতেই গেলাম। ট্যুরে আসার আনন্দটা ততক্ষণে উড়ে গেছে।

 

 

 

হাওরের যত কাছে যেতে থাকলাম, তত বিস্মিত হতে থাকলাম। এমন সৌন্দর্য না দেখেই কী করে আমি ফিরে যেতে চাইছিলাম। হাওরের পাড়ে যেতে যেতে দুপুর। তাই ট্রলারে ওঠার আগেই ‘পেটপূজাটা’ সেরে নিলাম। খেলাম বিশেষ ধরনের মাংস ছাড়া ‘বিরিয়ানি’। যা তৈরি হয় পোলাও চাল ও চটপটির ডাল দিয়ে। সাথে থাকে ছোলা ভূনা এবং পিঁয়াজু। খাওয়া-দাওয়া শেষ করেই রওনা দিলাম হাওরের মাঝে অবস্থিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের দিকে। সারিবদ্ধ ট্রলার। নির্ধারিত ভাড়ায় এক ঘণ্টার জন্য রিজার্ভ করলাম।

 

যখন ট্রলারে উঠলাম; তখন মাথার ওপরে প্রচণ্ড রোদ। দূরে ভারতের পাহাড়গুলো ঢেকে যাচ্ছিল কালো মেঘে। ট্রলার ঠিক যখন হাওরের মাঝে; তখনই পুরো আকাশ অন্ধকার করে শুরু হলো বৃষ্টি। সাথে প্রচণ্ড বাতাস। মনে হচ্ছিলো, ট্রলারটা এখনই উলটে যাবে। কিন্তু দৃশ্য বদলাতে সময় লাগলো না। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃতি শান্ত হয়ে ঝলমলে রোদ উঠলো স্বচ্ছ জলের বুকে। দূরের পাহাড় স্পষ্ট হয়ে উঠলো খোলাচোখে। তারচেয়েও স্পষ্ট হয়ে উঠলো ওয়াচ টাওয়ার।

 

 

 

আস্তে আস্তে ট্রলারটি থামলো ওয়াচ টাওয়ারের সিঁড়ির গোড়ায়। প্রচণ্ড ঢেউ এসে বার বার আছড়ে পড়ছিল সিঁড়ির ওপর। মনে হচ্ছিলো, কোন সমুদ্রের ঢেউ এসে ছিটকে পড়ছে। আস্তে আস্তে উঠে গেলাম উপরে। আর চোখ মেলে চারিদিকে তাকানোর পর মনে হলো, এ যেন প্রকৃতির এক ভয়ংকর সুন্দর রূপ। যা চোখে দেখতেও হয়তো ভাগ্য লাগে।

 

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •