মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসে ২০২০ ০৯:১২

মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

নিউজ ডেস্ক,নিউইয়র্ক: মিসওয়াক প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় একটি সুন্নত। অনেক ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এটি। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা, রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম। (ইবনে মাজাহ : ২৭৯)। মিসওয়াক ইসলামের উন্নত রুচি ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক। মুমিনের ভেতরটা যেমন স্বচ্ছ ও কলুষতামুক্ত থাকবে তেমনি তার বাহিরও হবে সুন্দর, পরিপাটি, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। পাক-পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মুমিনের স্বভাবজাত রুচি-বৈশিষ্ট্যের অপরিহার্য বিষয়। হাদিস শরিফে এসেছে : দশটি বিষয় স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। মোচ খাটো করা, দাড়ি লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা…। (মুসলিম : ২৬১)। হাদিসে মিসওয়াককে স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ও গুণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বভাবজাত বিষয় তো এমন, যা জীবনের সাথে মিশে থাকে। যা ছুটে যাওয়ার মতো নয়। সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মিসওয়াক একটি ছোট আমল। কিন্তু ফজিলত অনেক বেশি এবং প্রতিদান অনেক বড়” আল্লাহর সন্তুষ্টি। এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে মুমিনের জীবনে? আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টিই তো মুমিনের সবচেয়ে বড় চাওয়া ও পরম পাওয়া। আল্লাহতায়ালা বলেন, আর আল্লাহর সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড় বিষয়। (সুরা তাওবা : ৭২)।

মিসওয়াকের গুরুত্ব অনেক বেশি। একাধিক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করা গুরুত্বারোপ করেছেন। ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন : আমাকে মিসওয়াকের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমার আশঙ্কা হতে লাগল, না জানি তা আমার ওপর ফরজ করে দেওয়া হয়। (মুসনাদে আহমাদ : ১৬০০৭)। অন্যত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : আমাকে মিসওয়াকের আদেশ করা হয়েছে। আমার ধারণা হতে লাগল, এ সম্পর্কে আমার ওপর কোরআন নাজিল হবে বা (বলেছেন,) ওহি নাজিল হবে। (মুসনাদে আহমাদ : ৩১২২)। আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন : দিনে বা রাতে যখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম হতে জাগ্রত হতেন ওজুর পূর্বে মিসওয়াক করে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ : ২৪৯০০)। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর সময় মিসওয়াক পাশে রাখতেন। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে প্রথমেই তিনি মিসওয়াক করতেন। (মুসনাদে আহমাদ : ৫৯৬৯)।

মৃত্যুর আগমুহূর্তেও মিসওয়াক কর : আম্মাজান আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে আমার ‘পালা’র দিনে এবং আমার বুকে মাথা রাখা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। তিনি অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দোয়া পড়ে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করতেন। (ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্তে) আমি তাঁকে ঝাড়ফুঁক করছিলাম। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আগমন করল। তার হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সেদিকে তাকালেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি মিসওয়াকের প্রয়োজন বোধ করছেন। তখন আমি সেটি নিয়ে চিবিয়ে প্রস্তুত করে তাঁকে দিলাম। তিনি এর দ্বারা সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন, যেমনটি তিনি (সুস্থতার সময়) করে থাকেন। অতঃপর তিনি তা আমাকে দিলেন। পরক্ষণই তাঁর হাত ঢলে পড়ল। আল্লাহতায়ালা আমার থুথুকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন তাঁর এ দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে। (সহিহ বুখারি :  ৪৪৫১)। এ হাদিস থেকে বোঝা গেল প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মিসওয়াক কী পরিমাণ প্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও এ সুন্নাহর প্রতি কেমন আকর্ষণ ও ভালোবাসা ছিল। একজন নবী প্রেমিকের এ সুন্নাহর অনুসরণ এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়নের জন্য এর চেয়ে বড় শিক্ষা আর কী হতে পারে? আমরা তো মিসওয়াককে শুধু ওজু-নামাজের আমল মনে করে থাকি। এতেও কত উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। অথচ প্রিয় নবীর জীবন থেকে বোঝা যায় মিসওয়াকের আমল শুধু ওজু-নামাজের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের পূর্বে ওজুর শুরুতে মিসওয়াক করার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, বান্দা যখন নামাজে দাঁড়ায় সে তখন রবের সাথে কথোপকথন করে। ফেরিশতাগণ জামাতের নামাজে তার সাথে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়ায়। তার তেলাওয়াত খুব নিকট থেকে শোনে। এজন্য নামাজে দাঁড়ানোর পূর্বে বান্দার কর্তব্য হলো, পাকসাফ হয়ে সব ধরনের পবিত্রতা অর্জন করে নামাজে দাঁড়ানো। নোংরা ময়লা পোশাক নিয়ে দুর্গন্ধময় মুখ ও শরীর নিয়ে প্রভুর সম্মুখে দাঁড়ানো কিছুতেই কাম্য নয়।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •